০৫:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
শ্রেষ্ঠ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হলেন ডা. নাদিম ছিলেন না নায়াব ইউসুফ, মিটিং কাভার করতে পারলেন না সাংবাদিকেরা “হাজী শরিয়তুল্লাহদের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৪৭ পাওয়ার কারণেই আমরা ৭১ পেয়েছি” একসাথে ৩ মেলার সমালোচনা : জবাবে যা বললেন নারী উদ্যোক্তা লুবাবা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সেই নেতারা এখন কে কোথায় নদীর নাম মালঞ্চ পেয়েছে সরকারি স্বীকৃতি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ‘ডিজিটাল ইভটিজিং’ ইস্যুতে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে তোলপাড় আমার মুর্শিদ হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ভাঙ্গায় পিকআপ-পরিবহন মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩০ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছে তেলবাহী তিনটি সুপার ট্যাংকার
ঘটনার আংশিক বা একপেশে তথ্য প্রকাশ কোনভাবেই সঙ্গত নয়

সাংবাদিকতার নীতিমালা

অগ্নিপ্রহর ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:১৬:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 142

বিশ্বাসযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম হিসেবে একটি সংবাদপত্র রেডিও বা টেলিভিশন গোটা সমাজের প্রতিনিধিত্ব করে, অংশবিশেষের নয়। সে কারণে কোন বিশেষ শ্রেণি বা গোষ্ঠীর পক্ষ হয়ে কাজ করার নৈতিক অধিকার সংবাদক্ষেত্রের নেই। কাউকে তুষ্ট বা রুষ্ট করার হীন উদ্দেশ্যে ঘটনার আংশিক বা একপেশে তথ্য প্রকাশ কোনভাবেই সঙ্গত নয়। বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল সাংবাদিকতার যেসব নীতিমালা ঘোষনা করেছে তার মধ্যে সমাজকল্যণমূলক নীতিমালার অন্যতম শর্ত এটি।
এই নীতিমালার একটি শর্ত হচ্ছে, সংবাদমাধ্যম সমাজের সকলপ্রকার দুর্নীতি প্রবণতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে এবং নীতিগতভাবে সমাজের যে কোনোপ্রকার অপরাধীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তাদের অপরাধ প্রবণতার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলবে। একজন আদর্শ সাংবাদিক বা সংবাদকর্মী হতে গেলে বিবেক তাড়িত হয়ে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ নির্মাণে গঠনমূলক কর্তব্যবোধের পরিচয় দিতে হবে।
তৃতীয় শর্ত হচ্ছে, সাংবাদিকবৃন্দ নির্ভিকভাবে সমাজের নির্মম বাস্তব সত্য তুলে ধরবেন এবং ঘটনার সঠিক তথ্য উদঘাটন করে তা জনগণের জ্ঞাতার্থে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করবেন। এ সত্য হবে সম্পূর্ণ সত্য; কোনক্রমেই সত্যের আংশিক উপস্থাপনা নয়।
এর আগের শর্ত হচ্ছে, কোন দলীয় স্বার্থ রক্ষা করা সংবাদ মাধ্যমের কাজ নয়। জতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বের সকল শ্রেণির দর্শক-শ্রোতা-পাঠক তথা সমগ্র মানবগোষ্ঠীই এর আওতাভুক্ত। সংবাদ পরিবেশনে তাই ‘বৃহত্তর সমাজের’ স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। কেননা, সর্বস্তরের জনগণের মুখপাত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেই একটি সংবাদপত্র ধীরে ধীরে Institution হিসেবে গড়ে উঠতে সক্ষম হয়।
আর সমাজকল্যাণমূলক এক নম্বর নীতি হচ্ছে, কোন ঘটনার খারাপ বা বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে তা বিবেচনায় রেখেই সংবাদ-তথ্যকে শিক্ষণীয় করে ছাপতে হবে। বিবাহ-বিচ্ছেদ, আত্মহত্যা, খুন, হাইজ্যাক প্রভৃতি নেতিবাচক ঘটনাকে সমাজিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে এগুলোকে এমনভাবে তুলে ধরতে হবে যাতে করে কেউ আর এ ধরণের কাজে প্রভাবিত বা লিপ্ত হতে না পারে। স্পর্শকাতর অবস্থা পরিস্থিতির খাতিরে না ছাপিয়ে এগুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করা উচিত যাতে সমাজে তার কোন বিরুপ প্রভাব না পড়ে এবং সমাজের মানুষ তা থেকে শিক্ষণীয় কিছু লাভ করতে পারে।
প্রকাশোপযোগী কোন জনগুরুত্বপূর্ণ তথ্যকে হত্যা করা যাবে না। অর্থাৎ জনস্বার্থযুক্ত ছাপার যোগ্য এবং সংবাদমূল্য আছে এমন সংবাদ ছাপাতে যেন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা বা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা না করা হয়। কোন ক্ষুদ্র স্বার্থের কারণে একটি সংবাদমাধ্যম কোনক্রমেই বৃহত্তর জনস্বার্থকে উপক্ষো কিংবা যথার্থ তথ্য থেকে জনগণকে বঞ্চিত করতে পারে না।
সংবাদ পরিবেশনে নিজস্ব মতামত কাঙ্খিত নয়। পাঠকের জ্ঞাতার্থে শুধু ঘটনার প্রকাশোপযোগী সত্য ঘটনাই তুলে ধরতে হবে। কিন্তু তাতে যেনো নিজস্ব কোন মন্তব্য বা মতামত ঢুকে না পড়ে। মতামত প্রকাশের জন্য সুনির্ধারিত রয়েছে সম্পাদকীয় বা চিঠিপত্রের পাতা।
কোন ব্যক্তি বা সংস্থাকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবে এমন কিছু প্রকাশ করা যাবে না যাতে ওই ব্যক্তি বা সংস্থার আর্থিক ক্ষতি বা ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। অহেতুক কোন প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি বা ইমেজ যাতে ক্ষুন্ন না হয় সেদিকেও সাংবাদিককে খেয়াল রাখতে হবে। সার্বিব রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রে আক্রমনাত্মক ও নেতিবাচক মনোভাব পরিহার করতে হবে।
(আংশিক)

