দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ডুবে যাওয়া বাস থেকে ২৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার
- আপডেট সময় : ১২:২৮:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
- / 42
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরি-ঘাটের পন্টুন থেকে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ফায়ার সার্ভিস এ তথ্য জানায়।
এর আগে বুধবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীসহ পদ্মায় ডুবে যায় কুষ্টিায়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহন নামে বাসটি। এরপর বাসটি উদ্ধারকারে কাজে নামে অদূরেই অবস্থান করা উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, বাসের ভেতর থেকে ২৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ১১ জন নারী এবং ৫ জন শিশু (৪ জন ছেলে ও ১ জন মেয়ে) রয়েছে।
সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে। এর মধ্যে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার করেছে ২৩ জন, স্থানীয়দের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া ২ জনকে হাসপাতালে মৃত ঘোষণা করা হয় এবং নৌবাহিনীর ডুবুরিরা উদ্ধার করেন ১ জন।
উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট ও ১০ জন ডুবুরি অংশ নেন। এছাড়া সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, কোস্টগার্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে উদ্ধারকাজে অংশগ্রহণ করেন।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ২৪ জনের মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় । এ ঘটনায় দুর্ঘটনা কবলিতদের মধ্যে ৭ জন যাত্রী জীবিত উদ্ধার হন। এর আগে বুধবাররাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রায় ছয় ঘণ্টা চেষ্টার পর পানির নিচে থেকে ধীরে ধীরে বাসটি উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, দুর্ঘটনায় বাসে থাকা দু’জন যাত্রী এখনো দু’জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান জানিয়েছেন, রাজবাড়ী জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে উছেন মে কে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা তিন কার্য দিবসের মধ্যে তাদের রিপোর্ট প্রদান করবেন।
এছাড়া নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মহিউদ্দিন ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। তারাও তিন কার্য দিবসের মধ্যে রিপোর্ট দেবেন। রিপোর্টের পরেই আমরা জানতে পারব আসলে কী ঘটনা ঘটেছিল।
এদিকে লাশ দাফনের জন্য প্রতি পরিবারকে পঁচিশ হাজার টাকা করে দেয়া হবে। এছাড়া আহতদের ১৫ হাজার টাকা করে দেয়া হবে। এরপর মৃতের পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সরকার।














