০৭:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
শ্রেষ্ঠ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হলেন ডা. নাদিম ছিলেন না নায়াব ইউসুফ, মিটিং কাভার করতে পারলেন না সাংবাদিকেরা “হাজী শরিয়তুল্লাহদের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৪৭ পাওয়ার কারণেই আমরা ৭১ পেয়েছি” একসাথে ৩ মেলার সমালোচনা : জবাবে যা বললেন নারী উদ্যোক্তা লুবাবা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সেই নেতারা এখন কে কোথায় নদীর নাম মালঞ্চ পেয়েছে সরকারি স্বীকৃতি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ‘ডিজিটাল ইভটিজিং’ ইস্যুতে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে তোলপাড় আমার মুর্শিদ হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ভাঙ্গায় পিকআপ-পরিবহন মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩০ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছে তেলবাহী তিনটি সুপার ট্যাংকার
নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার

তারুণ্যের শক্তি গড়বে দেশ আসছে ‘দৈনিক অগ্নিপ্রহর’

হারুন আনসারী
  • আপডেট সময় : ১২:০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 182

দৈনিক অগ্নিপ্রহর কেবল একটি সংবাদমাধ্যম নয়, এটি জুলাই বিপ্লবের রক্তস্নাত চেতনা থেকে জন্ম নেওয়া একটি সাহসের নাম। ২০২৪ সালের সেই ঐতিহাসিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে নতুন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছে, তার স্বপ্নকে ধারণ করেই আমাদের এই পথচলা। একঝাঁক স্বপ্নবাজ ও অকুতোভয় তরুণের হাত ধরে আমরা এসেছি তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে এবং তারুণ্যের শক্তিকে রাষ্ট্র গড়ার মূল ধারায় যুক্ত করতে। -অগ্নিপ্রহর

ইতিহাসের পাতায় চব্বিশের জুলাই একটি জাতির পুনর্জন্মের মহাকাব্য। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশের ইতিহাস বদলে দেওয়া অধ্যায়। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, বৈষম্য আর রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে একটি স্বাধীনচেতা জাতির আত্মমর্যাদা ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ের বিজয় সনদ। যার মাধ্যমে অভ্যুদয় ঘটেছে এক নতুন বাংলাদেশের। এই লড়াইয়ের সামনে থেকে ইতিহাসকে নতুন করে লিখে দিয়েছে এদেশের অদম্য তরুণ সমাজ।

একটি রাষ্ট্র যখন সাম্য, মানবিক মর্যাদা আর সামাজিক সুবিচার থেকে বিচ্যুত হয়, তখন সেখানে গণবিস্ফোরণ অনিবার্য হয়ে ওঠে। জুলাই আন্দোলনের মূলে ছিল সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা আর রুদ্ধ বাক-স্বাধীনতা। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া একটি প্রজন্ম যখন দেখল তাদের মেধা ও যোগ্যতার অবমূল্যায়ন হচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত হচ্ছে, তখনই রাজপথ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে ‘বৈষম্যবিরোধী’ স্লোগানে।

এই আন্দোলন হয়ে উঠে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান এবং একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত দাবি। যেখানে অকুতোভয় তারুণ্য পরিবর্তনের কারিগর হয়ে উঠেছে।

জুলাই আন্দোলনের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক ছিল এই তরুণদের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়ে প্রমাণ করেছে যে, আদর্শের লড়াইয়ে ভয় তুচ্ছ। আবু সাঈদ থেকে শুরু করে মুগ্ধ—প্রতিটি নাম আজ সাহসের একেকটি সমার্থক রুপ। তরুণরা রাজপথে নেমে ফ্যাসিস্ট শক্তিকে হটিয়ে দেশটাকে সাজিয়ে তুলতে কাজ শুরু করে দিয়েছে।
তারা গ্রাফিতিতে দেয়াল রাঙিয়েছে, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করেছে। তাদের এই নিঃস্বার্থ ত্যাগই প্রমাণ করেছে, এই দেশ গড়ার মূল কারিগর তারাই।

নতুন এই বাংলাদেশে তাদের অঙ্গীকার- এখানে মেধার মূল্যায়ন হবে, দুর্নীতির ঠাঁই হবে না এবং প্রতিটি নাগরিকের কণ্ঠস্বর সমান গুরুত্ব পাবে। এটি এমন এক রাষ্ট্র হবে যেখানে গণমাধ্যম হবে সত্যের অতন্দ্র প্রহরী। সেই স্বপ্নের সারথি হতেই কতিপয় তরুণের সাহসের প্রতিচ্ছবি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে ‘দৈনিক অগ্নিপ্রহর’।

আমরা বিশ্বাস করি, কেবল সংবাদ পরিবেশন নয়, বরং সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে এই গণমাধ্যম। জুলাই আন্দোলনের সেই উত্তাল দিনগুলোর চেতনাকে ধারণ করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন থাকাই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য। অগ্নিপ্রহর হবে সেই কণ্ঠস্বর, যা সত্য বলতে দ্বিধা করবে না এবং নতুন প্রজন্মের সৃজনশীলতাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবে।

