০৪:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
শ্রেষ্ঠ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হলেন ডা. নাদিম ছিলেন না নায়াব ইউসুফ, মিটিং কাভার করতে পারলেন না সাংবাদিকেরা “হাজী শরিয়তুল্লাহদের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৪৭ পাওয়ার কারণেই আমরা ৭১ পেয়েছি” একসাথে ৩ মেলার সমালোচনা : জবাবে যা বললেন নারী উদ্যোক্তা লুবাবা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সেই নেতারা এখন কে কোথায় নদীর নাম মালঞ্চ পেয়েছে সরকারি স্বীকৃতি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ‘ডিজিটাল ইভটিজিং’ ইস্যুতে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে তোলপাড় আমার মুর্শিদ হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ভাঙ্গায় পিকআপ-পরিবহন মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩০ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছে তেলবাহী তিনটি সুপার ট্যাংকার

অনলাইন গেমের মরণফাঁদে প্রাণ দিলো তিনবোন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:২৭:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 134

কোরিয়ান গেমের নেশায় কিশোরী বয়সী আপন তিনবোন একটি বহুতল ভবনের নয়তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদ জেলার সাহিবাবাদ অঞ্চলের ভারত সিটি সোসাইটিতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বুধবার।

ওই মেয়েদের বয়স যথাক্রমে ১৬, ১৪ এবং ১২ বছর। এই তিন বোন বেশ কিছু দিন ধরে এই গেম খেলছিল এবং শেষ ধাপ সম্পন্ন করার জন্য তাঁরা বিল্ডিংয়ের নবম তলা থেকে লাফ দিয়েছিল।

স্থানীয় পুলিশ এই ঘটনার তদন্তে নেমে জানতে পারে, করোনাকালে হাতে স্মার্টফোন আসায় শিশুদের স্ক্রিন টাইম অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছিল, যা এই ঘটনার অন্যতম মূল কারণ। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তিন বোন এক কোরিয়ান গেমের নেশায় ছিল, যা তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহের অন্যতম কারণ ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তারা অনলাইনে গেমের প্রতি এতটাই আসক্ত হয়ে পড়ে যে, নিয়মিত স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। আসক্তির ফলে তারা বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল এবং নিজেদের গেমের চরিত্রের সাথে মেলাতে শুরু করেছিল। তারা তাদের গেমের প্রিয় চরিত্রের মতো নিজেদের কোরিয়ান নামও ব্যবহার করত।

গেম আসক্তির কারণে তাদের আচরণে এক ধরনের অদ্ভুত ঘনিষ্ঠতা ছিল, খাওয়া, ঘুমানো, গোসল সবকিছুই তারা একসঙ্গে করত। বাড়ি থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে কান্নার ইমোজি দিয়ে লেখা ছিল, ‘দুঃখিত, বাবা’।

পুলিশ বর্তমানে সাইবার সেল-এর সাহায্য নিচ্ছে ওই নির্দিষ্ট “কন্ট্রোলার” বা অ্যাডমিনকে শনাক্ত করতে, যারা ডার্ক ওয়েব বা এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে কিশোরীদের প্ররোচিত করত।

এই ঘটনা এক দশক আগে ‘ব্লু হোয়েল’ নামক একটি রাশিয়ান অনলাইন গেমের কথা আবার স্মরণ করিয়ে দেয়, যা শেষ পর্যায়ে এসে মৃত্যুর পরিণতিতে ঠেলে দিতো কিশোর-কিশোরীদের।

অভিভাবকদের জন্য এই ঘটনা একটি সতর্কবার্তা নিয়ে এসেছে—সন্তানরা ইন্টারনেটে কী দেখছে বা কাদের সাথে কথা বলছে সে বিষয়ে তাদের আরো নজরদারি রাখা জরুরি। প্রয়োজনে তাদের আত্মহত্যা প্রতিরোধের হেল্পলাইন [যেমন: কান পেতে রই – ০১৯৮৫২৭৫২৮৬] নম্বরগুলোর সাথে অন্ততপক্ষে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগ

শেয়ার করুন

অনলাইন গেমের মরণফাঁদে প্রাণ দিলো তিনবোন

আপডেট সময় : ১০:২৭:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কোরিয়ান গেমের নেশায় কিশোরী বয়সী আপন তিনবোন একটি বহুতল ভবনের নয়তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদ জেলার সাহিবাবাদ অঞ্চলের ভারত সিটি সোসাইটিতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বুধবার।

ওই মেয়েদের বয়স যথাক্রমে ১৬, ১৪ এবং ১২ বছর। এই তিন বোন বেশ কিছু দিন ধরে এই গেম খেলছিল এবং শেষ ধাপ সম্পন্ন করার জন্য তাঁরা বিল্ডিংয়ের নবম তলা থেকে লাফ দিয়েছিল।

স্থানীয় পুলিশ এই ঘটনার তদন্তে নেমে জানতে পারে, করোনাকালে হাতে স্মার্টফোন আসায় শিশুদের স্ক্রিন টাইম অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছিল, যা এই ঘটনার অন্যতম মূল কারণ। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তিন বোন এক কোরিয়ান গেমের নেশায় ছিল, যা তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহের অন্যতম কারণ ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তারা অনলাইনে গেমের প্রতি এতটাই আসক্ত হয়ে পড়ে যে, নিয়মিত স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। আসক্তির ফলে তারা বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল এবং নিজেদের গেমের চরিত্রের সাথে মেলাতে শুরু করেছিল। তারা তাদের গেমের প্রিয় চরিত্রের মতো নিজেদের কোরিয়ান নামও ব্যবহার করত।

গেম আসক্তির কারণে তাদের আচরণে এক ধরনের অদ্ভুত ঘনিষ্ঠতা ছিল, খাওয়া, ঘুমানো, গোসল সবকিছুই তারা একসঙ্গে করত। বাড়ি থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে কান্নার ইমোজি দিয়ে লেখা ছিল, ‘দুঃখিত, বাবা’।

পুলিশ বর্তমানে সাইবার সেল-এর সাহায্য নিচ্ছে ওই নির্দিষ্ট “কন্ট্রোলার” বা অ্যাডমিনকে শনাক্ত করতে, যারা ডার্ক ওয়েব বা এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে কিশোরীদের প্ররোচিত করত।

এই ঘটনা এক দশক আগে ‘ব্লু হোয়েল’ নামক একটি রাশিয়ান অনলাইন গেমের কথা আবার স্মরণ করিয়ে দেয়, যা শেষ পর্যায়ে এসে মৃত্যুর পরিণতিতে ঠেলে দিতো কিশোর-কিশোরীদের।

অভিভাবকদের জন্য এই ঘটনা একটি সতর্কবার্তা নিয়ে এসেছে—সন্তানরা ইন্টারনেটে কী দেখছে বা কাদের সাথে কথা বলছে সে বিষয়ে তাদের আরো নজরদারি রাখা জরুরি। প্রয়োজনে তাদের আত্মহত্যা প্রতিরোধের হেল্পলাইন [যেমন: কান পেতে রই – ০১৯৮৫২৭৫২৮৬] নম্বরগুলোর সাথে অন্ততপক্ষে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।