মাফিয়া সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সাধারণ মানুষের নাগালে দ্রব্যমূল্য রাখাই হবে বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য
জনকল্যাণ ও ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশের অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ১০:৫৯:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 48
এক নতুন ভোরের প্রত্যাশায় জনরায় নিয়ে গঠিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতির উদ্দেশ্যে তাঁর প্রথম নীতি-নির্ধারণী ভাষণ প্রদান করেছেন। ভাষণে তিনি একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। দুর্নীতি দমন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করার অঙ্গীকার করে বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ‘ন্যায়পরায়ণতার’ আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠনের অঙ্গীকার করেন তিনি।
বুধবার রাত পৌনে ১০টায় ভাষণ শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণের শুরুতেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ধর্ম-বর্ণ-দল-মত নির্বিশেষে এই দেশ প্রতিটি নাগরিকের। তিনি বলেন, “পাহাড় কিংবা সমতলে বসবাসকারী, এই দেশ আমাদের সবার।” ফ্যাসিবাদী শাসনমুক্ত বাংলাদেশে মাফিয়া সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাকেই তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
পবিত্র মাহে রমজানের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন। মুনাফা লাভের উর্ধ্বে উঠে আত্মশুদ্ধির মাসে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালে রাখতে তিনি ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বরদাশত করা হবে না এবং ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থ রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর।
দুর্নীতি ও অপচয় রোধে প্রধানমন্ত্রী নিজের দল ও সংসদ সদস্যদের দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপনের ঘোষণা দিয়ে জানান, বিএনপির কোনো সংসদ সদস্য সরকারি সুবিধা নিয়ে ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি আমদানি করবেন না। কোনো সংসদ সদস্য সরকারি প্লট সুবিধা গ্রহণ করবেন না।
রাজধানী ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ কমাতে এবং যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী এক যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, মানুষকে নিজ জেলায় থেকে অফিস করার সুবিধা দিতে সারাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। রেল, নৌ ও সড়কপথের সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে শহরকেন্দ্রিক নির্ভরতা কমানোই এই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর আলোচিত ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বা কর্মপরিকল্পনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর করা হবে। তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) এই যুগে তরুণদের বিশ্বমানের যোগ্য করে গড়ে তুলতে সব ধরনের সরকারি সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ভাষণের শেষে প্রধানমন্ত্রী এক অনন্য উদারতার পরিচয় দিয়ে বলেন, “যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন কিংবা দেননি… এই সরকারের প্রতি আপনাদের সবার অধিকার সমান।” দল-মত নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা রক্ষা করাকে তিনি পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে ঘোষণা করেন।










