আওয়ামী লীগের আমলের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা
জামিন নিয়ে এসে মহিলা দলের কমিটি বিলুপ্তির দাবি জানালেন সোনিয়া স্মৃতি
- আপডেট সময় : ০৩:২০:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 102
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে জুলুম-নির্যাতন ও কারাবরণ করে আলোচনায় আসা রাজবাড়ীর ‘রক্তকন্যা’ খ্যাত রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক সোনিয়া আক্তার স্মৃতি জামিন পেয়ে এসে জেলা মহিলা দলের বর্তমান কমিটি বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত একটি রাজনৈতিক হয়রানিমুলক মামলায় সম্প্রতি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর গতকাল সোমবার তিনি আদালতে হাজির হয়ে জামিন লাভ করেন।
এরপর বিষয়টি তুলে ধরে মঙ্গলবার সকালে এক ফেসবুক লাইভে তিনি মামলা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি জেলা মহিলা দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ করেন।
সোনিয়া স্মৃতি রাজবাড়ী জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জিয়া সাইবার ফোর্সের সক্রিয় সদস্য এবং ‘রাজবাড়ী ব্লাড ডোনার্স’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। শহরের বেড়াটাঙ্গা এলাকায় তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করেন। তাঁর স্বামী খোকন আহমেদ একজন প্রবাসী।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ফেসবুকে ‘আপত্তিকর’ পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় গভীর রাতে গ্রেপ্তারের মুহূর্তে সোনিয়ার করা ফেসবুক লাইভ দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে চার মাস কারাবাসের পর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ তাঁকে ছয় মাসের জামিন দেন। ওই মামলায় তাঁর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, কায়সার কামাল, মনিরুজ্জামান আসাদ ও মাকসুদ উল্লাহ।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশজুড়ে গায়েবি ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা হলেও সোনিয়া স্মৃতির মামলাটি রয়ে যায়। নিয়মিত হাজিরা দেওয়া সত্ত্বেও গত ৭ সেপ্টেম্বর একই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে পুনরায় গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তিনি আদালতে হাজির হয়ে জামিন লাভ করেন।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও শেখ হাসিনার আমলের মামলায় সোনিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে পরোয়ানা জারির খবর ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে।
বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার সকালে এক ফেসবুক লাইভে তার বক্তব্য তুলে ধরেন।
সোনিয়া বলেন, ৫ আগস্টের পর সারাদেশে এমন রাজনৈতিক হয়রানিমুলক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি এ মামলায় প্রায় প্রতিটি তারিখে হাজিরা দিয়েছেন। কখনো অসুস্থ বা দেশের বাইরে থাকার কারণে হাজিরা দিতে না পারলে আইনজীবীর মাধ্যমে জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, তার মামলাটি কেন রাজনৈতিক হয়রানিমুলক বিবেচনায় প্রত্যাহার করা হয়নি, তা নেতৃবৃন্দ ভালো বলতে পারবেন।
তিনি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির খবর জানতে পেরে রাজবাড়ীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ছাড়াও অনেকে ফোন করে পাশে থাকার জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
বিশেষ করে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তিনি গতকাল তাকে একাধিকবার ফোন করে তার খোঁজখবর নিয়েছেন।
তবে জেলা মহিলা দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক একটিবারের জন্যেও তাকে ফোন করে তার খোঁজ নেননি। তিনি এ অভিযোগ করে অবিলম্বে রাজবাড়ী জেলা মহিলা দলের কমিটি বিলুপ্তির দাবি জানান।
এদিকে, রাজবাড়ীর সোনিয়া স্মৃতির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মুলক মামলায় নতুন করে আবার গ্রেফতারি পরোয়ানার প্রতিবাদে ফেসবুকে নিন্দার ঝড় ওঠে। তারা এই ঘটনাকে লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন।













