০২:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
ছিলেন না নায়াব ইউসুফ, মিটিং কাভার করতে পারলেন না সাংবাদিকেরা “হাজী শরিয়তুল্লাহদের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৪৭ পাওয়ার কারণেই আমরা ৭১ পেয়েছি” একসাথে ৩ মেলার সমালোচনা : জবাবে যা বললেন নারী উদ্যোক্তা লুবাবা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সেই নেতারা এখন কে কোথায় নদীর নাম মালঞ্চ পেয়েছে সরকারি স্বীকৃতি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ‘ডিজিটাল ইভটিজিং’ ইস্যুতে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে তোলপাড় আমার মুর্শিদ হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ভাঙ্গায় পিকআপ-পরিবহন মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩০ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছে তেলবাহী তিনটি সুপার ট্যাংকার ইরানে-যুক্তরাষ্ট্র শাস্তি আলোচনা সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হলো
বিশ্ব পানি দিবস ২০২৬

পদ্মাপাড়ের জনপদে সুপেয় পানির সঙ্কট বাড়ছে

হারুন আনসারী
  • আপডেট সময় : ০৩:১১:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬
  • / 70

আজ ২২ মার্চ, বিশ্ব পানি দিবস ২০২৬। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়- “যেখানে পানির প্রবাহ, সেখানে সাম্যের জয়।” এর মূল লক্ষ্য হলো পানি সংকটের কারণে নারীরা যে বৈষম্যের শিকার হন, তা দূর করা এবং পানি ব্যবস্থাপনায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন এবং নিরাপদ পানির অভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৪০ মিলিয়ন নারী ও কন্যা শিশু এমন এলাকায় বাস করে যেখানে পানির তীব্র সংকট রয়েছে। নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত হলে মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার হার এবং নারীদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উজানে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে পদ্মায় চর জেগে উঠেছে। অতিরিক্ত গভীর নলকূপ স্থাপনের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছরই কিছুটা নিচে নেমে যাচ্ছে। এতে গ্রীষ্মকালে সাধারণ পাম্পে পানি পেতে সমস্যা হয়। পদ্মার নাব্যতা সংকটের পাশাপাশি বাড়ছে লবণাক্ততার প্রভাব। উপকূলীয় অঞ্চলে পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং উত্তরাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ার চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাই নদীমাতৃক বাংলাদেশে পানি ব্যবস্থাপনা ও আগামী দিনের চ্যালেঞ্জগুলো বেশ গুরুত্ব বহন করে।

আর্সেনিক ও আয়রনের কারণে পানি এখন বিষ:

ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা এখনো একটি বড় উদ্বেগের কারণ। শহরের অনেক এলাকায় পানিতে অতিরিক্ত আয়রন থাকায় তা পানের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। ফরিদপুর পৌরসভা এলাকায় পৌর কর্তৃপক্ষ একসময় বিনামূল্যে পানি সরবরাহ করতো। সেই পানি ছিলো পানের উপযোগী বিশুদ্ধ। এখন বাসাবাড়িতে পানির লাইনের জন্য সর্বনিম্ন আড়াইশো টাকা মাসিক বিল দিতে হয়। কিন্তু সেই পানি পান করা যায়না। আয়রন সহ নানা জীবানু থাকায় সেটি শুধু গৃহস্থালি কাজেই ব্যবহার করে শহরের মানুষ। পানির চাহিদা বাড়লেও পুরনো পাইপলাইন ও সীমিত উৎপাদন ক্ষমতার কারণে সব নাগরিকের কাছে পর্যাপ্ত এবং বিশুদ্ধ পানি পৌঁছানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

পানি দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য অনুযায়ী, চরাঞ্চলের নারীদের জীবনযাত্রা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। চর এলাকায় নিরাপদ পানির জন্য নারীদের মাইলের পর মাইল হাঁটতে হয়। পানির অভাবে কৃষি ও গবাদি পশু পালনে নারীদের শ্রম অনেক বেড়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফরিদপুরে তাঁর নির্বাচনী জনসভায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে গেছেন। এই মুহুর্তে তাঁর এই পরিকল্পনা কতটা বাস্তবসম্মত তা আজ এই পানি দিবসে আবার আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে।

পরিবেশবিদদের মতে, কেবল ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করে পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তারা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং পদ্মা নদীর পানি শোধন করে সরবরাহ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন। এছাড়া শহরের পুকুর ও প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো দখলমুক্ত করে সংস্কার করা এখন সময়ের দাবি।

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ব্যবহার বাড়ানোর জন্য বৃষ্টির পানি সংগ্রহের ব্যবস্থা করতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তি (যেমন- ড্রিপ ইরিগেশন) ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ও শিল্প পর্যায়ে পানির অপচয় বন্ধ করতে হবে। নদ-নদীগুলোকে দখল ও দূষণমুক্ত করে নদী রক্ষা করতে হবে।

সাম্যের জয় নিশ্চিত করতে হলে চরাঞ্চলে কমিউনিটি-ভিত্তিক নিরাপদ পানির প্ল্যান্ট স্থাপন করা জরুরি। এজন্য সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনতে হবে। আমাদের সুপেয় পানির সংকটও পূরণ করতে হবে। এজন্য দরকার সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট স্থাপন করে পদ্মা নদীর পানি শোধন করে সরবরাহ বাড়ানো।
পুকুর ও জলাশয় সংস্কার এখন অত্যাবশ্যক হয়ে উঠেছে। প্রাচীণ ঐতিহ্যবাহী পুকুরগুলো সংস্কার করে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করতে হবে।
আর আর্সেনিক মুক্ত পানির সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকারিভাবে আরও বেশি গভীর নলকূপ স্থাপন নিশ্চিত করা।

