ঢাকা ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অ্যাডভোকেট হামিদুল হক ঝন্টুর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত নারী উদ্যোক্তাদের হাতে তৈরি সামগ্রীতে প্রাণবন্ত হলিডে মার্কেটের ইফতার মাহফিল ফরিদপুরে বিহারি কলোনিতে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যা, আহত মা ও ভাই পবিত্র কোরআনের আলোকে ইসলামে যাকাতের গুরুত্ব ও বিধান বোয়ালমারীতে কিশোর শ্রমিক সজীব হত্যা: আসামি রিহাত মাগুরা থেকে গ্রেপ্তার বেইলি ব্রিজ মেরামতে বিলম্ব: ঈদের আগেই চালুর দাবি ফরিদপুরবাসীর ব্যস্ত সড়কে উপড়ে পড়ল গাছ: অল্পতে বাঁচলেন যাত্রী ফরিদপুরে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ১৮টি ইজিবাইকসহ আন্তঃজেলা চোরচক্রের ১২ সদস্য গ্রেপ্তার ফরিদপুরে ‘কাচ্চি সুলতান’কে ১ লাখ টাকা জরিমানা: কিচেনে মিলল ক্ষতিকর কেমিক্যাল বোয়ালমারীতে পায়ুপথে হাওয়া: কিশোর শ্রমিকের মৃত্যু

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা আন্দোলন

১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে নারীদের মিছিলে যোগ দেন ড. সুফিয়া আহমেদ

বিশেষ প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:১৩:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 42

বাঙালি জাতির অস্তিত্বের লড়াইয়ে যারা সম্মুখসারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, অধ্যাপক ড. সুফিয়া আহমেদ তাঁদের মধ্যে অন্যতম। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গকারী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্য আইনের বিরুদ্ধে মিছিলকারী নারীদের অগ্রভাগে ছিলেন তিনি। কেবল মিছিলেই নয়, ভাষা আন্দোলনের উত্তাল সময়ে সমাবেশে বক্তৃতা দিয়ে ছাত্রদের উজ্জীবিত করার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়।

গর্বিত পিতার গর্বিত সন্তান সুফিয়া আহমেদের জন্ম ১৯৩২ সালের ২০ নভেম্বর ফরিদপুর জেলার সদরপুরের বিষ্ণুপুর গ্রামে। তাঁর পিতা বিচারপতি মুহম্মদ ইব্রাহিম ছিলেন ঢাকা হাইকোর্টের বিচারপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অষ্টম উপাচার্য এবং পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী। তাঁর মা বেগম লুৎফুন্নেসা ইব্রাহিম ছিলেন একজন বিদূষী নারী। পারিবারিক এই শিক্ষিত ও সচেতন আবহেই গড়ে উঠেছিল তাঁর স্বাধিকার আদায়ের চেতনা।

১৯৫২: রাজপথের সেই উত্তাল দিনগুলো:  ১৯৫২ সালে সুফিয়া আহমেদ ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। তৎকালীন সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি জানিয়েছিলেন:

“স্বাধিকার আদায় করতে হবে—এটা ছিল প্রাণের তাগিদ। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদেই সেদিন রাস্তায় নেমেছিলাম। সে সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীসংখ্যা ছিল বড়জোর ৭০ জন। ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভাঙা হবে কি না, তা নিয়ে ছাত্রনেতাদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলেও ছাত্রীরা নিয়মের কঠোরতা ভেঙে মুখের ভাষা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল।”

২১শে ফেব্রুয়ারি সকালে আমতলার ঐতিহাসিক সভায় যখন পুলিশের হামলার আশঙ্কায় ছাত্রীদের মিছিল না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছিল, তখন ছাত্রীরাই ১৪৪ ধারা ভঙ্গের পক্ষে জোরালো মত দেন। ৫ জনের খণ্ড খণ্ড মিছিল বের করার সিদ্ধান্ত হলে সুফিয়া আহমেদ সেই মিছিলে যোগ দেন। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনায় তিনি বলেছিলেন, মিছিল নিয়ে এগোতেই পুলিশ প্রচণ্ড লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। টিয়ারগ্যাসের কালো ধোঁয়ায় চারদিক অন্ধকার হয়ে যায় এবং মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে।

