Bangladesh ০৯:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন সচিবালয়ের নতুন আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্বোধন আমাদের পথিকৃৎ সাংবাদিক লিয়াকত হোসেন চীনা বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সুযোগ বাড়াতে ইউনান প্রদেশের সঙ্গে বিশেষ সমঝোতা অসহায় পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়ির চাবি হস্তান্তর “মায়ের সম্মান রক্ষা করতে গিয়ে মৃত্যু হলে, সে মৃত্যুই পরম শ্রেয়” বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে ঐতিহাসিক ৪টি সিদ্ধান্ত এলো খাজা বড় চাচাজানের দিশারী বক্তব্য ফেসবুকে এআই দিয়ে তৈরি ছবি ছড়িয়ে মানহানী : থানায় জিডি কনসার্টের উচ্চ শব্দে শিশুদের কষ্টের কথা জেনে ক্ষমা চাইলেন বিএনপি নেতা স্বপন সাংবাদিক আমির খসরু আর নেই শহর ফরিদপুর ও গণিকালয়ের ডেরা: কার কান্না কত ভারী?

যুবকের মৃত্যু: মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে দোকানের গেট ভেঙ্গে পালালো ২৮ রোগী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১০:৪৩:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 612

লাল চিহ্নিত ব্যক্তি আমিন খান শনিবার রাত ১১টা ৪৮ মিনিটের দিকে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করার পরে তাকে একপর্যায়ে হাত-পা বেঁধে নিচে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ সিসি টিভির হার্ডডিস্কটি জব্দ করে নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। ছবি- দৈনিক অগ্নিপ্রহর

ফরিদপুর শহরের একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে আমিন খান নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বেলা ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনার পর বিকেলে সেখানে বন্দি ২৮ ভর্তি পেশেন্ট পাঁচতলা ভবনের লোহার গেট ও কাঁচের দেয়াল ভেঙ্গে বেরিয়ে যায়। নিহত আমিন খানের পরিবার এই মৃত্যকে অস্বাভাবিক বলে মনে করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে আমিনের মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানায় ‘আল-কারীম মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র’ কর্তৃপক্ষ। পরে স্বজনেরা ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তার মৃতদেহ দেখতে পান। রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে ছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

মৃত আমিন খান ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ছোলনা গ্রামের লোকমান খানের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক। দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় প্রবাসজীবন কাটানোর পর দেশে ফিরে বোয়ালমারী বাজারে ‘আমিন খান ট্রেডার্স’ নামে একটি প্রেস ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি মানসিক ও আচরণগত কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে প্রায় ১০-১২ দিন আগে তাকে ফরিদপুর শহরে ‘আল-কারীম মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন না। নিহতের স্বজনরা তাঁর দুই হাত ও পায়ে দড়ি দিয়ে বাঁধার গভীর দাগ দেখতে পেয়েছেন। এ সময় নিহতের শরীর হলুদ বর্ণ হয়ে যায়।

নিহতের ভাই রবিউল খান অভিযোগ করেন, রিহ্যাব সেন্টারে শারীরিক নির্যাতন ও টর্চারের কারণে আমার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা কোতোয়ালি থানার অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

তবে আল-করীম মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানান, নিহত আমিন খান রাতে ঘুমের সময় অন্যান্য রোগীদের নানাভাবে বিরক্ত করছিলেন। সকালের দিকে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। রিহ্যাবে প্রাথমিকভাবে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, এ বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

যুবকের মৃত্যু: মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে দোকানের গেট ভেঙ্গে পালালো ২৮ রোগী

আপডেট সময় : ১০:৪৩:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

ফরিদপুর শহরের একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে আমিন খান নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বেলা ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনার পর বিকেলে সেখানে বন্দি ২৮ ভর্তি পেশেন্ট পাঁচতলা ভবনের লোহার গেট ও কাঁচের দেয়াল ভেঙ্গে বেরিয়ে যায়। নিহত আমিন খানের পরিবার এই মৃত্যকে অস্বাভাবিক বলে মনে করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে আমিনের মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানায় ‘আল-কারীম মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র’ কর্তৃপক্ষ। পরে স্বজনেরা ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তার মৃতদেহ দেখতে পান। রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে ছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

মৃত আমিন খান ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ছোলনা গ্রামের লোকমান খানের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক। দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় প্রবাসজীবন কাটানোর পর দেশে ফিরে বোয়ালমারী বাজারে ‘আমিন খান ট্রেডার্স’ নামে একটি প্রেস ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি মানসিক ও আচরণগত কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে প্রায় ১০-১২ দিন আগে তাকে ফরিদপুর শহরে ‘আল-কারীম মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন না। নিহতের স্বজনরা তাঁর দুই হাত ও পায়ে দড়ি দিয়ে বাঁধার গভীর দাগ দেখতে পেয়েছেন। এ সময় নিহতের শরীর হলুদ বর্ণ হয়ে যায়।

নিহতের ভাই রবিউল খান অভিযোগ করেন, রিহ্যাব সেন্টারে শারীরিক নির্যাতন ও টর্চারের কারণে আমার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা কোতোয়ালি থানার অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

তবে আল-করীম মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানান, নিহত আমিন খান রাতে ঘুমের সময় অন্যান্য রোগীদের নানাভাবে বিরক্ত করছিলেন। সকালের দিকে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। রিহ্যাবে প্রাথমিকভাবে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, এ বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।