০৪:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
শ্রেষ্ঠ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হলেন ডা. নাদিম ছিলেন না নায়াব ইউসুফ, মিটিং কাভার করতে পারলেন না সাংবাদিকেরা “হাজী শরিয়তুল্লাহদের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৪৭ পাওয়ার কারণেই আমরা ৭১ পেয়েছি” একসাথে ৩ মেলার সমালোচনা : জবাবে যা বললেন নারী উদ্যোক্তা লুবাবা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সেই নেতারা এখন কে কোথায় নদীর নাম মালঞ্চ পেয়েছে সরকারি স্বীকৃতি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ‘ডিজিটাল ইভটিজিং’ ইস্যুতে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে তোলপাড় আমার মুর্শিদ হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ভাঙ্গায় পিকআপ-পরিবহন মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩০ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছে তেলবাহী তিনটি সুপার ট্যাংকার
বিভাগ ঘোষণা থেকে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ—ফরিদপুরবাসীর নতুন স্বপ্নের বীজ বুনন।

“লীডার! লীডার!” ফরিদপুরে তারেক রহমানকে পেয়ে আপ্লূত কর্মী

আবরাব নাদিম ইতু
  • আপডেট সময় : ০৭:৪২:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 121

মঞ্চে যখন তারেক রহমান মাইক হাতে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে, সামনের জনসমুদ্রের ভিড় থেকে একটি কন্ঠ থেমে থেমে ধ্বনি তুলছিলো বারবার- “লীডার! লীডার!”

একেবারেই মঞ্চের নিরাপত্তাবেষ্টনির সামনে যেখানে প্রথম যেই কর্মী দলটি এসে অবস্থান নিয়েছিলো! দুপুরের বেলা গড়িয়ে যাচ্ছে, তবে মাঘের শেষে সূর্যের সেই তেজ যদিও নেই, কিন্তু সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দীর্ঘক্ষণ সেই মাঠে অবস্থানের কারণে বেশ ক্ষুধার্ত তারা। আবেগ আর সম্মান জড়িত সেই সম্ভাষণে তাই ক্লান্তির সাথে রয়েছে তৃষ্ণাও। অজস্র মানুষের গগন বিদারী স্লোগানের শব্দে সেই ক্ষীণ আওয়াজ জোরালো হয় তারেক রহমান যখন সকলকে নিশ্চুপ হতে বলেন।

যদিও তাঁর সেই হৃদয় স্পন্দনের ধ্বনি সভামঞ্চে লিডারের কান পর্যন্ত পৌঁছায়নি; তাতে কোনকিছু যায় আসেনা এই কর্মীদের! দীর্ঘবছর পর নেতাকে সচক্ষে এক নজর দেখা আর তাঁকে সামনাসামনি “লীডার!” বলে ডাকতে পারার মাঝেই তাদের অপার প্রাপ্তি।

বাংলাদেশে দীর্ঘ ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের শুরুতেই যে পরিবারটি ছিল মামলা-নির্যাতনের প্রধান লক্ষ্য; সেই উত্তরাধিকার হিসেবে বাংলাদেশে এখন বিকল্পহীন নেতা হিসেবে সমাদৃত তারেক রহমান। তাঁর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং তাঁর মমতাময়ী মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য রাজপথে নেমে আন্দোলন-সংগ্রাম করা দলীয় নেতাকর্মীদের যে আবেগ, তা যেমন বর্ণনা করা যায় না, তেমনি অনুধাবন করাটাও সহজ নয়।

​তবে প্রতিপক্ষের ভয়ংকর অত্যাচার-নির্যাতনে মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফেরা তারেক রহমানের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কিংবা মাতা বেগম খালেদা জিয়ার মতো তারেক রহমান নিজেও এই দেশ ও জনগণের ভালোবাসার পাশাপাশি তাদের আবেগটুকুও ঠিকই ধরতে পারেন বলে নেতাকর্মী-সমর্থকদের দৃঢ় বিশ্বাস। এই ভরসাই তাদেরকে ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজপথে নেমে সহযোদ্ধা হয়ে উঠতে সাহস জুগিয়েছে।

​জাতীয় নির্বাচনের ঠিক সাত দিন আগে ফরিদপুরে আসেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে পবিত্র শবে বরাতের দিনের দুপুরে ধার্য ছিল তাঁর জনসভার ক্ষণ। কিন্তু তাঁকে দেখতে সকাল থেকেই মানুষ জনসভামুখী ছিল। দুপুরের আগেই লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে মাঠ। দীর্ঘক্ষণ প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে অবস্থান করা লোকগুলো তাঁদের ক্লান্তি দূর করতে পেরেছিলেন লিডারের প্রতি আনুগত্য আর ভালোবাসা থেকে।