গ্যাসের প্রভাবে চোখ দিয়ে অঝোরে পানি ঝরছিল এবং শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হয়েছিল। সেই অবস্থায় কোনোক্রমে এস.এম হলের প্রভোস্টের বাড়ির সামনের মাঠে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি।

১৯৫৫ সালে ভাষাসৈনিক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। এই ভাষাসংগ্রামী দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ভাষা আন্দোলনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০২ সালে তাঁকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার একুশে পদকে ভূষিত করে।

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা আন্দোলন

১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে নারীদের মিছিলে যোগ দেন ড. সুফিয়া আহমেদ

আপডেট সময় : ১১:১৩:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাঙালি জাতির অস্তিত্বের লড়াইয়ে যারা সম্মুখসারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, অধ্যাপক ড. সুফিয়া আহমেদ তাঁদের মধ্যে অন্যতম। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গকারী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্য আইনের বিরুদ্ধে মিছিলকারী নারীদের অগ্রভাগে ছিলেন তিনি। কেবল মিছিলেই নয়, ভাষা আন্দোলনের উত্তাল সময়ে সমাবেশে বক্তৃতা দিয়ে ছাত্রদের উজ্জীবিত করার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়।

গর্বিত পিতার গর্বিত সন্তান সুফিয়া আহমেদের জন্ম ১৯৩২ সালের ২০ নভেম্বর ফরিদপুর জেলার সদরপুরের বিষ্ণুপুর গ্রামে। তাঁর পিতা বিচারপতি মুহম্মদ ইব্রাহিম ছিলেন ঢাকা হাইকোর্টের বিচারপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অষ্টম উপাচার্য এবং পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী। তাঁর মা বেগম লুৎফুন্নেসা ইব্রাহিম ছিলেন একজন বিদূষী নারী। পারিবারিক এই শিক্ষিত ও সচেতন আবহেই গড়ে উঠেছিল তাঁর স্বাধিকার আদায়ের চেতনা।

১৯৫২: রাজপথের সেই উত্তাল দিনগুলো:  ১৯৫২ সালে সুফিয়া আহমেদ ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। তৎকালীন সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি জানিয়েছিলেন:

“স্বাধিকার আদায় করতে হবে—এটা ছিল প্রাণের তাগিদ। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদেই সেদিন রাস্তায় নেমেছিলাম। সে সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীসংখ্যা ছিল বড়জোর ৭০ জন। ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভাঙা হবে কি না, তা নিয়ে ছাত্রনেতাদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলেও ছাত্রীরা নিয়মের কঠোরতা ভেঙে মুখের ভাষা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল।”

২১শে ফেব্রুয়ারি সকালে আমতলার ঐতিহাসিক সভায় যখন পুলিশের হামলার আশঙ্কায় ছাত্রীদের মিছিল না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছিল, তখন ছাত্রীরাই ১৪৪ ধারা ভঙ্গের পক্ষে জোরালো মত দেন। ৫ জনের খণ্ড খণ্ড মিছিল বের করার সিদ্ধান্ত হলে সুফিয়া আহমেদ সেই মিছিলে যোগ দেন। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনায় তিনি বলেছিলেন, মিছিল নিয়ে এগোতেই পুলিশ প্রচণ্ড লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। টিয়ারগ্যাসের কালো ধোঁয়ায় চারদিক অন্ধকার হয়ে যায় এবং মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে।

গ্যাসের প্রভাবে চোখ দিয়ে অঝোরে পানি ঝরছিল এবং শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হয়েছিল। সেই অবস্থায় কোনোক্রমে এস.এম হলের প্রভোস্টের বাড়ির সামনের মাঠে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি।

১৯৫৫ সালে ভাষাসৈনিক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। এই ভাষাসংগ্রামী দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ভাষা আন্দোলনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০২ সালে তাঁকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার একুশে পদকে ভূষিত করে।