পুলিশ বলছে হত্যাকারী যুবক মানসিক বিকারগ্রস্ত
ফরিদপুরে দাদি ও ফুফুসহ তিনজনকে কুপিয়ে হত্যা
- আপডেট সময় : ০১:০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
- / 151
ফরিদপুরে আপন দাদি ও ফুপু সহ তিনজনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে এক যুবক। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাংগি গ্রামের খুশির বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে । ঘটনাস্থলেই ওই তিনজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া এ ঘটনায় আহত আরো দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় জড়িত যুবক মানসিক বিকারগ্রস্ত। তিনজনকে কুপিয়ে হত্যার পর হাতে ধারালো অস্ত্র নিয়েই সে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গদাধরডাঙ্গী গ্রামের হারুন মোল্লার ছেলে আকাশ (২৮) সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে তার দাদি আমেনা বেগম (৭৫), ফুফু সালেহা বেগমকে (৫৫) হত্যা করে। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। এসময় তাদের বাঁচাতে প্রতিবেশী কাবুল চৌধুরী (৪৯) এগিয়ে আসলে তাকেও কুপিয়ে হত্যা করে আকাশ। এরপর বাড়ির পাশে চক দিয়ে কোদাল হাতেই সে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় রিয়াজুল ইসলাম (৩৮) ও আরজিনা বেগম (৩৮) নামের আরো দুজন প্রতিবেশী আহত হয়েছেন। এলাকাবাসী তাঁদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে তৎক্ষণাত আমরা ঘটনাস্থলে যাই। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত আকাশ মানসিক বিকারগ্রস্ত বলে উল্লেখ করে ওসি বলেন, আপন দাদি ও মাকে কুপিয়ে ধারালো কোদাল হাতে নিয়েই চক দিয়ে পালিয়ে যায় আকাশ। তবে আকাশ মানসিক বিকারগ্রস্ত বলে জেনেছি। এর আগে সে টিবি হসপিটালে চাকরি করতো। মানসিক বিকারগ্রস্ততার কারণেই তার সেই চাকরি চলে যায়। এছাড়া স্থানীয়রাও জানিয়েছে যে, আকাশ মানসিক বিকারগ্রস্ত। আকাশকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে বলে ওসি জানান।
আলিয়াবাদ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. রাজ্জাক শেখ বলেন, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আকাশ কোদাল দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে তাঁর দাদি ও ফুফুকে হত্যা করে। এ সময় পাশের বাড়ির কাবুল চৌধুরী সহ আরো দুজন তাদের বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাদেরও আহত করে। এতে কাবুল চৌধুরীও ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যাওয়া হবে।