শেয়ার করুন

ঘটনার আংশিক বা একপেশে তথ্য প্রকাশ কোনভাবেই সঙ্গত নয়

সাংবাদিকতার নীতিমালা

আপডেট সময় : ১১:১৬:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

বিশ্বাসযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম হিসেবে একটি সংবাদপত্র রেডিও বা টেলিভিশন গোটা সমাজের প্রতিনিধিত্ব করে, অংশবিশেষের নয়। সে কারণে কোন বিশেষ শ্রেণি বা গোষ্ঠীর পক্ষ হয়ে কাজ করার নৈতিক অধিকার সংবাদক্ষেত্রের নেই। কাউকে তুষ্ট বা রুষ্ট করার হীন উদ্দেশ্যে ঘটনার আংশিক বা একপেশে তথ্য প্রকাশ কোনভাবেই সঙ্গত নয়। বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল সাংবাদিকতার যেসব নীতিমালা ঘোষনা করেছে তার মধ্যে সমাজকল্যণমূলক নীতিমালার অন্যতম শর্ত এটি।
এই নীতিমালার একটি শর্ত হচ্ছে, সংবাদমাধ্যম সমাজের সকলপ্রকার দুর্নীতি প্রবণতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে এবং নীতিগতভাবে সমাজের যে কোনোপ্রকার অপরাধীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তাদের অপরাধ প্রবণতার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলবে। একজন আদর্শ সাংবাদিক বা সংবাদকর্মী হতে গেলে বিবেক তাড়িত হয়ে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ নির্মাণে গঠনমূলক কর্তব্যবোধের পরিচয় দিতে হবে।
তৃতীয় শর্ত হচ্ছে, সাংবাদিকবৃন্দ নির্ভিকভাবে সমাজের নির্মম বাস্তব সত্য তুলে ধরবেন এবং ঘটনার সঠিক তথ্য উদঘাটন করে তা জনগণের জ্ঞাতার্থে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করবেন। এ সত্য হবে সম্পূর্ণ সত্য; কোনক্রমেই সত্যের আংশিক উপস্থাপনা নয়।
এর আগের শর্ত হচ্ছে, কোন দলীয় স্বার্থ রক্ষা করা সংবাদ মাধ্যমের কাজ নয়। জতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বের সকল শ্রেণির দর্শক-শ্রোতা-পাঠক তথা সমগ্র মানবগোষ্ঠীই এর আওতাভুক্ত। সংবাদ পরিবেশনে তাই ‘বৃহত্তর সমাজের’ স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। কেননা, সর্বস্তরের জনগণের মুখপাত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেই একটি সংবাদপত্র ধীরে ধীরে Institution হিসেবে গড়ে উঠতে সক্ষম হয়।
আর সমাজকল্যাণমূলক এক নম্বর নীতি হচ্ছে, কোন ঘটনার খারাপ বা বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে তা বিবেচনায় রেখেই সংবাদ-তথ্যকে শিক্ষণীয় করে ছাপতে হবে। বিবাহ-বিচ্ছেদ, আত্মহত্যা, খুন, হাইজ্যাক প্রভৃতি নেতিবাচক ঘটনাকে সমাজিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে এগুলোকে এমনভাবে তুলে ধরতে হবে যাতে করে কেউ আর এ ধরণের কাজে প্রভাবিত বা লিপ্ত হতে না পারে। স্পর্শকাতর অবস্থা পরিস্থিতির খাতিরে না ছাপিয়ে এগুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করা উচিত যাতে সমাজে তার কোন বিরুপ প্রভাব না পড়ে এবং সমাজের মানুষ তা থেকে শিক্ষণীয় কিছু লাভ করতে পারে।
প্রকাশোপযোগী কোন জনগুরুত্বপূর্ণ তথ্যকে হত্যা করা যাবে না। অর্থাৎ জনস্বার্থযুক্ত ছাপার যোগ্য এবং সংবাদমূল্য আছে এমন সংবাদ ছাপাতে যেন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা বা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা না করা হয়। কোন ক্ষুদ্র স্বার্থের কারণে একটি সংবাদমাধ্যম কোনক্রমেই বৃহত্তর জনস্বার্থকে উপক্ষো কিংবা যথার্থ তথ্য থেকে জনগণকে বঞ্চিত করতে পারে না।
সংবাদ পরিবেশনে নিজস্ব মতামত কাঙ্খিত নয়। পাঠকের জ্ঞাতার্থে শুধু ঘটনার প্রকাশোপযোগী সত্য ঘটনাই তুলে ধরতে হবে। কিন্তু তাতে যেনো নিজস্ব কোন মন্তব্য বা মতামত ঢুকে না পড়ে। মতামত প্রকাশের জন্য সুনির্ধারিত রয়েছে সম্পাদকীয় বা চিঠিপত্রের পাতা।
কোন ব্যক্তি বা সংস্থাকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবে এমন কিছু প্রকাশ করা যাবে না যাতে ওই ব্যক্তি বা সংস্থার আর্থিক ক্ষতি বা ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। অহেতুক কোন প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি বা ইমেজ যাতে ক্ষুন্ন না হয় সেদিকেও সাংবাদিককে খেয়াল রাখতে হবে। সার্বিব রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রে আক্রমনাত্মক ও নেতিবাচক মনোভাব পরিহার করতে হবে।
(আংশিক)