​কিন্তু এই বিনিময় অযোগ্য ভালোবাসার কী জবাব দিয়ে গেলেন তারেক রহমান? রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে এসে পৌঁছান তিনি। ৩টা ২১ মিনিটে বক্তব্য শুরু করে দীর্ঘ সময় ‘২৪ মিনিট’ বক্তৃতা দেন।

​তাঁর বক্তৃতার ধরন কোনো পোশাকী আনুষ্ঠানিকতার মতো ছিল না। মঞ্চে ডায়াস তৈরি থাকলেও তিনি সেখানে দাঁড়াননি। বক্তৃতার আগে চিরাচরিত নিয়মে একগাদা বিশেষণ সম্বলিত নাম ঘোষণার সুযোগও তিনি দেননি। জনসভার সভাপতির বক্তৃতা শেষে তিনি খুবই স্বাভাবিক ও সাবলীলভাবে মাইক হাতে নিয়ে কথা শুরু করেন। যেন লাখো মানুষের জিজ্ঞাসার জবাব দিতে প্রস্তুত হওয়া কোনো আকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিত্ব! সবাই জানে, তাঁর এই সাদামাটা আচরণ পৈতৃক সূত্রে পাওয়া এক অমূল্য সম্পদ। রাষ্ট্রপতির সন্তান হওয়া সত্ত্বেও শৈশবে বাবার পুরনো পোশাক দর্জি দিয়ে কাটিয়ে পরার অভিজ্ঞতা তিনি ধারণ করেন।

​তারেক রহমান তাঁর বক্তৃতায় নির্বাচনী প্রচারণার কৌশল হিসেবে প্রতিপক্ষকে যেমন কড়া সমালোচনায় বিদ্ধ করেছেন, তেমনি ফরিদপুর অঞ্চলের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা নিরসনের পরিকল্পনাও জানিয়ে গেছেন। জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য যে জনগণেরই অংশগ্রহণ সবচেয়ে জরুরি, এই উপলব্ধির কথা জানাতেও তিনি ভুলেননি।

​ফরিদপুরে এটিই ছিল দলীয় প্রধান হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম আগমন। সংগত কারণেই সাধারণ মানুষের মাঝেও ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়। যদিও আঁটসাঁট সময়সূচির কারণে সাধারণ মানুষের সরাসরি কথা বলার সুযোগ হয়নি, যা নিয়ে কিছুটা আক্ষেপ থাকা স্বাভাবিক। তবে মাঠপর্যায়ের নির্যাতিত কর্মী, যারা শহীদ জিয়া বা খালেদা জিয়ার মতো তারেক রহমানের জন্যও জীবন দিতে প্রস্তুত, তাদের আবেগের মূল্যায়ন কীভাবে করতে হয় তা তাঁর ভালোভাবেই জানা।

​ফরিদপুরের জনসভায় তিনি একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যার মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য ‘পদ্মা ব্যারেজ’। নদীভাঙন এই অঞ্চলের প্রধান সমস্যা। ফি বছর অসংখ্য পরিবার ভিটেমাটি হারায়। তাদের মর্মবেদনা লাঘবে পদ্মা ব্যারেজ ও পানির সঠিক ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা অত্যন্ত সময়োপযোগী। এছাড়া কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের কৃষকদের হাতে সঠিক সময়ে সার, বীজ ও কীটনাশক পৌঁছে দেওয়া এবং পাট রপ্তানি বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।

​বক্তৃতায় ফরিদপুরের কৃষিজ ফসল হিসেবে ‘সয়াবিন’ উল্লেখ করায় সমালোচকেরা কিছুটা রসদ পেলেও কৃষকদের নিয়ে তাঁর ভাবনার গভীরতা প্রশ্নাতীত। এছাড়া ফরিদপুরকে বিভাগ করার দাবির প্রেক্ষিতে তিনি যুক্তিপূর্ণ ও কৌশলগত অবস্থান নিয়েছেন—জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন হলে অবশ্যই তা বাস্তবায়ন করা হবে। একইসাথে ফরিদপুরে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবিটি জোরালোভাবেই তুলে ধরা হয়েছে এই সমাবেশে।

​তাঁর বক্তৃতায় যুবকদের কর্মসংস্থান, সরাসরি পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ এবং শ্রমজীবী নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে আমূল পরিবর্তন এনে নারীদের জন্য বিশেষ হেলথ কেয়ার ব্যবস্থার কথা বলেছেন তিনি।

​বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও ভোটাধিকার নিয়ে তাঁর বিশ্লেষণ মেধার পরিচায়ক। তিনি বলেন, “একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতা এনেছেন, আর চব্বিশের ছাত্র-জনতা জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন।” এই স্পষ্ট উচ্চারণ অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। এখন যে কর্মীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ক্ষুধার্ত থেকে ‘লীডার’ ‘লীডার’ ধ্বনি তুলে তৃষ্ণা মেটায়, তাদের দেশ গড়ার কাজে কতটা সম্পৃক্ত করা যাবে—তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।

 

শেয়ার করুন

বিভাগ ঘোষণা থেকে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ—ফরিদপুরবাসীর নতুন স্বপ্নের বীজ বুনন।

“লীডার! লীডার!” ফরিদপুরে তারেক রহমানকে পেয়ে আপ্লূত কর্মী

আপডেট সময় : ০৭:৪২:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মঞ্চে যখন তারেক রহমান মাইক হাতে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে, সামনের জনসমুদ্রের ভিড় থেকে একটি কন্ঠ থেমে থেমে ধ্বনি তুলছিলো বারবার- “লীডার! লীডার!”

একেবারেই মঞ্চের নিরাপত্তাবেষ্টনির সামনে যেখানে প্রথম যেই কর্মী দলটি এসে অবস্থান নিয়েছিলো! দুপুরের বেলা গড়িয়ে যাচ্ছে, তবে মাঘের শেষে সূর্যের সেই তেজ যদিও নেই, কিন্তু সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দীর্ঘক্ষণ সেই মাঠে অবস্থানের কারণে বেশ ক্ষুধার্ত তারা। আবেগ আর সম্মান জড়িত সেই সম্ভাষণে তাই ক্লান্তির সাথে রয়েছে তৃষ্ণাও। অজস্র মানুষের গগন বিদারী স্লোগানের শব্দে সেই ক্ষীণ আওয়াজ জোরালো হয় তারেক রহমান যখন সকলকে নিশ্চুপ হতে বলেন।

যদিও তাঁর সেই হৃদয় স্পন্দনের ধ্বনি সভামঞ্চে লিডারের কান পর্যন্ত পৌঁছায়নি; তাতে কোনকিছু যায় আসেনা এই কর্মীদের! দীর্ঘবছর পর নেতাকে সচক্ষে এক নজর দেখা আর তাঁকে সামনাসামনি “লীডার!” বলে ডাকতে পারার মাঝেই তাদের অপার প্রাপ্তি।

বাংলাদেশে দীর্ঘ ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের শুরুতেই যে পরিবারটি ছিল মামলা-নির্যাতনের প্রধান লক্ষ্য; সেই উত্তরাধিকার হিসেবে বাংলাদেশে এখন বিকল্পহীন নেতা হিসেবে সমাদৃত তারেক রহমান। তাঁর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং তাঁর মমতাময়ী মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য রাজপথে নেমে আন্দোলন-সংগ্রাম করা দলীয় নেতাকর্মীদের যে আবেগ, তা যেমন বর্ণনা করা যায় না, তেমনি অনুধাবন করাটাও সহজ নয়।

​তবে প্রতিপক্ষের ভয়ংকর অত্যাচার-নির্যাতনে মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফেরা তারেক রহমানের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কিংবা মাতা বেগম খালেদা জিয়ার মতো তারেক রহমান নিজেও এই দেশ ও জনগণের ভালোবাসার পাশাপাশি তাদের আবেগটুকুও ঠিকই ধরতে পারেন বলে নেতাকর্মী-সমর্থকদের দৃঢ় বিশ্বাস। এই ভরসাই তাদেরকে ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজপথে নেমে সহযোদ্ধা হয়ে উঠতে সাহস জুগিয়েছে।

​জাতীয় নির্বাচনের ঠিক সাত দিন আগে ফরিদপুরে আসেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে পবিত্র শবে বরাতের দিনের দুপুরে ধার্য ছিল তাঁর জনসভার ক্ষণ। কিন্তু তাঁকে দেখতে সকাল থেকেই মানুষ জনসভামুখী ছিল। দুপুরের আগেই লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে মাঠ। দীর্ঘক্ষণ প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে অবস্থান করা লোকগুলো তাঁদের ক্লান্তি দূর করতে পেরেছিলেন লিডারের প্রতি আনুগত্য আর ভালোবাসা থেকে।

​কিন্তু এই বিনিময় অযোগ্য ভালোবাসার কী জবাব দিয়ে গেলেন তারেক রহমান? রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে এসে পৌঁছান তিনি। ৩টা ২১ মিনিটে বক্তব্য শুরু করে দীর্ঘ সময় ‘২৪ মিনিট’ বক্তৃতা দেন।

