০২:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সেই নেতারা এখন কে কোথায় নদীর নাম মালঞ্চ পেয়েছে সরকারি স্বীকৃতি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ‘ডিজিটাল ইভটিজিং’ ইস্যুতে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে তোলপাড় আমার মুর্শিদ হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ভাঙ্গায় পিকআপ-পরিবহন মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩০ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছে তেলবাহী তিনটি সুপার ট্যাংকার ইরানে-যুক্তরাষ্ট্র শাস্তি আলোচনা সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হলো পিংকের দখল নিয়ে ডিভোর্সী দম্পতির দ্বন্দ্ব, মাথা ফাটলো কর্মচারীর ইসরায়েলের বোমা হামলায় লেবাননে নিহত দিপালির পরিবার শোকে বাকরুদ্ধ চাঁদের পরিবেশ রেকি করে পৃথিবীতে ফিরলেন ৪ নভোচারী
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সম্মানিত উদ্যোগ জরুরি

যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনায় বাড়ছে নাগরিক দুর্ভোগ

আবরাব নাদিম ইতু
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৬:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
  • / 120

ফরিদপুর পৌরসভায় দীর্ঘদিন ধরেই ময়লা ব্যবস্থাপনায় চরম অব্যবস্থা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শহরের বিভিন্ন সড়ক, গলি ও জনবহুল এলাকায় যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় পরিবেশ দূষণ বাড়ছে। এতে নগরবাসী পড়ছেন নানা ভোগান্তিতে।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা-সমালোচনা তুঙ্গে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর মধ্যে থানার মোড়ে, সোনালী ব্যাংকের পিছনে, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা, পুরাতন বাস সংলগ্ন ময়লার ভাগাড়সহ অধিকাংশ নির্ধারিত ময়লা ফেলার স্থানগুলোতেই যত্রতত্র ময়লার স্তূপ জমে থাকতে দেখা যায়।

এদিকে প্রতিদিন ভোরে ময়লা অপসারণের কথা থাকলেও বাস্তবে এর ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যায়। বরং সকালের কর্মব্যস্ততার সময়েই পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের তৎপরতা দেখা যায়। ফলে সড়ক দিয়ে ময়লা নিয়ে যাওয়ার সময় চারপাশে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।

অন্যদিকে অনেক নাগরিকের মধ্যেও সচেতনতার অভাব রয়েছে। অনেকেই নির্ধারিত স্থানের বাইরে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দায়িত্বশীল নাগরিকদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, “ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান থাকলে শহর এভাবে অপরিচ্ছন্ন থাকত না।”তারা আরও বলেন, রাজনৈতিক জনপ্রতিনিধি না থাকাও এর অন্যতম কারণ। পাশাপাশি নিয়মিত ময়লা অপসারণ, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন, পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের তদারকি বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের সচেতন করার উদ্যোগ নিলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।

প্রায় দেড় মাস আগে মেডিকেলের সামনে বর্জ্য অপসারণে স্থায়ী উদ্যোগ নিয়েছিল ‘বাইসো’ নামের একটি সামাজিক সংগঠন। তারা এলাকাটি পরিষ্কার করে বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছ লাগিয়ে বেড়া দিয়ে সাজিয়ে দেয়। সংগঠনটির সভাপতি অন্তু আবির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“সামাজিক সংগঠনগুলোর মূল কাজ তো ময়লা পরিষ্কার করা নয়। তারপরও আমরা আমাদের জায়গা থেকে উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু পৌরসভা থেকে পর্যাপ্ত উদ্যোগের কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছি না। তারা যদি এগিয়ে না আসে, তাহলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।”

এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে দৈনিক অগ্নিপ্রহরকে জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আরিফীন কায়েছ মাহমুদ বলেন, “ময়লা ব্যবস্থাপনার বিষয়ে কয়েকদিন আগেও পৌরসভার দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরাও চাই শহরটা পরিষ্কার থাকুক। এতে যদি জেলা ছাত্রদলের কোনো সহযোগিতা লাগে, আমরা পাশে থাকব।”

ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবের আগে অনেক সময় পৌরসভা সড়কের দুই পাশে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করে স্তূপ করে রাখে। তবে অনেক সময় সেই ময়লা সময়মতো অপসারণ করা হয় না। ফলে কিছুদিন পর বাতাস ও যানবাহনের চাপে সেই ময়লা আবার রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে, যা পরিস্থিতিকে আগের চেয়েও খারাপ করে তোলে।

ময়লা ব্যবস্থাপনার সমাধান নিয়ে জানতে চাইলে দৈনিক অগ্নিপ্রহরকে ‘আমরা করবো জয়’ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শরিফ খান বলেন, “আমি যতদূর জানি, একটি বেসরকারি এনজিও পৌরসভার ময়লা সংগ্রহ করে থাকে। আমাদের দাবি থাকবে, পৌরসভা আরও উদ্যোগ নিয়ে প্রতিটি বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে খোলা ময়লার ভাগাড় না রেখে পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থাপনা গড়ে তুলবে।”

