ঢাকা ০৩:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অ্যাডভোকেট হামিদুল হক ঝন্টুর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত নারী উদ্যোক্তাদের হাতে তৈরি সামগ্রীতে প্রাণবন্ত হলিডে মার্কেটের ইফতার মাহফিল ফরিদপুরে বিহারি কলোনিতে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যা, আহত মা ও ভাই পবিত্র কোরআনের আলোকে ইসলামে যাকাতের গুরুত্ব ও বিধান বোয়ালমারীতে কিশোর শ্রমিক সজীব হত্যা: আসামি রিহাত মাগুরা থেকে গ্রেপ্তার বেইলি ব্রিজ মেরামতে বিলম্ব: ঈদের আগেই চালুর দাবি ফরিদপুরবাসীর ব্যস্ত সড়কে উপড়ে পড়ল গাছ: অল্পতে বাঁচলেন যাত্রী ফরিদপুরে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ১৮টি ইজিবাইকসহ আন্তঃজেলা চোরচক্রের ১২ সদস্য গ্রেপ্তার ফরিদপুরে ‘কাচ্চি সুলতান’কে ১ লাখ টাকা জরিমানা: কিচেনে মিলল ক্ষতিকর কেমিক্যাল বোয়ালমারীতে পায়ুপথে হাওয়া: কিশোর শ্রমিকের মৃত্যু

অনলাইন গেমের মরণফাঁদে প্রাণ দিলো তিনবোন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:২৭:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 79

কোরিয়ান গেমের নেশায় কিশোরী বয়সী আপন তিনবোন একটি বহুতল ভবনের নয়তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদ জেলার সাহিবাবাদ অঞ্চলের ভারত সিটি সোসাইটিতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বুধবার।

ওই মেয়েদের বয়স যথাক্রমে ১৬, ১৪ এবং ১২ বছর। এই তিন বোন বেশ কিছু দিন ধরে এই গেম খেলছিল এবং শেষ ধাপ সম্পন্ন করার জন্য তাঁরা বিল্ডিংয়ের নবম তলা থেকে লাফ দিয়েছিল।

স্থানীয় পুলিশ এই ঘটনার তদন্তে নেমে জানতে পারে, করোনাকালে হাতে স্মার্টফোন আসায় শিশুদের স্ক্রিন টাইম অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছিল, যা এই ঘটনার অন্যতম মূল কারণ। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তিন বোন এক কোরিয়ান গেমের নেশায় ছিল, যা তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহের অন্যতম কারণ ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তারা অনলাইনে গেমের প্রতি এতটাই আসক্ত হয়ে পড়ে যে, নিয়মিত স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। আসক্তির ফলে তারা বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল এবং নিজেদের গেমের চরিত্রের সাথে মেলাতে শুরু করেছিল। তারা তাদের গেমের প্রিয় চরিত্রের মতো নিজেদের কোরিয়ান নামও ব্যবহার করত।

গেম আসক্তির কারণে তাদের আচরণে এক ধরনের অদ্ভুত ঘনিষ্ঠতা ছিল, খাওয়া, ঘুমানো, গোসল সবকিছুই তারা একসঙ্গে করত। বাড়ি থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে কান্নার ইমোজি দিয়ে লেখা ছিল, ‘দুঃখিত, বাবা’।

পুলিশ বর্তমানে সাইবার সেল-এর সাহায্য নিচ্ছে ওই নির্দিষ্ট “কন্ট্রোলার” বা অ্যাডমিনকে শনাক্ত করতে, যারা ডার্ক ওয়েব বা এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে কিশোরীদের প্ররোচিত করত।

এই ঘটনা এক দশক আগে ‘ব্লু হোয়েল’ নামক একটি রাশিয়ান অনলাইন গেমের কথা আবার স্মরণ করিয়ে দেয়, যা শেষ পর্যায়ে এসে মৃত্যুর পরিণতিতে ঠেলে দিতো কিশোর-কিশোরীদের।

অভিভাবকদের জন্য এই ঘটনা একটি সতর্কবার্তা নিয়ে এসেছে—সন্তানরা ইন্টারনেটে কী দেখছে বা কাদের সাথে কথা বলছে সে বিষয়ে তাদের আরো নজরদারি রাখা জরুরি। প্রয়োজনে তাদের আত্মহত্যা প্রতিরোধের হেল্পলাইন [যেমন: কান পেতে রই – ০১৯৮৫২৭৫২৮৬] নম্বরগুলোর সাথে অন্ততপক্ষে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Tags

অনলাইন গেমের মরণফাঁদে প্রাণ দিলো তিনবোন

আপডেট সময় : ১০:২৭:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কোরিয়ান গেমের নেশায় কিশোরী বয়সী আপন তিনবোন একটি বহুতল ভবনের নয়তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদ জেলার সাহিবাবাদ অঞ্চলের ভারত সিটি সোসাইটিতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বুধবার।

ওই মেয়েদের বয়স যথাক্রমে ১৬, ১৪ এবং ১২ বছর। এই তিন বোন বেশ কিছু দিন ধরে এই গেম খেলছিল এবং শেষ ধাপ সম্পন্ন করার জন্য তাঁরা বিল্ডিংয়ের নবম তলা থেকে লাফ দিয়েছিল।

স্থানীয় পুলিশ এই ঘটনার তদন্তে নেমে জানতে পারে, করোনাকালে হাতে স্মার্টফোন আসায় শিশুদের স্ক্রিন টাইম অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছিল, যা এই ঘটনার অন্যতম মূল কারণ। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তিন বোন এক কোরিয়ান গেমের নেশায় ছিল, যা তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহের অন্যতম কারণ ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তারা অনলাইনে গেমের প্রতি এতটাই আসক্ত হয়ে পড়ে যে, নিয়মিত স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। আসক্তির ফলে তারা বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল এবং নিজেদের গেমের চরিত্রের সাথে মেলাতে শুরু করেছিল। তারা তাদের গেমের প্রিয় চরিত্রের মতো নিজেদের কোরিয়ান নামও ব্যবহার করত।

গেম আসক্তির কারণে তাদের আচরণে এক ধরনের অদ্ভুত ঘনিষ্ঠতা ছিল, খাওয়া, ঘুমানো, গোসল সবকিছুই তারা একসঙ্গে করত। বাড়ি থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে কান্নার ইমোজি দিয়ে লেখা ছিল, ‘দুঃখিত, বাবা’।

পুলিশ বর্তমানে সাইবার সেল-এর সাহায্য নিচ্ছে ওই নির্দিষ্ট “কন্ট্রোলার” বা অ্যাডমিনকে শনাক্ত করতে, যারা ডার্ক ওয়েব বা এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে কিশোরীদের প্ররোচিত করত।

এই ঘটনা এক দশক আগে ‘ব্লু হোয়েল’ নামক একটি রাশিয়ান অনলাইন গেমের কথা আবার স্মরণ করিয়ে দেয়, যা শেষ পর্যায়ে এসে মৃত্যুর পরিণতিতে ঠেলে দিতো কিশোর-কিশোরীদের।

অভিভাবকদের জন্য এই ঘটনা একটি সতর্কবার্তা নিয়ে এসেছে—সন্তানরা ইন্টারনেটে কী দেখছে বা কাদের সাথে কথা বলছে সে বিষয়ে তাদের আরো নজরদারি রাখা জরুরি। প্রয়োজনে তাদের আত্মহত্যা প্রতিরোধের হেল্পলাইন [যেমন: কান পেতে রই – ০১৯৮৫২৭৫২৮৬] নম্বরগুলোর সাথে অন্ততপক্ষে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।