০৪:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
ফরিদপুরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন মুম্বাই বিমানবন্দরে ১২ কোটি রুপির মাদকসহ সাবেক ‘মিসেস কেরালা’ প্রতিযোগী গ্রেপ্তার সকলকে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকতে হবে -পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আগ্রহের কেন্দ্রে ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির নির্বাচন বিশ্বকাপে প্রথম খেলায় চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে কোরিয়ার জয় প্রতারক সন্দেহে খাসি ব্যবসায়ীকে বাড়িতে ডেকে মহিলাদের নির্যাতন, টাকা লুটের অভিযোগ লাল কার্ডের রেকর্ডেও উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের ধারায় মেক্সিকো দাঙ্গা আর মামলার ঝক্কি এড়িয়ে শান্তি ফিরবে কি অশান্ত সালথায়? নীরব ঘাতক ‘ফ্যাটি লিভার’: সচেতনতাই সুস্থ লিভারের চাবিকাঠি স্কুলের সামনে বিটুমিন পোড়ানোর ধোঁয়ায় অসুস্থ্য কোমলমতি শিক্ষার্থীরা

বন্ধ পাম্পে মিললো ২৮ হাজার লিটার তেল : ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৫:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
  • / 47

পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুত রেখেও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে ফরিদপুরের হোসেন ফিলিং স্টেশনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল পৌনে ৪টা পর্যন্ত চলা অভিযানে পাম্পটিতে প্রায় ২৮ হাজার লিটার পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের অবৈধ মজুত পাওয়া যায়। সদর উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে এই অভিযানে অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া। অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলাম, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দীপ্ত চক্রবর্তী এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব রহমান আকাশ।

অভিযান চলাকালে প্রথমে কানাইপুর বাজারের দুলাল কুণ্ডুর দোকান, গুদাম ও বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। তবে সেখানে অনুমোদিত মাত্রায় ডিজেল পাওয়া গেলেও অবৈধ কোনো পেট্রোল বা অকটেনের মজুত পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী হোসেন ফিলিং স্টেশনে আকস্মিক অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাম্পটি বন্ধ অবস্থায় পাওয়া গেলেও তদন্তে দেখা যায়, সেখানে ৭০০০ লিটার পেট্রোল, ৬৫০০ লিটার অকটেন এবং ১৪৫০০ লিটার ডিজেল মজুত রয়েছে। পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ গ্রাহকদের কাছে তেল সরবরাহ না করার প্রমাণ সরাসরি পাওয়ায় যায়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী এই অপরাধে পাম্পের ম্যানেজার সাবির চৌধুরীকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এ সময় পাম্প কর্তৃপক্ষ নিজেদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আদালতের নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে পাম্পটি সকল সাধারণ গ্রাহকের (বাস, ট্রাক, প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেল) জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

একই এলাকায় অবস্থিত রয়েল ফিলিং স্টেশনেও অভিযান পরিচালনা করে প্রশাসন। সেখানে শুধু ডিজেল বিক্রি এবং পেট্রোল-অকটেনের পাম্প বন্ধ পাওয়া যায়। মজুত যাচাই করে দেখা যায়, পাম্পটিতে ৩০০০ লিটার পেট্রোল, ৩৪০০ লিটার অকটেন এবং ১৯০০০ লিটার ডিজেল রয়েছে। তবে পাম্প কর্তৃপক্ষ কারিগরি ত্রুটির দোহাই দিয়ে ক্ষমা চাইলে এবং দ্রুত সরবরাহ লাইন চালু করে দেওয়ায় তাদের কোনো অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়নি। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে ওই এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেল সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

শেয়ার করুন

বন্ধ পাম্পে মিললো ২৮ হাজার লিটার তেল : ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

আপডেট সময় : ০৯:৩৫:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুত রেখেও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে ফরিদপুরের হোসেন ফিলিং স্টেশনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল পৌনে ৪টা পর্যন্ত চলা অভিযানে পাম্পটিতে প্রায় ২৮ হাজার লিটার পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের অবৈধ মজুত পাওয়া যায়। সদর উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে এই অভিযানে অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া। অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলাম, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দীপ্ত চক্রবর্তী এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব রহমান আকাশ।

অভিযান চলাকালে প্রথমে কানাইপুর বাজারের দুলাল কুণ্ডুর দোকান, গুদাম ও বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। তবে সেখানে অনুমোদিত মাত্রায় ডিজেল পাওয়া গেলেও অবৈধ কোনো পেট্রোল বা অকটেনের মজুত পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী হোসেন ফিলিং স্টেশনে আকস্মিক অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাম্পটি বন্ধ অবস্থায় পাওয়া গেলেও তদন্তে দেখা যায়, সেখানে ৭০০০ লিটার পেট্রোল, ৬৫০০ লিটার অকটেন এবং ১৪৫০০ লিটার ডিজেল মজুত রয়েছে। পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ গ্রাহকদের কাছে তেল সরবরাহ না করার প্রমাণ সরাসরি পাওয়ায় যায়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী এই অপরাধে পাম্পের ম্যানেজার সাবির চৌধুরীকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এ সময় পাম্প কর্তৃপক্ষ নিজেদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আদালতের নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে পাম্পটি সকল সাধারণ গ্রাহকের (বাস, ট্রাক, প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেল) জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

একই এলাকায় অবস্থিত রয়েল ফিলিং স্টেশনেও অভিযান পরিচালনা করে প্রশাসন। সেখানে শুধু ডিজেল বিক্রি এবং পেট্রোল-অকটেনের পাম্প বন্ধ পাওয়া যায়। মজুত যাচাই করে দেখা যায়, পাম্পটিতে ৩০০০ লিটার পেট্রোল, ৩৪০০ লিটার অকটেন এবং ১৯০০০ লিটার ডিজেল রয়েছে। তবে পাম্প কর্তৃপক্ষ কারিগরি ত্রুটির দোহাই দিয়ে ক্ষমা চাইলে এবং দ্রুত সরবরাহ লাইন চালু করে দেওয়ায় তাদের কোনো অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়নি। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে ওই এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেল সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।