ফরিদপুর-২: অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে উত্তাপ ছড়াচ্ছে ভোটের মাঠে
- আপডেট সময় : ০৮:৩৭:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 74
ফরিদপুর-২ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর অভিযোগ-পাল্টাউল্টো অভিযোগে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। -অগ্নিপ্রহর
ফরিদপুর-২ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর অভিযোগ-পাল্টাউল্টো অভিযোগে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদের পক্ষ থেকে গাড়ি বহর আটকে দেওয়া ও লোকজনকে জোর করে জনসভায় যেতে বাধ্য করার অভিযোগ করা হয়েছে। বিপরীতে ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রার্থী মাওলানা শাহ্ আকরাম আলীর পক্ষ থেকে তাঁর সমর্থকদের চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তাপ ছড়াচ্ছে সামাজিক মাধ্যমগুলোতেও।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, সোমবার বিকেলে রামকান্তপুর ইউনিয়নের বাহিরদিয়া বাজারে ধানের শীষের নির্বাচনী সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে সড়কের ওপর বালুর বস্তা ফেলে রেখে শামা ওবায়েদের গাড়ি বহর আটকে দেওয়া হয়। পরে নেতাকর্মীরা ওই বালুর বস্তা সরিয়ে গাড়ি বহর নিয়ে সভায় যোগ দেন।
তাঁরা বলেন, শামা ওবায়েদের ওই নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বাহিরদিয়া বাজারের সব দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি বাজারের টিউবওয়েল পর্যন্ত খুলে রাখা হয়। এতে নির্বাচনী সভায় আসা নেতাকর্মীরা একটু পানি পর্যন্ত খেতে পারেননি। বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেন, ফরিদপুর-২ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোট মনোনীত খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা শাহ্ আকরাম আলীর বাড়ি ও তাঁর মাদ্রাসা রামকান্তপুর ইউনিয়নের বাহিরদিয়া গ্রামে। এজন্য তারা শামা ওবায়েদের কর্মসূচি বানচাল করতে এসব করেছে।
এ ঘটনায় শামা ওবায়েদ ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন, “আজকে বালুর বস্তা ফেলে রাস্তা বন্ধ করে রাখবে—এটা তো আওয়ামী লীগ করেছিল। ফ্যাসিবাদের সময় বেগম খালেদা জিয়ার বাড়ির সামনে বালু ফেলেছিল। সেটা তো এখন এই স্বাধীন দেশে দেখতে চাই না। দেশ গণতান্ত্রিক পথে হাঁটছে।”
তবে বিএনপির এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মাওলানা আকরাম আলী। তাঁর দলের পক্ষ থেকে উল্টো বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। মাওলানা আকরাম আলী সাংবাদিকদের বলেন, রাস্তায় বালির বস্তা ফেলে গাড়ি বহর আটকে দেওয়ার অভিযোগ মোটেও সঠিক নয়। তিনি বলেন, “আমাদের গ্রামের রাস্তাগুলো সরু। তাই রাস্তার পাশের বাড়ির কাজ করতে হলে কিছু বালি রাস্তার উপরে চলে আসে। সেখানেও এক ব্যক্তি বাড়ির কাজ করার জন্য বাড়ির সামনে কিছু বালি রেখেছিল। সেই বালিই হয়তো কিছু রাস্তায় পড়েছিল।” বাহিরদিয়া বাজারের দোকানপাট বন্ধের ব্যাপারে তিনি বলেন, ঘটনাক্রমে সোমবার নগরকান্দায় আমাদের বড় নির্বাচনী সমাবেশ ছিল। এলাকার লোকজন, বাজারের দোকানদারেরাও দোকানপাট বন্ধ করে নিজ নিজ খরচে ওই জনসভায় অংশ নিতে সেখানে চলে গেছে। আমরা কাউকে দোকানপাট বন্ধ করতে বলিনি।
অপরদিকে, সালথায় ১১ দলীয় জোট প্রার্থীর রিকশা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাওয়ার অভিযোগে হাফেজ মো. মুকতার হুসাইন (৫০) নামে এক কওমি মাদ্রাসার শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ করা হয়েছে এক সংবাদ সম্মেলনে।
সালথা উপজেলা খেলাফত মজলিস কার্যালয়ে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শিক্ষক হাফেজ মুকতার হুসাইন বলেন, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মাদ্রাসায় ক্লাস নেওয়ার সময় মাদ্রাসার মোহতামিম মাওলানা হেদায়েত উল্লাহর ভাই কাইয়ুম মোল্যা ও স্থানীয় ফজলুল মাতুব্বর মাদ্রাসায় এসে তাঁকে ডেকে নিয়ে জানতে চায়—তিনি রিকশা মার্কায় ভোট চান কি না এবং হুজুরের নির্বাচনী সভায় অংশগ্রহণ করেন কি না। জবাবে ‘হ্যাঁ’ বললে কাইয়ুম মোল্যা তাঁকে খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করে হুমকি দেয়। পরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাঁর বকেয়া বেতন পরিশোধ করে তাঁকে বিদায় করে দেয়। তিনি এর ন্যায়বিচার চান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাইয়ুম মোল্যা বলেন, “উনি গত কয়দিন ধরে ক্লাস চলাকালে মাদ্রাসা ছাত্রদের কাছে রিকশার ভোট চান এবং চাপ দেন। ছাত্রদের পরিবারের কাছে ভোট চাইতে বলেন। এতে মাদ্রাসার পরিবেশ নষ্ট হয়। তাই আজকে সকালে আমরা মাদ্রাসায় গিয়ে হুজুরকে এভাবে ভোট চাইতে নিষেধ করি। এতে তিনি উল্টো হুমকি-ধামকি দিয়ে মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যান। ওনাকে আমরা কোনো হুমকি-ধামকি দেইনি।”
সালথা উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সঠিক নয়। তারা আজ পর্যন্ত আমাকে একটি লিখিত অভিযোগও দেয়নি। এমনকি আমার কার্যালয়ের সামনে একটি অভিযোগ বাক্স রাখা হয়েছে, সেখানেও কোনো হুমকি-ধামকি বা নির্বাচনী কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ দেওয়া হয়নি।














