০৮:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
শ্রেষ্ঠ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হলেন ডা. নাদিম ছিলেন না নায়াব ইউসুফ, মিটিং কাভার করতে পারলেন না সাংবাদিকেরা “হাজী শরিয়তুল্লাহদের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৪৭ পাওয়ার কারণেই আমরা ৭১ পেয়েছি” একসাথে ৩ মেলার সমালোচনা : জবাবে যা বললেন নারী উদ্যোক্তা লুবাবা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সেই নেতারা এখন কে কোথায় নদীর নাম মালঞ্চ পেয়েছে সরকারি স্বীকৃতি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ‘ডিজিটাল ইভটিজিং’ ইস্যুতে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে তোলপাড় আমার মুর্শিদ হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ভাঙ্গায় পিকআপ-পরিবহন মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩০ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছে তেলবাহী তিনটি সুপার ট্যাংকার

জেনারেল হাসপাতালে সপ্তাহে মাত্র ২ দিন চালু এক্স-রে, ভোগান্তিতে রোগীরা

আবরাব নাদিম ইতু
  • আপডেট সময় : ০৪:১১:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
  • / 83

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের এক্স-রে সেবা নিয়ে সাধারণ রোগীদের নাভিশ্বাস উঠেছে। সপ্তাহে মাত্র দুই দিন—শনিবার ও মঙ্গলবার হাসপাতালের এক্সরে  মেশিনের সেবা পাচ্ছেন রোগীরা। বাকি দিনগুলোতে এই জরুরি সেবা বন্ধ থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। আবার নির্ধারিত দুই দিন এক্স-রে করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে না। সময়মতো রিপোর্ট না পাওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিতেও দেরি হচ্ছে তাদের। এতে অনেক ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থার অবনতিও ঘটছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শহর থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে হওয়ায় শহরের মানুষ এই জেনারেল হাসপাতালেই বেশি ভিড় করেন। কিন্তু বর্তমানে এখানে রেডিওগ্রাফারের পদটি শূন্য রয়েছে। নির্দিষ্ট ওই দুই দিন ছাড়া বাকি সময় এক্স-রে বিভাগ বন্ধ থাকছে। ফলে অনেক গরিব ও অসহায় রোগী বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে এক্স-রে করাতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তাদের গুণতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। সাধারণ মানুষ দ্রুত এই সমস্যার সমাধান এবং সপ্তাহের প্রতি কর্মদিবসে এক্সরে সেবা সচল করার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, হাসপাতালের এই সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিচ্ছে স্থানীয় কিছু দালালচক্র। এক্স-রে বিভাগ বন্ধ থাকায় তারা অসহায় রোগীদের ফুসলিয়ে নিয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট কিছু বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। সেখানে সরকারি মূল্যের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

শহরের টেপাখোলা থেকে আসা সঞ্জয় কর্মকার নামে একজন ভুক্তভোগী রোগী বলেন, “গত রবিবার রিকশা থেকে পড়ে হাত ভেঙে যায়। হাসপাতালে এসেও এক্স-রে করাতে পারিনি। আজ আবার ডাক্তার হাতের অবস্থা দেখতে এক্স-রে দিয়েছেন, কিন্তু আজকেও বাইরে থেকে বাড়তি টাকা দিয়ে করাতে হলো।”

ফরিদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে, ফরিদপুর পৌরসভার পাশেই অবস্থিত ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল। ১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে শহরবাসীর চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসাস্থল। যদিও শহরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রয়েছে, তবে সেটি প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে হওয়ায় অধিকাংশ শহরবাসী প্রাথমিক পর্যায়ে এই জেনারেল হাসপাতালকেই চিকিৎসা নিতে আসেন।

এ বিষয়ে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ড. মাহমুদুল হাসান জানান “বর্তমানে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের রেডিওগ্রাফারের পদটি শুন্য আছে। এর ফলে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের  রেডিওগ্রাফারকে সপ্তাহে দুইদিন ফরিদপুর নিয়ে এসে রোগীদের এক্সরে করানো হচ্ছে। বাকি দিনগুলোতে এখনো এক্সরে চালু করতে পারছিনা। তিনি জানান, এবিষয়ে অনেক আগেই শূন্য পদের চাহিদা জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি অফিসে আবেদন জানানো হয়েছে। আমরা আশা করছি, রোগীদের ভোগান্তির বিষয়টি মাথায় নিয়ে দুতই সমস্যাটির সমাধান করা হবে। হাসপাতালে দালালের উপদ্রবের বিষয়ে তারা সবসময়ই সতর্ক রয়েছেন জানিয়ে বলেন, এবিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

জেনারেল হাসপাতালে সপ্তাহে মাত্র ২ দিন চালু এক্স-রে, ভোগান্তিতে রোগীরা

আপডেট সময় : ০৪:১১:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের এক্স-রে সেবা নিয়ে সাধারণ রোগীদের নাভিশ্বাস উঠেছে। সপ্তাহে মাত্র দুই দিন—শনিবার ও মঙ্গলবার হাসপাতালের এক্সরে  মেশিনের সেবা পাচ্ছেন রোগীরা। বাকি দিনগুলোতে এই জরুরি সেবা বন্ধ থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। আবার নির্ধারিত দুই দিন এক্স-রে করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে না। সময়মতো রিপোর্ট না পাওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিতেও দেরি হচ্ছে তাদের। এতে অনেক ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থার অবনতিও ঘটছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শহর থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে হওয়ায় শহরের মানুষ এই জেনারেল হাসপাতালেই বেশি ভিড় করেন। কিন্তু বর্তমানে এখানে রেডিওগ্রাফারের পদটি শূন্য রয়েছে। নির্দিষ্ট ওই দুই দিন ছাড়া বাকি সময় এক্স-রে বিভাগ বন্ধ থাকছে। ফলে অনেক গরিব ও অসহায় রোগী বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে এক্স-রে করাতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তাদের গুণতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। সাধারণ মানুষ দ্রুত এই সমস্যার সমাধান এবং সপ্তাহের প্রতি কর্মদিবসে এক্সরে সেবা সচল করার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, হাসপাতালের এই সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিচ্ছে স্থানীয় কিছু দালালচক্র। এক্স-রে বিভাগ বন্ধ থাকায় তারা অসহায় রোগীদের ফুসলিয়ে নিয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট কিছু বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। সেখানে সরকারি মূল্যের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

শহরের টেপাখোলা থেকে আসা সঞ্জয় কর্মকার নামে একজন ভুক্তভোগী রোগী বলেন, “গত রবিবার রিকশা থেকে পড়ে হাত ভেঙে যায়। হাসপাতালে এসেও এক্স-রে করাতে পারিনি। আজ আবার ডাক্তার হাতের অবস্থা দেখতে এক্স-রে দিয়েছেন, কিন্তু আজকেও বাইরে থেকে বাড়তি টাকা দিয়ে করাতে হলো।”

ফরিদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে, ফরিদপুর পৌরসভার পাশেই অবস্থিত ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল। ১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে শহরবাসীর চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসাস্থল। যদিও শহরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রয়েছে, তবে সেটি প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে হওয়ায় অধিকাংশ শহরবাসী প্রাথমিক পর্যায়ে এই জেনারেল হাসপাতালকেই চিকিৎসা নিতে আসেন।

এ বিষয়ে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ড. মাহমুদুল হাসান জানান “বর্তমানে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের রেডিওগ্রাফারের পদটি শুন্য আছে। এর ফলে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের  রেডিওগ্রাফারকে সপ্তাহে দুইদিন ফরিদপুর নিয়ে এসে রোগীদের এক্সরে করানো হচ্ছে। বাকি দিনগুলোতে এখনো এক্সরে চালু করতে পারছিনা। তিনি জানান, এবিষয়ে অনেক আগেই শূন্য পদের চাহিদা জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি অফিসে আবেদন জানানো হয়েছে। আমরা আশা করছি, রোগীদের ভোগান্তির বিষয়টি মাথায় নিয়ে দুতই সমস্যাটির সমাধান করা হবে। হাসপাতালে দালালের উপদ্রবের বিষয়ে তারা সবসময়ই সতর্ক রয়েছেন জানিয়ে বলেন, এবিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।