০৮:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
ফরিদপুরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন মুম্বাই বিমানবন্দরে ১২ কোটি রুপির মাদকসহ সাবেক ‘মিসেস কেরালা’ প্রতিযোগী গ্রেপ্তার সকলকে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকতে হবে -পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আগ্রহের কেন্দ্রে ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির নির্বাচন বিশ্বকাপে প্রথম খেলায় চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে কোরিয়ার জয় প্রতারক সন্দেহে খাসি ব্যবসায়ীকে বাড়িতে ডেকে মহিলাদের নির্যাতন, টাকা লুটের অভিযোগ লাল কার্ডের রেকর্ডেও উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের ধারায় মেক্সিকো দাঙ্গা আর মামলার ঝক্কি এড়িয়ে শান্তি ফিরবে কি অশান্ত সালথায়? নীরব ঘাতক ‘ফ্যাটি লিভার’: সচেতনতাই সুস্থ লিভারের চাবিকাঠি স্কুলের সামনে বিটুমিন পোড়ানোর ধোঁয়ায় অসুস্থ্য কোমলমতি শিক্ষার্থীরা

বাড়ি ভাড়া চাওয়ায় এর আগে এক নারীকেও গুলি করতে যান গোলাম কবির

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:১৭:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
  • / 96

পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে ছোট ভাই মিন্টু মিয়াকে গুলি করে হত্যাকারী গোলাম কবির এর আগে একজন নারীকেও তাঁর শর্ট গান উঁচিয়ে গুলি করতে উদ্যত হয়েছিলেন। পরে স্থানীয়রা তাকে নিবৃত্ত করে। তবে সেই সময় ক্ষমতাসীন দলের দাপটে ওই ঘটনার কোন বিচার পাননি ভুক্তভোগী ওই নারী।

২০২৩ সালের ৬ জুলাই ওই ঘটনা ঘটে। জানা যায়, বোয়ালমারী পৌরসদরের চৌরাস্তা সংলগ্ন জনৈকা সালমা খানের মালিকানাধীন বহুতল ভবন ‘খান প্লাজা’ ভাড়া নিয়ে ডা. গোলাম কবির তার নিজ নামে একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট’ চালু করেন। কিন্তু তিনি দীর্ঘদিন খান প্লাজার মালিক সালমা বেগমকে চুক্তি মাফিক বাড়ি ভাড়া পরিশোধ করেননি। এ নিয়ে বিবাদের এক পর্যায়ে গোলাম কবির ও ভবন মালিক সালমা বেগমের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার এক পর্যায়ে ডা. গোলাম কবির শর্টগান উঁচিয়ে সালমা বেগমকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। খবর পেয়ে এ সময় স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ডা. গোলাম কবিরকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
কে এই গোলাম কবির:

জানা গেছে, চতুল গ্রামের সাবেক স্কুল মাস্টার মো: ইসহাক মিয়ার ৬ ছেলে, ১ মেয়ের মধ্যে গোলাম কবির বড়। আর মিন্টু মিয়া চতুর্থ। তাদের এক বোনও রয়েছে।

ডা. গোলাম কবির একজন অর্থোপিডিক্স সার্জন। ২০১১-১২ সালের দিকে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (সুপার) হন। তাঁর আগে তিনি শহীদ সরোয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপিডিক্সের অধ্যাপক ছিলেন বলে জানা যায়। ফরিদপুর শহরের হাসিবুল হাসান লাবলু সড়কের পাশে একটি অখ্যাত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তাঁর রোগী দেখার চেম্বার রয়েছে।

তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং জেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি ও আওয়ামী লীগের উপকমিটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সাবেক সদস্য ২০২৬ সালের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা-মধুখালী) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে তৎপরতা চালান। বোয়ালমারীতে ‘প্রফেসর ডা. গোলাম কবীর নার্সিং ইনস্টিটিউট ও কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেছেন।

বিত্তবৈভবে বড় ভাই গোলাম কবির এগিয়ে থাকলেও ছোট ভাই মিন্টু মিয়া অন্যের একটি ডিশ লাইনের বিল কালেকশন ও পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমাজমি দেখাশোনা করে সংসার চালান। তাঁর স্ত্রী ও এক মেয়ে রয়েছে।

বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার হোসেন হত্যাকান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ডা. গোলাম কবিরকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রসঙ্গত, বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের পেছনে রেলগেট এলাকায় তিনি গুলি করে তাঁর ছোট ভাইকে হত্যা করেন। ৭২ বছর বয়সী ডা. গোলাম কবির তার ৫২ বছর বয়সী ছোট ভাই মিন্টুকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঘটনাস্থলে ডেকে নিয়ে যান।

সেখানে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তিনি মিন্টুকে লক্ষ্য করে পরপর ছয় রাউন্ড গুলি করেন। এতে ঘটনাস্থলেই মিন্টুর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন ছুটে এসে অভিযুক্ত ডা. গোলাম কবিরকে আটক করে মারধর করে। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ সময় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তের ব্যবহৃত গাড়িটি ভাঙচুর করে।

শেয়ার করুন

বাড়ি ভাড়া চাওয়ায় এর আগে এক নারীকেও গুলি করতে যান গোলাম কবির

আপডেট সময় : ০১:১৭:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে ছোট ভাই মিন্টু মিয়াকে গুলি করে হত্যাকারী গোলাম কবির এর আগে একজন নারীকেও তাঁর শর্ট গান উঁচিয়ে গুলি করতে উদ্যত হয়েছিলেন। পরে স্থানীয়রা তাকে নিবৃত্ত করে। তবে সেই সময় ক্ষমতাসীন দলের দাপটে ওই ঘটনার কোন বিচার পাননি ভুক্তভোগী ওই নারী।

২০২৩ সালের ৬ জুলাই ওই ঘটনা ঘটে। জানা যায়, বোয়ালমারী পৌরসদরের চৌরাস্তা সংলগ্ন জনৈকা সালমা খানের মালিকানাধীন বহুতল ভবন ‘খান প্লাজা’ ভাড়া নিয়ে ডা. গোলাম কবির তার নিজ নামে একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট’ চালু করেন। কিন্তু তিনি দীর্ঘদিন খান প্লাজার মালিক সালমা বেগমকে চুক্তি মাফিক বাড়ি ভাড়া পরিশোধ করেননি। এ নিয়ে বিবাদের এক পর্যায়ে গোলাম কবির ও ভবন মালিক সালমা বেগমের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার এক পর্যায়ে ডা. গোলাম কবির শর্টগান উঁচিয়ে সালমা বেগমকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। খবর পেয়ে এ সময় স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ডা. গোলাম কবিরকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
কে এই গোলাম কবির:

জানা গেছে, চতুল গ্রামের সাবেক স্কুল মাস্টার মো: ইসহাক মিয়ার ৬ ছেলে, ১ মেয়ের মধ্যে গোলাম কবির বড়। আর মিন্টু মিয়া চতুর্থ। তাদের এক বোনও রয়েছে।

ডা. গোলাম কবির একজন অর্থোপিডিক্স সার্জন। ২০১১-১২ সালের দিকে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (সুপার) হন। তাঁর আগে তিনি শহীদ সরোয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপিডিক্সের অধ্যাপক ছিলেন বলে জানা যায়। ফরিদপুর শহরের হাসিবুল হাসান লাবলু সড়কের পাশে একটি অখ্যাত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তাঁর রোগী দেখার চেম্বার রয়েছে।

তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং জেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি ও আওয়ামী লীগের উপকমিটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সাবেক সদস্য ২০২৬ সালের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা-মধুখালী) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে তৎপরতা চালান। বোয়ালমারীতে ‘প্রফেসর ডা. গোলাম কবীর নার্সিং ইনস্টিটিউট ও কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেছেন।

বিত্তবৈভবে বড় ভাই গোলাম কবির এগিয়ে থাকলেও ছোট ভাই মিন্টু মিয়া অন্যের একটি ডিশ লাইনের বিল কালেকশন ও পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমাজমি দেখাশোনা করে সংসার চালান। তাঁর স্ত্রী ও এক মেয়ে রয়েছে।

বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার হোসেন হত্যাকান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ডা. গোলাম কবিরকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রসঙ্গত, বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের পেছনে রেলগেট এলাকায় তিনি গুলি করে তাঁর ছোট ভাইকে হত্যা করেন। ৭২ বছর বয়সী ডা. গোলাম কবির তার ৫২ বছর বয়সী ছোট ভাই মিন্টুকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঘটনাস্থলে ডেকে নিয়ে যান।

সেখানে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তিনি মিন্টুকে লক্ষ্য করে পরপর ছয় রাউন্ড গুলি করেন। এতে ঘটনাস্থলেই মিন্টুর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন ছুটে এসে অভিযুক্ত ডা. গোলাম কবিরকে আটক করে মারধর করে। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ সময় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তের ব্যবহৃত গাড়িটি ভাঙচুর করে।