Bangladesh ০৯:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন সচিবালয়ের নতুন আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্বোধন আমাদের পথিকৃৎ সাংবাদিক লিয়াকত হোসেন চীনা বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সুযোগ বাড়াতে ইউনান প্রদেশের সঙ্গে বিশেষ সমঝোতা অসহায় পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়ির চাবি হস্তান্তর “মায়ের সম্মান রক্ষা করতে গিয়ে মৃত্যু হলে, সে মৃত্যুই পরম শ্রেয়” বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে ঐতিহাসিক ৪টি সিদ্ধান্ত এলো খাজা বড় চাচাজানের দিশারী বক্তব্য ফেসবুকে এআই দিয়ে তৈরি ছবি ছড়িয়ে মানহানী : থানায় জিডি কনসার্টের উচ্চ শব্দে শিশুদের কষ্টের কথা জেনে ক্ষমা চাইলেন বিএনপি নেতা স্বপন সাংবাদিক আমির খসরু আর নেই শহর ফরিদপুর ও গণিকালয়ের ডেরা: কার কান্না কত ভারী?

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে দ্বন্দ্ব: অভিভাবককে হুমকি ও চরম নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ

অগ্নিপ্রহর নিউজ
  • আপডেট সময় : ১০:২৪:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 48

ফরিদপুরের সদরপুরে একটি স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে অভিভাবকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় প্রায় ৩০ জন অভিভাবক তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এসময় তারা ছয়টি দাবির কথাও জানান। গত সোমবার (০৫ অক্টোবর) সদরপুর ইউনিয়নের চাঁদপুর বাজার ঘরে মঙ্গলবার বিকেলে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুন্নাফ শেখ। এসময় অন্যান্য অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সদরপুর উপজেলার চর চাঁদপুর কোলচুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ মাস্টারের সঙ্গে অভিভাবক প্রতিনিধি মুন্নাফ শেখ ও অন্যান্য অভিভাবকদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। চলতি বছর স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদের জন্য সামাদ মাস্টার নিজে চেষ্টা চালালেও প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকায় তিনি ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে তিনি নিজ কন্যাকে সভাপতি পদে বসানোর উদ্যোগ নেন। তবে সাইমার সন্তানরা ফরিদপুর শহরের স্কুলে পড়াশোনা করায় তার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অভিভাবকরা। এতে সাধারণ অভিভাবকদের সমর্থনে তার সভাপতি হওয়ার প্রচেষ্টা ভেস্তে যায়।

অভিভাবকদের দাবি, নিজের পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় সামাদ মাস্টার, তার দুই ছেলে পারভেজ শেখ ও সাদি শেখ এবং বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে তারা অভিভাবক মুন্নাফ শেখসহ অন্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন ও ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিদ্যালয়টির বর্তমান প্রধান শিক্ষক নিজের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিবাহ রেজিস্ট্রেশন, গবাদিপশুর চিকিৎসা এবং গ্রাম্য সালিশ-বিচারে ব্যস্ত থাকেন। শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের অবহেলার কারণে প্রতিষ্ঠানটিতে পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সন্তানদের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সদরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সম্মতিক্রমে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিকটবর্তী চর চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে বাধ্য হচ্ছেন।

এছাড়া সাবেক প্রধান শিক্ষকের ছেলেদের বিরুদ্ধে স্কুলের পাশেই একটি আড্ডাখানা তৈরি করে স্থানীয় যুবকদের নেশায় উদ্বুদ্ধ করার অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের এই কর্মকাণ্ডের কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা।

এব্যাপারে সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ মাস্টারের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আইনগত ব্যবস্থা ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে অভিভাবকদের দাবিসমূহ:

১. শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যাতে চর চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো প্রকার ভয়ভীতি ছাড়া নিরাপদে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনকে আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

২. অভিভাবকদের সুরক্ষাপ্রদান: সামাদ মাস্টার ও তার সহযোগীদের সম্ভাব্য ক্ষতি, হুমকি বা অসদাচরণ থেকে স্থানীয় অভিভাবক ও সাধারণ নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে।

৩. মাদক আড্ডা উচ্ছেদ ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিতকরণ: বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় সামাদ মাস্টারের ছেলেদের গড়ে তোলা কথিত মাদকের আড্ডাখানা অবিলম্বে উচ্ছেদ করে সাধারণ মানুষের ভয়হীন ও স্বাভাবিক চলাচলের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।

৪. প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত: দাপ্তরিক দায়িত্ব অবহেলা করে বহুমাত্রিক ব্যক্তিগত পেশায় জড়িত থাকার অভিযোগে বর্তমান প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক উপযুক্ত বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

