০২:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
মুম্বাই বিমানবন্দরে ১২ কোটি রুপির মাদকসহ সাবেক ‘মিসেস কেরালা’ প্রতিযোগী গ্রেপ্তার সকলকে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকতে হবে -পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আগ্রহের কেন্দ্রে ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির নির্বাচন বিশ্বকাপে প্রথম খেলায় চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে কোরিয়ার জয় প্রতারক সন্দেহে খাসি ব্যবসায়ীকে বাড়িতে ডেকে মহিলাদের নির্যাতন, টাকা লুটের অভিযোগ লাল কার্ডের রেকর্ডেও উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের ধারায় মেক্সিকো দাঙ্গা আর মামলার ঝক্কি এড়িয়ে শান্তি ফিরবে কি অশান্ত সালথায়? নীরব ঘাতক ‘ফ্যাটি লিভার’: সচেতনতাই সুস্থ লিভারের চাবিকাঠি স্কুলের সামনে বিটুমিন পোড়ানোর ধোঁয়ায় অসুস্থ্য কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ফরিদপুরে শিকারি সাংবাদিকতার তদন্ত দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন স্মারকলিপি
স্কুলবাসে উঠে শিশুদের 'জয় শ্রীরাম' স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়

পশ্চিমবঙ্গজুড়ে নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:১১:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • / 49

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। নির্বাচনের আগে বা ভোটগ্রহণের দিন বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও, ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে।

সর্বশেষ তথ্যানুসারে, রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার জেরে অন্তত ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। এসব ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিয়ে একদল ব্যক্তি বুলডোজার (জেসিবি) ব্যবহার করে তৃণমূলের একটি কার্যালয়সহ পাশে থাকা একটি মুরগির দোকান ও শিশুদের পোশাকের দোকান গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি কলকাতায় বুধবার সকালে শহরের একটি পরিচিত বিদ্যালয়ের স্কুলবাসের সহকারী শিশুদের ‘জোরপূর্বক’ ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে বাধ্য করেছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে।

দেশটির উত্তর ২৪ পরগণার সন্দেশখালির ন্যাজাটে দুই রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষ থামাতে যাওয়ার পর ওসি ভরত প্রসূন করসহ তিন পুলিশ সদস্যের ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং ব্যাপক পুলিশি টহল বসানো হয়েছে।

সহিংসতার ঘটনায় বীরভূমের নানুর থানার সন্তোষপুর গ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ সভাপতি আবির শেখকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত ৪৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
উত্তর ২৪ পরগনার নাজাতে দুপক্ষের গোলাগুলিতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় দোকানদারদের কাছ থেকে টাকা তুলতে বাধা দেওয়ায় নিজের দলেরই এক নেতার ওপর হামলা চালিয়েছে একদল বিজেপি সমর্থক।

সর্বশেষ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। একইরাতে মালদায় ইংরেজবাজার পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের গাদুয়ামোড় এলাকায় এক বিজেপি সমর্থককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত যুবকের নাম কিষাণ হালদার (২৮)। বুধবার রাতের এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কিষাণ হালদারের পাশাপাশি তাঁর আরও দুই বন্ধু এই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে কলকাতার বেলেঘাটায় নির্বাচনের দিন তৃণমূলের এক বুথ এজেন্টকে হত্যার অভিযোগও সামনে এসেছে। বিজেপির পক্ষ থেকেও পাল্টা অভিযোগ উঠেছে।

নিউ টাউন এবং হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে পৃথক ঘটনায় দুইজন বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন বলে দলটি দাবি করেছে। এই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই উত্তাপ ছড়িয়েছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতির শান্তির বার্তার নিচে এক ব্যবহারকারীকে প্রশ্ন করতে দেখা গেছে, আমরা কি ওদের একটুও মারতে পারব না?

মঙ্গলবার রাতে কলকাতার ভবানীপুরে তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। ৮২ বছর বয়সী এই নেতা জানান, ১০ জন লোক এসে আমাকে গালিগালাজ করে। যে লোকটির নেতৃত্বে ওরা এসেছিল, সে কয়েক বছর আগে আমার অধীনেই কাজ করত। সে হুমকি দিয়েছে, আমি বাড়ির বাইরে বেরোলে আমাকে মেরে ফেলবে। এই ঘটনায় তিনি কালীঘাট থানায় অভিযোগ করেছেন। আতঙ্কে তিনি তার নাতনিকে স্কুলে পাঠাননি এবং তার ছেলেও কাজে যাননি।

সহিংসতা দমনে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এর পরপরই কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ জানান, শহরে এ পর্যন্ত ৮০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শহরে বুলডোজার বা জেসিবি নিয়ে কোনও মিছিল করা যাবে না। কেউ যদি ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করে, তবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেসিবি মালিকদেরও সতর্ক করা হয়েছে যাতে তারা এ ধরনের কাজে গাড়ি ভাড়া না দেন।
রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে তান্ডব চালানোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব বিষয়ে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

এদিকে ভোট পরবর্তী এই সহিংসতা ঠেকাতে নির্বাচনের আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, কেন্দ্রীয় বাহিনী আরও দুই মাস পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান করবে। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতেই এই ধরনের প্রাণহানি ও সংঘর্ষের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক সিদ্ধনাথ গুপ্ত গতকাল বুধবার জানান, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচন–পরবর্তী সহিংস ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ ৪৮ ঘণ্টায় রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে চার শতাধিক মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন। আটক করা হয়েছে আরও প্রায় ১ হাজার ১০০ জনকে।

কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার নন্দ সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা যে–ই করুক না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুষ্কৃতকারীদের ধরতে ‘বিশেষ অভিযান’ চলছে জানিয়ে পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, কলকাতা পুলিশের আওতাধীন এলাকাগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৬৫ জন সুনির্দিষ্ট মামলায়, বাকি ১৫ জন আগাম সুরক্ষামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

 

শেয়ার করুন

স্কুলবাসে উঠে শিশুদের 'জয় শ্রীরাম' স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়

পশ্চিমবঙ্গজুড়ে নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬

আপডেট সময় : ১২:১১:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। নির্বাচনের আগে বা ভোটগ্রহণের দিন বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও, ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে।

সর্বশেষ তথ্যানুসারে, রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার জেরে অন্তত ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। এসব ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিয়ে একদল ব্যক্তি বুলডোজার (জেসিবি) ব্যবহার করে তৃণমূলের একটি কার্যালয়সহ পাশে থাকা একটি মুরগির দোকান ও শিশুদের পোশাকের দোকান গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি কলকাতায় বুধবার সকালে শহরের একটি পরিচিত বিদ্যালয়ের স্কুলবাসের সহকারী শিশুদের ‘জোরপূর্বক’ ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে বাধ্য করেছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে।

দেশটির উত্তর ২৪ পরগণার সন্দেশখালির ন্যাজাটে দুই রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষ থামাতে যাওয়ার পর ওসি ভরত প্রসূন করসহ তিন পুলিশ সদস্যের ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং ব্যাপক পুলিশি টহল বসানো হয়েছে।

সহিংসতার ঘটনায় বীরভূমের নানুর থানার সন্তোষপুর গ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ সভাপতি আবির শেখকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত ৪৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
উত্তর ২৪ পরগনার নাজাতে দুপক্ষের গোলাগুলিতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় দোকানদারদের কাছ থেকে টাকা তুলতে বাধা দেওয়ায় নিজের দলেরই এক নেতার ওপর হামলা চালিয়েছে একদল বিজেপি সমর্থক।

সর্বশেষ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। একইরাতে মালদায় ইংরেজবাজার পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের গাদুয়ামোড় এলাকায় এক বিজেপি সমর্থককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত যুবকের নাম কিষাণ হালদার (২৮)। বুধবার রাতের এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কিষাণ হালদারের পাশাপাশি তাঁর আরও দুই বন্ধু এই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে কলকাতার বেলেঘাটায় নির্বাচনের দিন তৃণমূলের এক বুথ এজেন্টকে হত্যার অভিযোগও সামনে এসেছে। বিজেপির পক্ষ থেকেও পাল্টা অভিযোগ উঠেছে।

নিউ টাউন এবং হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে পৃথক ঘটনায় দুইজন বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন বলে দলটি দাবি করেছে। এই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই উত্তাপ ছড়িয়েছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতির শান্তির বার্তার নিচে এক ব্যবহারকারীকে প্রশ্ন করতে দেখা গেছে, আমরা কি ওদের একটুও মারতে পারব না?

মঙ্গলবার রাতে কলকাতার ভবানীপুরে তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। ৮২ বছর বয়সী এই নেতা জানান, ১০ জন লোক এসে আমাকে গালিগালাজ করে। যে লোকটির নেতৃত্বে ওরা এসেছিল, সে কয়েক বছর আগে আমার অধীনেই কাজ করত। সে হুমকি দিয়েছে, আমি বাড়ির বাইরে বেরোলে আমাকে মেরে ফেলবে। এই ঘটনায় তিনি কালীঘাট থানায় অভিযোগ করেছেন। আতঙ্কে তিনি তার নাতনিকে স্কুলে পাঠাননি এবং তার ছেলেও কাজে যাননি।

সহিংসতা দমনে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এর পরপরই কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ জানান, শহরে এ পর্যন্ত ৮০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শহরে বুলডোজার বা জেসিবি নিয়ে কোনও মিছিল করা যাবে না। কেউ যদি ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করে, তবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেসিবি মালিকদেরও সতর্ক করা হয়েছে যাতে তারা এ ধরনের কাজে গাড়ি ভাড়া না দেন।
রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে তান্ডব চালানোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব বিষয়ে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

এদিকে ভোট পরবর্তী এই সহিংসতা ঠেকাতে নির্বাচনের আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, কেন্দ্রীয় বাহিনী আরও দুই মাস পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান করবে। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতেই এই ধরনের প্রাণহানি ও সংঘর্ষের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক সিদ্ধনাথ গুপ্ত গতকাল বুধবার জানান, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচন–পরবর্তী সহিংস ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ ৪৮ ঘণ্টায় রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে চার শতাধিক মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন। আটক করা হয়েছে আরও প্রায় ১ হাজার ১০০ জনকে।

কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার নন্দ সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা যে–ই করুক না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুষ্কৃতকারীদের ধরতে ‘বিশেষ অভিযান’ চলছে জানিয়ে পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, কলকাতা পুলিশের আওতাধীন এলাকাগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৬৫ জন সুনির্দিষ্ট মামলায়, বাকি ১৫ জন আগাম সুরক্ষামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছেন।