০৮:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সেই নেতারা এখন কে কোথায় নদীর নাম মালঞ্চ পেয়েছে সরকারি স্বীকৃতি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ‘ডিজিটাল ইভটিজিং’ ইস্যুতে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে তোলপাড় আমার মুর্শিদ হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ভাঙ্গায় পিকআপ-পরিবহন মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩০ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছে তেলবাহী তিনটি সুপার ট্যাংকার ইরানে-যুক্তরাষ্ট্র শাস্তি আলোচনা সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হলো পিংকের দখল নিয়ে ডিভোর্সী দম্পতির দ্বন্দ্ব, মাথা ফাটলো কর্মচারীর ইসরায়েলের বোমা হামলায় লেবাননে নিহত দিপালির পরিবার শোকে বাকরুদ্ধ চাঁদের পরিবেশ রেকি করে পৃথিবীতে ফিরলেন ৪ নভোচারী

স্কুলের পাশেই বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্র জানেই না শিক্ষার্থীরা!

আবরাব নাদিম ইতু
  • আপডেট সময় : ০১:৩৫:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • / 263

ফরিদপুরের ঈশান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহিরা তাসনিমের কাছে বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সেবার বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরে সে জানায়, “আমি এই প্রথম বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নাম শুনলাম!”

অথচ শহরের ব্যস্ততম এলাকায়, জেলখানা ও ম্যাটসের পাশে অবস্থিত এই বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে তাঁর স্কুলের দুরত্ব মাত্র একশো মিটারও না। কিন্তু এ বিষয়ে স্কুল কিংবা স্বাস্থ্য কেন্দ্র, কোনদিক থেকেই তাঁকে জানানো হয়নি এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সেবা সম্মন্ধে।

মাহিরা তাসনিম এই বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্র সম্মন্ধে জানতে পেরে এটি তাদের জন্য খুবই উপকারি হতে পারে বলে জানায়। মাহিরার মতে, “মেয়েদের অনেক ছোটখাটো সমস্যা হয়, যেগুলো আমরা অনেক সময় কাউকে বলতে পারি না। যদি এমন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায়, তাহলে এসব সমস্যার জন্য সেখানে যেতে পারবো।”

মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ফরিদপুর বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্র। যেটির বয়স এখন প্রায় ৬১ বছর। ফরিদপুর জেলা শহরের মুজিব সড়কের পাশে জেলা কারাগারের ঈদগাহ ও ম্যাটস ভবনের মাঝামাঝি এই বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি স্থাপিত। কিন্তু প্রচার-প্রচারণা ও সচেতনতার অভাব ছাড়াও সীমিত কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সংকটের কারণে জেলার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এখনো বিদ্যালয় স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা ও সুফল সম্পর্কে জানেই না।তারা এর চিকিৎসা সেবা থেকেও বঞ্চিত।

ফরিদপুর জেলায় প্রায় ১৩শ’ থেকে ১৪শ’ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় লক্ষাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে সুদীর্ঘকাল পেরিয়ে গেলেও স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি এখনো শিক্ষার্থীদের কাছে তেমন পরিচিত হয়ে উঠতে পারেনি।

ফরিদপুর বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের গত ফেব্রুয়ারি মাসে মাত্র ৪০৬ জন শিক্ষার্থী এখানে চিকিৎসা সেবা নিয়েছে। এর মধ্যে ছাত্র ছিলো ২৫৩ জন এবং ছাত্রী ১৫৩ জন।
স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে দু’জন মেডিক্যাল অফিসারের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন। অন্যজন প্রেষণে (মূল কর্মস্থলের বাইরে) অন্য কোনো দপ্তরে কর্মরত। এছাড়া একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও একজন ফার্মাসিস্ট রয়েছেন। তবে জেলার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর তুলনায় এই জনবল অপর্যাপ্ত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, “এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি অনেক বছর আগে স্থাপিত হলেও শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অনেক শিক্ষকও এ ব্যাপারে পুরোপুরি অবগত নন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই কেন্দ্রটিকে শিক্ষার্থীদের কাছে পরিচিত করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তাহলেই এর প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে।”

ফরিদপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিব বলেন, “আমরা যখন স্কুলে পড়তাম তখন শুনেছিলাম যে এখানে একটি বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু কখনো যাওয়া হয়নি।”

সরেজমিনে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে গিয়ে দেখা যায়, শহরের ব্যস্ততম এলাকায় অবস্থিত হলেও কেন্দ্রটিতে সেবা নিতে আসা শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুবই কম। চিকিৎসক ও স্টাফগণ উপস্থিত থাকলেও অধিকাংশ সময় কেন্দ্রটি অনেকটাই নিরব ও ফাঁকা থাকে।

কর্তব্যরত মেডিক্যাল অফিসার ডা. এজিনা সুলতানা বলেন, “আমরা নিয়মিতভাবে এখান থেকে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছি। প্রয়োজনীয় সব ধরনের ওষুধের সরবরাহ রয়েছে এবং বিদ্যালয়গুলোতে সাপ্তাহিক ভিজিটও নিয়মিত চলছে।”

বিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামগ্রিক অবস্থা জানতে চাইলে ফরিদপুর জেলার সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান এই প্রতিবেদককে বলেন, “আমাদের এখানে ডাক্তার এবং পর্যাপ্ত ঔষধের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি সদর হাসপাতালের পাশে অবস্থিত হওয়ায় এখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হয়। তবে আমরা চেষ্টা করছি যাতে জেলার সব শিক্ষার্থীরা এই কেন্দ্রের স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারে।”

শেয়ার করুন

স্কুলের পাশেই বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্র জানেই না শিক্ষার্থীরা!

আপডেট সময় : ০১:৩৫:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

ফরিদপুরের ঈশান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহিরা তাসনিমের কাছে বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সেবার বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরে সে জানায়, “আমি এই প্রথম বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নাম শুনলাম!”

অথচ শহরের ব্যস্ততম এলাকায়, জেলখানা ও ম্যাটসের পাশে অবস্থিত এই বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে তাঁর স্কুলের দুরত্ব মাত্র একশো মিটারও না। কিন্তু এ বিষয়ে স্কুল কিংবা স্বাস্থ্য কেন্দ্র, কোনদিক থেকেই তাঁকে জানানো হয়নি এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সেবা সম্মন্ধে।

মাহিরা তাসনিম এই বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্র সম্মন্ধে জানতে পেরে এটি তাদের জন্য খুবই উপকারি হতে পারে বলে জানায়। মাহিরার মতে, “মেয়েদের অনেক ছোটখাটো সমস্যা হয়, যেগুলো আমরা অনেক সময় কাউকে বলতে পারি না। যদি এমন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায়, তাহলে এসব সমস্যার জন্য সেখানে যেতে পারবো।”

মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ফরিদপুর বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্র। যেটির বয়স এখন প্রায় ৬১ বছর। ফরিদপুর জেলা শহরের মুজিব সড়কের পাশে জেলা কারাগারের ঈদগাহ ও ম্যাটস ভবনের মাঝামাঝি এই বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি স্থাপিত। কিন্তু প্রচার-প্রচারণা ও সচেতনতার অভাব ছাড়াও সীমিত কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সংকটের কারণে জেলার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এখনো বিদ্যালয় স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা ও সুফল সম্পর্কে জানেই না।তারা এর চিকিৎসা সেবা থেকেও বঞ্চিত।

ফরিদপুর জেলায় প্রায় ১৩শ’ থেকে ১৪শ’ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় লক্ষাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে সুদীর্ঘকাল পেরিয়ে গেলেও স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি এখনো শিক্ষার্থীদের কাছে তেমন পরিচিত হয়ে উঠতে পারেনি।

ফরিদপুর বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের গত ফেব্রুয়ারি মাসে মাত্র ৪০৬ জন শিক্ষার্থী এখানে চিকিৎসা সেবা নিয়েছে। এর মধ্যে ছাত্র ছিলো ২৫৩ জন এবং ছাত্রী ১৫৩ জন।
স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে দু’জন মেডিক্যাল অফিসারের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন। অন্যজন প্রেষণে (মূল কর্মস্থলের বাইরে) অন্য কোনো দপ্তরে কর্মরত। এছাড়া একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও একজন ফার্মাসিস্ট রয়েছেন। তবে জেলার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর তুলনায় এই জনবল অপর্যাপ্ত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, “এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি অনেক বছর আগে স্থাপিত হলেও শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অনেক শিক্ষকও এ ব্যাপারে পুরোপুরি অবগত নন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই কেন্দ্রটিকে শিক্ষার্থীদের কাছে পরিচিত করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তাহলেই এর প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে।”

ফরিদপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিব বলেন, “আমরা যখন স্কুলে পড়তাম তখন শুনেছিলাম যে এখানে একটি বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু কখনো যাওয়া হয়নি।”

সরেজমিনে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে গিয়ে দেখা যায়, শহরের ব্যস্ততম এলাকায় অবস্থিত হলেও কেন্দ্রটিতে সেবা নিতে আসা শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুবই কম। চিকিৎসক ও স্টাফগণ উপস্থিত থাকলেও অধিকাংশ সময় কেন্দ্রটি অনেকটাই নিরব ও ফাঁকা থাকে।

কর্তব্যরত মেডিক্যাল অফিসার ডা. এজিনা সুলতানা বলেন, “আমরা নিয়মিতভাবে এখান থেকে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছি। প্রয়োজনীয় সব ধরনের ওষুধের সরবরাহ রয়েছে এবং বিদ্যালয়গুলোতে সাপ্তাহিক ভিজিটও নিয়মিত চলছে।”

বিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামগ্রিক অবস্থা জানতে চাইলে ফরিদপুর জেলার সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান এই প্রতিবেদককে বলেন, “আমাদের এখানে ডাক্তার এবং পর্যাপ্ত ঔষধের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি সদর হাসপাতালের পাশে অবস্থিত হওয়ায় এখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হয়। তবে আমরা চেষ্টা করছি যাতে জেলার সব শিক্ষার্থীরা এই কেন্দ্রের স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারে।”