হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ১০ শিশু ভর্তি হাসপাতালে
- আপডেট সময় : ০৪:৪৫:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
- / 25
ফরিদপুরে শিশুদের হামে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সর্বশেষ একদিনে হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা দিতে ভর্তি করা হয়েছে ১৮টি শিশুকে। এসময়ে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এ ধরনের উপসর্গ নিয়ে ৮ শিশুকে ভর্তি করা হয়। এ অবস্থায় অভিভাবকদের চিকিৎসা বিধি মেনে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা।
ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্নস্থান থেকে এসময় বিশেষ করে নিউমোনিয়া ও হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসছেন মায়েরা। তাদের সাথে রয়েছেন উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা। হাসপাতালের জরুরি ওয়ার্ডে শিশুদের নিয়ে ভিড় করছেন তারা। ওয়ার্ডগুলোতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় তাদের মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। গরমে হাসফাস করছে অসুস্থ শিশুরা।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘন্টায় ফরিদপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে এ ধরনের উপসর্গ নিয়ে ১০ জন শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। গত ১ জানুয়ারী থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত এ সংখ্যা ৪২। এর মধ্যে ফরিদপুর সদরেই এসময়ে ১৩ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয় এ ধরনের উপসর্গ নিয়ে।
ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. গণেশ কুমার আগারওয়াল জানান, হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ৬টি শিশুকে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের একজনের শ্বাসকষ্ট বেশি হওয়ায় তাকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, হাসপাতালে ভর্তি দু’টি শিশু হামের টিকা নেয়নি বলে জানা গেছে।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, এবছর এ পর্যন্ত ৪২টি শিশুকে হামে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে কারো মৃত্যুর রেকর্ড নেই। জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা প্রদান ও রোগ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দেশে হাম-রুবেলা সহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে ভ্যাকসিন প্রদান করা হচ্ছে। সরকারি হিসেব অনুযায়ী ৯৫ ভাগ শিশুকে এ টিকা দেওয়া হয়। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপে এটি ৮৪ পার্সেন্ট বলা হয়েছে। এই ১৬ পার্সেন্ট শিশু বাদ পড়ছে, যাদের হাম আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। প্রতিবছর সরকার শিশুদের হাম-রুবেলা প্রতিরোধে নরমাল ভ্যাকসিন দিয়ে আসলেও গত ৬/৭ বছর যাবত কোন ক্যাম্প হচ্ছে না। বাদ পড়া শিশুদের জন্য ক্যাম্পিং করে টিকা দেওয়া হলে একটি প্রতিরোধী ব্যবস্থা গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।













