০৫:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
শ্রেষ্ঠ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হলেন ডা. নাদিম ছিলেন না নায়াব ইউসুফ, মিটিং কাভার করতে পারলেন না সাংবাদিকেরা “হাজী শরিয়তুল্লাহদের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৪৭ পাওয়ার কারণেই আমরা ৭১ পেয়েছি” একসাথে ৩ মেলার সমালোচনা : জবাবে যা বললেন নারী উদ্যোক্তা লুবাবা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সেই নেতারা এখন কে কোথায় নদীর নাম মালঞ্চ পেয়েছে সরকারি স্বীকৃতি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ‘ডিজিটাল ইভটিজিং’ ইস্যুতে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে তোলপাড় আমার মুর্শিদ হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ভাঙ্গায় পিকআপ-পরিবহন মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩০ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছে তেলবাহী তিনটি সুপার ট্যাংকার
বিগত সরকারের আমলে দেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ খাতে ‘সিস্টেমেটিক লুটে’ বছরে গচ্চা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 101

প্রতিযোগিতা ছাড়াই স্বাক্ষরিত দীর্ঘমেয়াদী বিদ্যুৎ চুক্তির কারণে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বছরে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা তৈরি হয়েছে। বিদ্যুতের দাম এমন পর্যায়ে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে যা বাংলাদেশের শিল্প প্রতিযোগিতার জন্য হুমকিস্বরূপ এবং পরিবারগুলিকে চাপের মুখে ফেলেছে।

সরকারের জাতীয় পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, ভারতের আদানি পাওয়ারের সাথে হওয়া চুক্তি চরম বৈষম্যমূলক। গত রোববার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যুৎ খাতের এই অতিরিক্ত ব্যয় বাংলাদেশের শিল্প খাতের সক্ষমতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে এবং সাধারণ গ্রাহকদের ওপর অসহনীয় চাপ তৈরি করছে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, বিগত সরকারের আমলে দেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত থেকে আমদানিকৃত এই বিদ্যুতের দাম বাজারমূল্যের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি। সাধারণত আন্তর্জাতিক চুক্তিতে ঝুঁকি উভয় পক্ষ ভাগ করে নিলেও, আদানির ক্ষেত্রে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি বা মুদ্রার মানের পরিবর্তনের মতো সব আর্থিক ঝুঁকি বাংলাদেশের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে কোনো বিদ্যুৎ ব্যবহার না করলেও ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ ও অন্যান্য ফি বাবদ প্রতি বছর বিশাল অংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, “এটি রাজনীতিবিদ, আমলা এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি পদ্ধতিগত যোগসাজশের ইঙ্গিত দেয়, যার মাধ্যমে অন্যায্য মুনাফা তৈরি করে তা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।” এই অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ কোনো ভুল নয়, বরং এটি চুক্তির একটি পরিকল্পিত ফলাফল বলে প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পর্যালোচনা কমিটি ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তিকে সবচেয়ে বিতর্কিত উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আদানির বিদ্যুতের জন্য বাংলাদেশ যুক্তিসঙ্গত মূল্যের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি (ইউনিট প্রতি ৪-৫ সেন্ট অতিরিক্ত) দাম পরিশোধ করছে।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী জ্বালানি, মুদ্রা এবং চাহিদার সমস্ত ঝুঁকি বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আদানি ছাড়াও সামিট গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ, ভারতের রিলায়েন্স পাওয়ার এবং জাপানি গ্রুপ জেরার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোতে ‘মারাত্মক অসঙ্গতি’ পাওয়া গেছে। কমিটি বলছে, কোনো প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র হলে এসব শর্তে চুক্তি হওয়া সম্ভব ছিল না।

বর্তমানে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বছরে ৪.১ বিলিয়ন ডলারের বেশি লোকসান দিচ্ছে, যেখানে সরকারি ভর্তুকির পরিমাণ ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। দেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে, যেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও দাম অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়।

শেয়ার করুন

বিগত সরকারের আমলে দেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ খাতে ‘সিস্টেমেটিক লুটে’ বছরে গচ্চা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার

আপডেট সময় : ১০:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

প্রতিযোগিতা ছাড়াই স্বাক্ষরিত দীর্ঘমেয়াদী বিদ্যুৎ চুক্তির কারণে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বছরে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা তৈরি হয়েছে। বিদ্যুতের দাম এমন পর্যায়ে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে যা বাংলাদেশের শিল্প প্রতিযোগিতার জন্য হুমকিস্বরূপ এবং পরিবারগুলিকে চাপের মুখে ফেলেছে।

সরকারের জাতীয় পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, ভারতের আদানি পাওয়ারের সাথে হওয়া চুক্তি চরম বৈষম্যমূলক। গত রোববার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যুৎ খাতের এই অতিরিক্ত ব্যয় বাংলাদেশের শিল্প খাতের সক্ষমতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে এবং সাধারণ গ্রাহকদের ওপর অসহনীয় চাপ তৈরি করছে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, বিগত সরকারের আমলে দেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত থেকে আমদানিকৃত এই বিদ্যুতের দাম বাজারমূল্যের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি। সাধারণত আন্তর্জাতিক চুক্তিতে ঝুঁকি উভয় পক্ষ ভাগ করে নিলেও, আদানির ক্ষেত্রে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি বা মুদ্রার মানের পরিবর্তনের মতো সব আর্থিক ঝুঁকি বাংলাদেশের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে কোনো বিদ্যুৎ ব্যবহার না করলেও ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ ও অন্যান্য ফি বাবদ প্রতি বছর বিশাল অংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, “এটি রাজনীতিবিদ, আমলা এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি পদ্ধতিগত যোগসাজশের ইঙ্গিত দেয়, যার মাধ্যমে অন্যায্য মুনাফা তৈরি করে তা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।” এই অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ কোনো ভুল নয়, বরং এটি চুক্তির একটি পরিকল্পিত ফলাফল বলে প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পর্যালোচনা কমিটি ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তিকে সবচেয়ে বিতর্কিত উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আদানির বিদ্যুতের জন্য বাংলাদেশ যুক্তিসঙ্গত মূল্যের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি (ইউনিট প্রতি ৪-৫ সেন্ট অতিরিক্ত) দাম পরিশোধ করছে।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী জ্বালানি, মুদ্রা এবং চাহিদার সমস্ত ঝুঁকি বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আদানি ছাড়াও সামিট গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ, ভারতের রিলায়েন্স পাওয়ার এবং জাপানি গ্রুপ জেরার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোতে ‘মারাত্মক অসঙ্গতি’ পাওয়া গেছে। কমিটি বলছে, কোনো প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র হলে এসব শর্তে চুক্তি হওয়া সম্ভব ছিল না।

বর্তমানে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বছরে ৪.১ বিলিয়ন ডলারের বেশি লোকসান দিচ্ছে, যেখানে সরকারি ভর্তুকির পরিমাণ ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। দেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে, যেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও দাম অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়।