​তাঁর বক্তৃতার ধরন কোনো পোশাকী আনুষ্ঠানিকতার মতো ছিল না। মঞ্চে ডায়াস তৈরি থাকলেও তিনি সেখানে দাঁড়াননি। বক্তৃতার আগে চিরাচরিত নিয়মে একগাদা বিশেষণ সম্বলিত নাম ঘোষণার সুযোগও তিনি দেননি। জনসভার সভাপতির বক্তৃতা শেষে তিনি খুবই স্বাভাবিক ও সাবলীলভাবে মাইক হাতে নিয়ে কথা শুরু করেন। যেন লাখো মানুষের জিজ্ঞাসার জবাব দিতে প্রস্তুত হওয়া কোনো আকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিত্ব! সবাই জানে, তাঁর এই সাদামাটা আচরণ পৈতৃক সূত্রে পাওয়া এক অমূল্য সম্পদ। রাষ্ট্রপতির সন্তান হওয়া সত্ত্বেও শৈশবে বাবার পুরনো পোশাক দর্জি দিয়ে কাটিয়ে পরার অভিজ্ঞতা তিনি ধারণ করেন।

​তারেক রহমান তাঁর বক্তৃতায় নির্বাচনী প্রচারণার কৌশল হিসেবে প্রতিপক্ষকে যেমন কড়া সমালোচনায় বিদ্ধ করেছেন, তেমনি ফরিদপুর অঞ্চলের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা নিরসনের পরিকল্পনাও জানিয়ে গেছেন। জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য যে জনগণেরই অংশগ্রহণ সবচেয়ে জরুরি, এই উপলব্ধির কথা জানাতেও তিনি ভুলেননি।

​ফরিদপুরে এটিই ছিল দলীয় প্রধান হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম আগমন। সংগত কারণেই সাধারণ মানুষের মাঝেও ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়। যদিও আঁটসাঁট সময়সূচির কারণে সাধারণ মানুষের সরাসরি কথা বলার সুযোগ হয়নি, যা নিয়ে কিছুটা আক্ষেপ থাকা স্বাভাবিক। তবে মাঠপর্যায়ের নির্যাতিত কর্মী, যারা শহীদ জিয়া বা খালেদা জিয়ার মতো তারেক রহমানের জন্যও জীবন দিতে প্রস্তুত, তাদের আবেগের মূল্যায়ন কীভাবে করতে হয় তা তাঁর ভালোভাবেই জানা।

​ফরিদপুরের জনসভায় তিনি একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যার মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য ‘পদ্মা ব্যারেজ’। নদীভাঙন এই অঞ্চলের প্রধান সমস্যা। ফি বছর অসংখ্য পরিবার ভিটেমাটি হারায়। তাদের মর্মবেদনা লাঘবে পদ্মা ব্যারেজ ও পানির সঠিক ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা অত্যন্ত সময়োপযোগী। এছাড়া কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের কৃষকদের হাতে সঠিক সময়ে সার, বীজ ও কীটনাশক পৌঁছে দেওয়া এবং পাট রপ্তানি বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।

​বক্তৃতায় ফরিদপুরের কৃষিজ ফসল হিসেবে ‘সয়াবিন’ উল্লেখ করায় সমালোচকেরা কিছুটা রসদ পেলেও কৃষকদের নিয়ে তাঁর ভাবনার গভীরতা প্রশ্নাতীত। এছাড়া ফরিদপুরকে বিভাগ করার দাবির প্রেক্ষিতে তিনি যুক্তিপূর্ণ ও কৌশলগত অবস্থান নিয়েছেন—জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন হলে অবশ্যই তা বাস্তবায়ন করা হবে। একইসাথে ফরিদপুরে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবিটি জোরালোভাবেই তুলে ধরা হয়েছে এই সমাবেশে।

​তাঁর বক্তৃতায় যুবকদের কর্মসংস্থান, সরাসরি পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ এবং শ্রমজীবী নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে আমূল পরিবর্তন এনে নারীদের জন্য বিশেষ হেলথ কেয়ার ব্যবস্থার কথা বলেছেন তিনি।

​বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও ভোটাধিকার নিয়ে তাঁর বিশ্লেষণ মেধার পরিচায়ক। তিনি বলেন, “একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতা এনেছেন, আর চব্বিশের ছাত্র-জনতা জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন।” এই স্পষ্ট উচ্চারণ অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। এখন যে কর্মীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ক্ষুধার্ত থেকে ‘লীডার’ ‘লীডার’ ধ্বনি তুলে তৃষ্ণা মেটায়, তাদের দেশ গড়ার কাজে কতটা সম্পৃক্ত করা যাবে—তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।