ওয়ান ইলেভেনের কুশিলব সাবেক জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী গ্রেফতার
- আপডেট সময় : ০১:১৯:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
- / 41
ওয়ান-ইলেভেন সময়ের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা এবং ফেনী-৩ আসনের (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম। জানান, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে পাঁচটির মতো মামলা আছে।
ডিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বারিধারা ডিওএইচএসের ২ নম্বর লেনের ১৫৩ নম্বর বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলা এবং মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির নামে বিপুল অর্থ পাচারসহ একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
ডিবি প্রধান জানান, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ফেনীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সরাসরি হামলার উস্কানি এবং মালয়েশিয়া শ্রমিক সিন্ডিকেট পরিচালনার মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অন্যতম। দীর্ঘ তদন্তের পর পর্যাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ওয়ান-ইলেভেন পটপরিবর্তনে অন্যতম প্রধান ভূমিকায় ছিলেন। তখন তিনি গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক হন। পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হন। এই কমিটির অধীনই তখন দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়।
ওয়ান-ইলেভেনের মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে রাজনীতি থেকে সরানোর জন্য সবচেয়ে আলোচিত ছিলো ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’। ওই ঘটনায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর মুখ্য ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
সেই সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা এবং বিএনপি নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। বিশেষ করে গোয়েন্দা হেফাজতে নিয়ে তারেক রহমানের ওপর অমানবিক নির্যাতনের পর বিষয়টি এখনো তুমুল রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে।
২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর তাকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার তিন দফায় তার মেয়াদ বৃদ্ধি করে। সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেয়ার পর তিনি ঢাকায় রেস্তোরাঁসহ একাধিক ব্যবসায় যুক্ত হন।
গত বছরের আগস্টে সিআইডি তার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করে। অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়েদু র্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন গত বৃহস্পতিবার তার সম্পদ ক্রোকের আদেশ দিয়েছিল। পুলিশ জানায়, আজ মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে।