৫. ভুয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে উপবৃত্তি আত্মসাতের বিচার: বিদ্যালয়ে প্রকৃত শিক্ষার্থী ৫০-৫৫ জন হওয়া সত্ত্বেও সংখ্যা বাড়িয়ে ১০৭ জন দেখিয়ে সরকারি অর্থ ও উপবৃত্তি আত্মসাতের যে অভিযোগ উঠেছে, তা দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৬. আইনগত পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি: সামাদ মাস্টার ও তার চক্র যদি পুনরায় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবনে ব্যাঘাত ঘটায় বা অভিভাবকদের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে ভুক্তভোগী অভিভাবক ও এলাকাবাসী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য হবেন।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে দ্বন্দ্ব: অভিভাবককে হুমকি ও চরম নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ

আপডেট সময় : ১০:২৪:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

ফরিদপুরের সদরপুরে একটি স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে অভিভাবকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় প্রায় ৩০ জন অভিভাবক তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এসময় তারা ছয়টি দাবির কথাও জানান। গত সোমবার (০৫ অক্টোবর) সদরপুর ইউনিয়নের চাঁদপুর বাজার ঘরে মঙ্গলবার বিকেলে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুন্নাফ শেখ। এসময় অন্যান্য অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সদরপুর উপজেলার চর চাঁদপুর কোলচুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ মাস্টারের সঙ্গে অভিভাবক প্রতিনিধি মুন্নাফ শেখ ও অন্যান্য অভিভাবকদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। চলতি বছর স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদের জন্য সামাদ মাস্টার নিজে চেষ্টা চালালেও প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকায় তিনি ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে তিনি নিজ কন্যাকে সভাপতি পদে বসানোর উদ্যোগ নেন। তবে সাইমার সন্তানরা ফরিদপুর শহরের স্কুলে পড়াশোনা করায় তার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অভিভাবকরা। এতে সাধারণ অভিভাবকদের সমর্থনে তার সভাপতি হওয়ার প্রচেষ্টা ভেস্তে যায়।

অভিভাবকদের দাবি, নিজের পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় সামাদ মাস্টার, তার দুই ছেলে পারভেজ শেখ ও সাদি শেখ এবং বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে তারা অভিভাবক মুন্নাফ শেখসহ অন্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন ও ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিদ্যালয়টির বর্তমান প্রধান শিক্ষক নিজের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিবাহ রেজিস্ট্রেশন, গবাদিপশুর চিকিৎসা এবং গ্রাম্য সালিশ-বিচারে ব্যস্ত থাকেন। শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের অবহেলার কারণে প্রতিষ্ঠানটিতে পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সন্তানদের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সদরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সম্মতিক্রমে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিকটবর্তী চর চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে বাধ্য হচ্ছেন।

এছাড়া সাবেক প্রধান শিক্ষকের ছেলেদের বিরুদ্ধে স্কুলের পাশেই একটি আড্ডাখানা তৈরি করে স্থানীয় যুবকদের নেশায় উদ্বুদ্ধ করার অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের এই কর্মকাণ্ডের কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা।

এব্যাপারে সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ মাস্টারের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আইনগত ব্যবস্থা ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে অভিভাবকদের দাবিসমূহ:

১. শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যাতে চর চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো প্রকার ভয়ভীতি ছাড়া নিরাপদে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনকে আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

২. অভিভাবকদের সুরক্ষাপ্রদান: সামাদ মাস্টার ও তার সহযোগীদের সম্ভাব্য ক্ষতি, হুমকি বা অসদাচরণ থেকে স্থানীয় অভিভাবক ও সাধারণ নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে।

৩. মাদক আড্ডা উচ্ছেদ ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিতকরণ: বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় সামাদ মাস্টারের ছেলেদের গড়ে তোলা কথিত মাদকের আড্ডাখানা অবিলম্বে উচ্ছেদ করে সাধারণ মানুষের ভয়হীন ও স্বাভাবিক চলাচলের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।

৪. প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত: দাপ্তরিক দায়িত্ব অবহেলা করে বহুমাত্রিক ব্যক্তিগত পেশায় জড়িত থাকার অভিযোগে বর্তমান প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক উপযুক্ত বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

৫. ভুয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে উপবৃত্তি আত্মসাতের বিচার: বিদ্যালয়ে প্রকৃত শিক্ষার্থী ৫০-৫৫ জন হওয়া সত্ত্বেও সংখ্যা বাড়িয়ে ১০৭ জন দেখিয়ে সরকারি অর্থ ও উপবৃত্তি আত্মসাতের যে অভিযোগ উঠেছে, তা দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৬. আইনগত পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি: সামাদ মাস্টার ও তার চক্র যদি পুনরায় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবনে ব্যাঘাত ঘটায় বা অভিভাবকদের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে ভুক্তভোগী অভিভাবক ও এলাকাবাসী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য হবেন।