ময়লা অপসারণের ফরিদপুর পৌরসভার কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর বিকাশ দত্ত জানান, “আমাদের কাজ চলমান রয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে সকল ময়লা পরিষ্কার করে ফেলা হবে।”

শেয়ার করুন

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সম্মানিত উদ্যোগ জরুরি

যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনায় বাড়ছে নাগরিক দুর্ভোগ

আপডেট সময় : ০৫:৩৬:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

ফরিদপুর পৌরসভায় দীর্ঘদিন ধরেই ময়লা ব্যবস্থাপনায় চরম অব্যবস্থা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শহরের বিভিন্ন সড়ক, গলি ও জনবহুল এলাকায় যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় পরিবেশ দূষণ বাড়ছে। এতে নগরবাসী পড়ছেন নানা ভোগান্তিতে।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা-সমালোচনা তুঙ্গে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর মধ্যে থানার মোড়ে, সোনালী ব্যাংকের পিছনে, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা, পুরাতন বাস সংলগ্ন ময়লার ভাগাড়সহ অধিকাংশ নির্ধারিত ময়লা ফেলার স্থানগুলোতেই যত্রতত্র ময়লার স্তূপ জমে থাকতে দেখা যায়।

এদিকে প্রতিদিন ভোরে ময়লা অপসারণের কথা থাকলেও বাস্তবে এর ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যায়। বরং সকালের কর্মব্যস্ততার সময়েই পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের তৎপরতা দেখা যায়। ফলে সড়ক দিয়ে ময়লা নিয়ে যাওয়ার সময় চারপাশে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।

অন্যদিকে অনেক নাগরিকের মধ্যেও সচেতনতার অভাব রয়েছে। অনেকেই নির্ধারিত স্থানের বাইরে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দায়িত্বশীল নাগরিকদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, “ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান থাকলে শহর এভাবে অপরিচ্ছন্ন থাকত না।”তারা আরও বলেন, রাজনৈতিক জনপ্রতিনিধি না থাকাও এর অন্যতম কারণ। পাশাপাশি নিয়মিত ময়লা অপসারণ, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন, পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের তদারকি বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের সচেতন করার উদ্যোগ নিলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।

প্রায় দেড় মাস আগে মেডিকেলের সামনে বর্জ্য অপসারণে স্থায়ী উদ্যোগ নিয়েছিল ‘বাইসো’ নামের একটি সামাজিক সংগঠন। তারা এলাকাটি পরিষ্কার করে বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছ লাগিয়ে বেড়া দিয়ে সাজিয়ে দেয়। সংগঠনটির সভাপতি অন্তু আবির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“সামাজিক সংগঠনগুলোর মূল কাজ তো ময়লা পরিষ্কার করা নয়। তারপরও আমরা আমাদের জায়গা থেকে উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু পৌরসভা থেকে পর্যাপ্ত উদ্যোগের কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছি না। তারা যদি এগিয়ে না আসে, তাহলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।”

এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে দৈনিক অগ্নিপ্রহরকে জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আরিফীন কায়েছ মাহমুদ বলেন, “ময়লা ব্যবস্থাপনার বিষয়ে কয়েকদিন আগেও পৌরসভার দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরাও চাই শহরটা পরিষ্কার থাকুক। এতে যদি জেলা ছাত্রদলের কোনো সহযোগিতা লাগে, আমরা পাশে থাকব।”

ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবের আগে অনেক সময় পৌরসভা সড়কের দুই পাশে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করে স্তূপ করে রাখে। তবে অনেক সময় সেই ময়লা সময়মতো অপসারণ করা হয় না। ফলে কিছুদিন পর বাতাস ও যানবাহনের চাপে সেই ময়লা আবার রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে, যা পরিস্থিতিকে আগের চেয়েও খারাপ করে তোলে।

ময়লা ব্যবস্থাপনার সমাধান নিয়ে জানতে চাইলে দৈনিক অগ্নিপ্রহরকে ‘আমরা করবো জয়’ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শরিফ খান বলেন, “আমি যতদূর জানি, একটি বেসরকারি এনজিও পৌরসভার ময়লা সংগ্রহ করে থাকে। আমাদের দাবি থাকবে, পৌরসভা আরও উদ্যোগ নিয়ে প্রতিটি বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে খোলা ময়লার ভাগাড় না রেখে পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থাপনা গড়ে তুলবে।”

ময়লা অপসারণের ফরিদপুর পৌরসভার কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর বিকাশ দত্ত জানান, “আমাদের কাজ চলমান রয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে সকল ময়লা পরিষ্কার করে ফেলা হবে।”