রক্ত দিয়ে কেনা এই স্বাধীনতাকে রক্ষা করা এবং একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ে তোলা এখন আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। তারুণ্যের এই শক্তিকে যদি সঠিক দিশা দেওয়া যায়, তবে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের বুকে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সেই মহৎ যাত্রায় ‘দৈনিক অগ্নিপ্রহর’ হবে জনগণের নিত্যদিনের সঙ্গী—অন্ধকার দূর করে আলোর মশাল জ্বালিয়ে রাখাই যাদের একমাত্র ব্রত।

এই কণ্টকাকীর্ণ যাত্রাপথের সারথি হতে সকলকে জানাই সু-স্বাগতম।

শেয়ার করুন

নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার

তারুণ্যের শক্তি গড়বে দেশ আসছে ‘দৈনিক অগ্নিপ্রহর’

আপডেট সময় : ১২:০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

ইতিহাসের পাতায় চব্বিশের জুলাই একটি জাতির পুনর্জন্মের মহাকাব্য। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশের ইতিহাস বদলে দেওয়া অধ্যায়। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, বৈষম্য আর রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে একটি স্বাধীনচেতা জাতির আত্মমর্যাদা ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ের বিজয় সনদ। যার মাধ্যমে অভ্যুদয় ঘটেছে এক নতুন বাংলাদেশের। এই লড়াইয়ের সামনে থেকে ইতিহাসকে নতুন করে লিখে দিয়েছে এদেশের অদম্য তরুণ সমাজ।

একটি রাষ্ট্র যখন সাম্য, মানবিক মর্যাদা আর সামাজিক সুবিচার থেকে বিচ্যুত হয়, তখন সেখানে গণবিস্ফোরণ অনিবার্য হয়ে ওঠে। জুলাই আন্দোলনের মূলে ছিল সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা আর রুদ্ধ বাক-স্বাধীনতা। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া একটি প্রজন্ম যখন দেখল তাদের মেধা ও যোগ্যতার অবমূল্যায়ন হচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত হচ্ছে, তখনই রাজপথ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে ‘বৈষম্যবিরোধী’ স্লোগানে।

এই আন্দোলন হয়ে উঠে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান এবং একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত দাবি। যেখানে অকুতোভয় তারুণ্য পরিবর্তনের কারিগর হয়ে উঠেছে।

জুলাই আন্দোলনের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক ছিল এই তরুণদের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়ে প্রমাণ করেছে যে, আদর্শের লড়াইয়ে ভয় তুচ্ছ। আবু সাঈদ থেকে শুরু করে মুগ্ধ—প্রতিটি নাম আজ সাহসের একেকটি সমার্থক রুপ। তরুণরা রাজপথে নেমে ফ্যাসিস্ট শক্তিকে হটিয়ে দেশটাকে সাজিয়ে তুলতে কাজ শুরু করে দিয়েছে।
তারা গ্রাফিতিতে দেয়াল রাঙিয়েছে, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করেছে। তাদের এই নিঃস্বার্থ ত্যাগই প্রমাণ করেছে, এই দেশ গড়ার মূল কারিগর তারাই।

নতুন এই বাংলাদেশে তাদের অঙ্গীকার- এখানে মেধার মূল্যায়ন হবে, দুর্নীতির ঠাঁই হবে না এবং প্রতিটি নাগরিকের কণ্ঠস্বর সমান গুরুত্ব পাবে। এটি এমন এক রাষ্ট্র হবে যেখানে গণমাধ্যম হবে সত্যের অতন্দ্র প্রহরী। সেই স্বপ্নের সারথি হতেই কতিপয় তরুণের সাহসের প্রতিচ্ছবি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে ‘দৈনিক অগ্নিপ্রহর’।

আমরা বিশ্বাস করি, কেবল সংবাদ পরিবেশন নয়, বরং সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে এই গণমাধ্যম। জুলাই আন্দোলনের সেই উত্তাল দিনগুলোর চেতনাকে ধারণ করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন থাকাই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য। অগ্নিপ্রহর হবে সেই কণ্ঠস্বর, যা সত্য বলতে দ্বিধা করবে না এবং নতুন প্রজন্মের সৃজনশীলতাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবে।

রক্ত দিয়ে কেনা এই স্বাধীনতাকে রক্ষা করা এবং একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ে তোলা এখন আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। তারুণ্যের এই শক্তিকে যদি সঠিক দিশা দেওয়া যায়, তবে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের বুকে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সেই মহৎ যাত্রায় ‘দৈনিক অগ্নিপ্রহর’ হবে জনগণের নিত্যদিনের সঙ্গী—অন্ধকার দূর করে আলোর মশাল জ্বালিয়ে রাখাই যাদের একমাত্র ব্রত।

এই কণ্টকাকীর্ণ যাত্রাপথের সারথি হতে সকলকে জানাই সু-স্বাগতম।