ছোট ভাইসহ ৮ আসামি গ্রেফতার, উদ্ধার চাপাতি-ছুরি
মাদকের সংশ্লিষ্টতায় আপন ভাইয়ের হাতেই খুন হন রাজু!
- আপডেট সময় : ০৩:০১:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
- / 112
রাজু হত্যা মামলায় গ্রেফতার ইব্রাহিম শেখ (২৬), হৃদয় (২২) ও মারুফ (২৬)। ইনসেটে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ৪টি চাপাতি ও একটি স্টিলের ছোরা। ছবি- অগ্নিপ্রহর
শহরের কুঠিবাড়ি মহল্লার রেলস্টেশন বাজার কলোনীতে নিহত রাজু হত্যা মামলার তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় আপন ছোট ভাইকে কোপানোর পর সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই খুন হন রাজু। এ ঘটনায় পুলিশ নিহত রাজুর আপন ভাই ইব্রাহিম শেখ (২৬) সহ হৃদয় (২২) ও মারুফ (২৬) নামে আরো দুজনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের নিকট থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ৪টি চাপাতি ও একটি স্টিলের ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার সকাল ১১টার দিকে জেলা পুলিশ কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো: নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, এনিয়ে রাজু হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা হলেন, অমিত রায় (২২), নুর ইসলাম (৫৪), মেহেরুন নেছা (২৮), নিশান শেখ (২৩) ও শাহেদ আরমান (২৭)।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মো: নজরুল ইসলাম জানান, নিহত রাজু শেখ মূলত মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। রেলস্টেশন বাজার বস্তির শিল্পি, রীনা, শাহিদা ও মেহেরুনসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে মাদক কিনে সে বিক্রি করত। তার বিরুদ্ধে এ সংক্রান্ত একাধিক মামলাও রয়েছে। তিনি জানান, মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ার কারণে রাজু তার বাবা-মাকে মারধর করেছিল। একারণে ছোট ভাই ইব্রাহীম শেখ প্রায় ৮ মাস আগে রাজুকে কুপিয়েছিলো। এরপর থেকে রাজু ও ইব্রাহিমের মধ্যে শত্রুতা চলতে থাকে। ঘটনার তিনদিন আগে ছোট ভাই ইব্রাহিমকে কুপিয়ে আহত করার চেষ্টা চালায় রাজু।
পুলিশ সুপার জানান, মাদক বিক্রির টাকার লেনদেন নিয়ে হৃদয়, সাকি, রবিউল, মারুফ ও সম’র সাথে পূর্বে থেকে রাজুর শত্রুতা ছিলো। ক্ষুব্ধ ইব্রাহিম এরপরে সাকি ও হৃদয়ের সাথে মিলে রাজুকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে। সেই অনুযায়ীই রাজু হত্যাকান্ড।
যেভাবে হত্যা করা হলো রাজুকে:
প্রেস ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ঘটনার রাতে রাজুর অবস্থান নিশ্চিত হয়ে ইব্রাহিম, হৃদয়, সাকি, স্বপ্ন, রবিউল ও মারুফ ২ মার্চ রাত সোয়া ৯টার দিকে স্টেশনবাজারের মাছ বাজারের দিকে যায়। মুরাদের মাংসের দোকানের সামনে যেয়ে হৃদয় পাশেই বসে থাকা রাজুকে ডেকে আনে এবং রাজুর নিকট দুই পিচ ইয়াবা চায়। রাজু তখন নগদ টাকা দিলে বাসা থেকে এনে দিতে পারবে বলে জানায়। এই বলে রাজু তার বাড়ির দিকে রওনা হলে হৃদয় পিছন থেকে রাজুকে জাপটে ধরে। পাশে থেকে সাকি, রবিউল, মারুফ, সপ্ন ও ইব্রাহিম তাদের হাতে থাকা চাপাতি ও ছোরা দিয়ে রাজুকে এলোপাথারি পালিয়ে যায়।
এদিকে, কিলিং মিশন সম্পন্ন করে আরমান ও হানিফের সহায়তায় একটি মাইক্রোবাসে করে ওই রাতেই ঢাকায় পালিয়ে যায় এবং বিভিন্নস্থানে অবস্থান শেষে পাবনায় পৌছে গা ঢাকা দেয়। এ ঘটনায় নিহতের মা ছবি খাতুন ১০ জনকে আসামি করে কোতয়ালী থানায় পরেরদিন একটি হত্যা্ মামলা দায়ের করেন।
এ মামলার তদন্তকালে গোপন তথ্য ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ রাজু ও মারুফকে পাবনা জেলার সাথিয়া থানা থেকে এবং ইব্রাহিমকে স্টেশন বস্তি থেকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের উপস্থিতিতে শহরের ১নং হাবেলী গোপালপুর মহল্লার বায়তুল মামুর জামে মসজিদের সামনে রেল লাইনের পাশে গাছের পাতার নিচে লুকানো অবস্থায় হত্যার কাজে ব্যবহৃত পাঁচটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংকালে অন্যান্যের মধ্যে এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম , অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শামসুল আজম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আজমির হোসেন , কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম টিআই খুরশিদ প্রামাণিক প্রমুখ।