পানি কেবল একটি প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি একটি মানবাধিকার। আজকের সচেতনতাই পারে আগামীর প্রজন্মের জন্য এক গ্লাস নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে। পানি ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে তৃণমূল পর্যায়ের নারীদের সম্পৃক্ত করাটা এখন সময়ের দাবি।

শেয়ার করুন

বিশ্ব পানি দিবস ২০২৬

পদ্মাপাড়ের জনপদে সুপেয় পানির সঙ্কট বাড়ছে

আপডেট সময় : ০৩:১১:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

আজ ২২ মার্চ, বিশ্ব পানি দিবস ২০২৬। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়- “যেখানে পানির প্রবাহ, সেখানে সাম্যের জয়।” এর মূল লক্ষ্য হলো পানি সংকটের কারণে নারীরা যে বৈষম্যের শিকার হন, তা দূর করা এবং পানি ব্যবস্থাপনায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন এবং নিরাপদ পানির অভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৪০ মিলিয়ন নারী ও কন্যা শিশু এমন এলাকায় বাস করে যেখানে পানির তীব্র সংকট রয়েছে। নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত হলে মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার হার এবং নারীদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উজানে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে পদ্মায় চর জেগে উঠেছে। অতিরিক্ত গভীর নলকূপ স্থাপনের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছরই কিছুটা নিচে নেমে যাচ্ছে। এতে গ্রীষ্মকালে সাধারণ পাম্পে পানি পেতে সমস্যা হয়। পদ্মার নাব্যতা সংকটের পাশাপাশি বাড়ছে লবণাক্ততার প্রভাব। উপকূলীয় অঞ্চলে পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং উত্তরাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ার চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাই নদীমাতৃক বাংলাদেশে পানি ব্যবস্থাপনা ও আগামী দিনের চ্যালেঞ্জগুলো বেশ গুরুত্ব বহন করে।

আর্সেনিক ও আয়রনের কারণে পানি এখন বিষ:

ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা এখনো একটি বড় উদ্বেগের কারণ। শহরের অনেক এলাকায় পানিতে অতিরিক্ত আয়রন থাকায় তা পানের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। ফরিদপুর পৌরসভা এলাকায় পৌর কর্তৃপক্ষ একসময় বিনামূল্যে পানি সরবরাহ করতো। সেই পানি ছিলো পানের উপযোগী বিশুদ্ধ। এখন বাসাবাড়িতে পানির লাইনের জন্য সর্বনিম্ন আড়াইশো টাকা মাসিক বিল দিতে হয়। কিন্তু সেই পানি পান করা যায়না। আয়রন সহ নানা জীবানু থাকায় সেটি শুধু গৃহস্থালি কাজেই ব্যবহার করে শহরের মানুষ। পানির চাহিদা বাড়লেও পুরনো পাইপলাইন ও সীমিত উৎপাদন ক্ষমতার কারণে সব নাগরিকের কাছে পর্যাপ্ত এবং বিশুদ্ধ পানি পৌঁছানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

পানি দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য অনুযায়ী, চরাঞ্চলের নারীদের জীবনযাত্রা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। চর এলাকায় নিরাপদ পানির জন্য নারীদের মাইলের পর মাইল হাঁটতে হয়। পানির অভাবে কৃষি ও গবাদি পশু পালনে নারীদের শ্রম অনেক বেড়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফরিদপুরে তাঁর নির্বাচনী জনসভায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে গেছেন। এই মুহুর্তে তাঁর এই পরিকল্পনা কতটা বাস্তবসম্মত তা আজ এই পানি দিবসে আবার আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে।

পরিবেশবিদদের মতে, কেবল ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করে পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তারা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং পদ্মা নদীর পানি শোধন করে সরবরাহ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন। এছাড়া শহরের পুকুর ও প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো দখলমুক্ত করে সংস্কার করা এখন সময়ের দাবি।

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ব্যবহার বাড়ানোর জন্য বৃষ্টির পানি সংগ্রহের ব্যবস্থা করতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তি (যেমন- ড্রিপ ইরিগেশন) ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ও শিল্প পর্যায়ে পানির অপচয় বন্ধ করতে হবে। নদ-নদীগুলোকে দখল ও দূষণমুক্ত করে নদী রক্ষা করতে হবে।

সাম্যের জয় নিশ্চিত করতে হলে চরাঞ্চলে কমিউনিটি-ভিত্তিক নিরাপদ পানির প্ল্যান্ট স্থাপন করা জরুরি। এজন্য সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনতে হবে। আমাদের সুপেয় পানির সংকটও পূরণ করতে হবে। এজন্য দরকার সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট স্থাপন করে পদ্মা নদীর পানি শোধন করে সরবরাহ বাড়ানো।
পুকুর ও জলাশয় সংস্কার এখন অত্যাবশ্যক হয়ে উঠেছে। প্রাচীণ ঐতিহ্যবাহী পুকুরগুলো সংস্কার করে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করতে হবে।
আর আর্সেনিক মুক্ত পানির সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকারিভাবে আরও বেশি গভীর নলকূপ স্থাপন নিশ্চিত করা।

পানি কেবল একটি প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি একটি মানবাধিকার। আজকের সচেতনতাই পারে আগামীর প্রজন্মের জন্য এক গ্লাস নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে। পানি ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে তৃণমূল পর্যায়ের নারীদের সম্পৃক্ত করাটা এখন সময়ের দাবি।