রসমালাইয়ে চেতনানাশক খাইয়ে জুয়েলারিতে চুরি
৪২ লাখ টাকার সোনা-রুপা উদ্ধার: কর্মচারী গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০৯:০১:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
- / 57
রাজবাড়ীর পাংশার বহুল আলোচিত ‘নিউ মুসলিম জুয়েলার্স’-এ চুরির ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। গাজীপুরের কোনাবাড়ী মধ্যপাড়া এলাকা থেকে দোকানের কর্মচারী খন্দকার জায়ফুল ইসলাম লিটনকে (৫৯) গ্রেপ্তারসহ ১৫ ভরি ১.৫৮ আনা স্বর্ণালঙ্কার ও ২২০ ভরি রুপার গহনা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত গহনার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪২ লাখ ১ হাজার টাকা (স্বর্ণ ৩৩ লাখ ২১ হাজার ও রুপা ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা)।
রাজবাড়ী পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন। গ্রেপ্তার লিটন পাংশা উপজেলার বাবুপাড়া গ্রামের মৃত খোন্দকার আব্দুল জলিলের ছেলে।
পুলিশ সুপার জানান, পাংশার নারায়ণপুর দত্ত মার্কেটের দ্বিতীয় তলার ‘নিউ মুসলিম জুয়েলার্স’-এর মালিক শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পাংশা মডেল থানায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩২৮ ও ৩৮১ ধারায় মামলা দায়ের করেন। এজাহার অনুযায়ী, দোকান থেকে ২৫ ভরি সোনা, ২০০ ভরি রুপা ও নগদ ২ লাখ টাকাসহ সর্বমোট প্রায় ৬৫ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়।
তদন্তে জানা যায়, পাওনা টাকা তুলে দেওয়ার কথা বলে লিটন ও তার এক সহযোগী দোকান মালিক শহিদুলকে জলিলপাড়া এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে রসমালাইয়ের সাথে চেতনানাশক খাইয়ে অচেতন করা হয়। এরপর পকেট থেকে চাবি নিয়ে দোকানে ফিরে কৌশল অবলম্বন করে অপর কর্মচারীকে বাইরে পাঠিয়ে দেয় লিটন। আলমারি খুলে স্বর্ণালঙ্কার, রুপা ও নগদ টাকা চুরি করার পর চাবিটি পুনরায় সংজ্ঞাহীন মালিকের পকেটে রেখে তাকে দত্ত মার্কেট মোড়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় সে।
পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান সনাক্ত করে পাংশা থানা পুলিশের একটি দল গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যে উদ্ধার করা হয়—
৩০টি আংটি, ১১টি চেইন, ১টি সীতাহার, ৩টি পল, ১টি চান, ২৬ জোড়া কানের দুল ও ১টি ব্রেসলেট সহ ১৫ ভরি ১.৫৮ আনা স্বর্ণালঙ্কার এবং ৫৮ জোড়া নুপুর, ৩৭টি চেইন, ৬টি বাজু, ৪টি ব্রেসলেট, ১৬ জোড়া হাতের চুড়ি, ৩২টি তাবিজ, ১৯ জোড়া কানের দুল ও ১৩টি চান সহ ২২০ ভরি রৌপ্যালঙ্কার।
গ্রেপ্তারের পর লিটন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। ঘটনার সাথে জড়িত অপর আসামি ও সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে রাজবাড়ী জেলা পুলিশের ডিআইও-১ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, পাংশা মডেল থানার ওসি শেখ মঈনুল ইসলাম, জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি মফিজুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।













