Bangladesh ০৯:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন সচিবালয়ের নতুন আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্বোধন আমাদের পথিকৃৎ সাংবাদিক লিয়াকত হোসেন চীনা বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সুযোগ বাড়াতে ইউনান প্রদেশের সঙ্গে বিশেষ সমঝোতা অসহায় পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়ির চাবি হস্তান্তর “মায়ের সম্মান রক্ষা করতে গিয়ে মৃত্যু হলে, সে মৃত্যুই পরম শ্রেয়” বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে ঐতিহাসিক ৪টি সিদ্ধান্ত এলো খাজা বড় চাচাজানের দিশারী বক্তব্য ফেসবুকে এআই দিয়ে তৈরি ছবি ছড়িয়ে মানহানী : থানায় জিডি কনসার্টের উচ্চ শব্দে শিশুদের কষ্টের কথা জেনে ক্ষমা চাইলেন বিএনপি নেতা স্বপন সাংবাদিক আমির খসরু আর নেই শহর ফরিদপুর ও গণিকালয়ের ডেরা: কার কান্না কত ভারী?
৩৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী আজ

আমাদের পথিকৃৎ সাংবাদিক লিয়াকত হোসেন

হারুন আনসারী
  • আপডেট সময় : ০৫:২৫:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 30

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংবাদিক লিয়াকত হোসেন। একজন কিংবদন্তির সাংবাদিক হিসেবে যিনি ফরিদপুরের আপামর জনতার হৃদয়ে আসীন হতে পেরেছেন। তাঁর অবর্তমানে পরবর্তী প্রজন্ম হিসেবে আমরা বিভিন্ন সময়ে তাঁর সম্মন্ধে যতোটুকু জানতে পেরেছি, তাতে একথা বললে মোটেই বাড়িয়ে বলা হবেনা যে- তিনি একাধারে একজন বর্ষীয়ান সাংবাদিক, সাংবাদিক নেতা, জনদরদি সমাজসেবক এবং মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তি সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী বীর যোদ্ধা ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।

জীবনের স্বল্প সময়ের আয়ুস্কালে তিনি একজন বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অধিকারী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে সফলভাবে অধিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন।

সাংবাদিক লিয়াকত হোসেন ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক। বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনের সময় রাজধানী ঢাকা যেই উত্তাল ঢেউ ফরিদপুরের মতো মফস্বল শহরে এসে উত্তাল তরঙ্গের সৃষ্টি করেছিলো, সেই ঢেউয়ের সম্মুখ সারির অন্যতম একজন ভাষাসৈনিক ছিলেন তিনি। তিনি রাজনীতির অধিকার প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকতাকেই মোক্ষম পন্থা হিসেবে বেছে নেন।

সেসময়ে ফরিদপুর জেলা সদরের মাত্র অল্প কয়েকজন সাংবাদিক (যদিও তারা ছিলেন শিক্ষিত, আত্মমর্যাদাবান এবং বেশিরভাগই সম্ভ্রান্ত পরিবারের এবং সমাজে নেতৃত্বস্থানীয় ছিলেন) যারা ফরিদপুরে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে শুরু করেছিলেন; তাদের নেতৃত্ব প্রদানের দ্বায়িত্বটি ঈর্ষণীয় সাফল্যের সাথে পালন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

শুধু সক্ষমই হননি, বরং তিনি ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও একজন সাংবাদিক ও সাংবাদিক নেতা হিসেবে আমাদের সামনে স্বমহিমায় ভাস্বর একটি নিজস্ব ব্র্যান্ড হয়ে উঠেতে পেরেছেন।

ফরিদপুরের একেবারে শুরুর দিকের সম্মানিত সাংবাদিকেরা লিয়াকত হোসেনকে তাঁর নেতৃত্বের গুণাবলির স্বীকৃতিস্বরূপ সর্ব সম্মতিক্রমে সভাপতি নির্বাচিত করেছিলেন। এবং আমৃত্যু তিনি বিতর্কহীনভাবে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি পদে আসীন ছিলেন। তিনি ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে দারুণ সফল হিসেবে মফস্বলের এই জেলা শহরের সাংবাদিকতাকে একটি উচ্চমার্গের অবস্থানে নিয়ে সাংবাদিকদের পেশাগত পথচলার মসৃন সূচনা করে যান।

সভাপতি হিসেবে দ্বায়িত্ব লাভের পর নানা চড়াই-উৎরাই ও ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে তিনি সতীর্থদের সহযোগে সাংবাদিকদের একটি নিজস্ব অবস্থান তৈরিতে অবিচলভাবে নেতৃত্ব দিয়ে গিয়েছেন।

যার ফলস্বরূপ ফরিদপুরের সাংবাদিক সমাজ একটি সমৃদ্ধ অতীতের অধিকারী হতে পেরেছেন এটি বলতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই কারো। এই সুদীর্ঘ যাত্রায় তার সহযোদ্ধা হিসেবে ছিলেন আরো কয়েকজন মহৎপ্রাণ পুরুষ।

সাংবাদিক লিয়াকত হোসেনের শাহাদাৎবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলির পাশাপাশি তার সেইসকল সহযোদ্ধা সম্মানিত সাংবাদিকদেরও গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।

‘মর্জিনার চুল ভেজা ছিলো’

এটি সাংবাদিক লিয়াকত হোসেনের একটি অনুসন্ধানী সংবাদের চমকে দেওয়ার মতো শিরোনাম।

একজন গৃহপরিচারিকাকে ডাকসাইটে এক পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে হত্যার অভিযোগ উঠলে ওই খবরের নেপথ্যের ঘটনাবলী বর্ণনায় এই শিরোনাম করেন তিনি।

একটি সংবাদকে কতোটা গভীর ও আকর্ষণীয় হিসেবে উপস্থাপন করা যায়, এই শিরোনামটিই তার যথার্থ প্রমাণ।

খবর তৈরিতে তিনি কতোটা পারদর্শী ছিলেন, এমন অনুসন্ধিৎসু শিরোনাম পড়লে তা বোঝা যায়।

একবার ফরিদপুরের পুলিশ অফিসের একজন হেডক্লার্কের বাড়ি থেকে মর্জিনা নামে একজন গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে শুরু থেকেই তৎপর ছিলো বাড়ির লোকেরা। সন্দেহ হচ্ছিলো তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে এবং মৃত্যুর আগে তার মাথায় পানি ঢালা হয়েছিলো। কিন্তু পরে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরে বিষয়টি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালানো হয়েছে।

সাংবাদিক লিয়াকত হোসেন পুরো ঘটনাটির বর্ণনা তাঁর সরেজমিন অনুসন্ধানের পর এভাবেই তুলে আনতে পেরেছিলেন। এ ঘটনার পর পত্রিকায় একের পর এক ফলোআপ নিউজ করার ফলে অনেকের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিল। এখন সাংবাদিক পরিচয়ে বড় বড় মিডিয়ার কর্মীদের পুলিশ কিংবা প্রশাসনের ইনফর্মা হয়ে কাজ করতে দেখে সাংবাদিক লিয়াকত হোসেনের কথা মনে পড়ে।

যদিও সেই সময়ে এসব মামলা তদন্তে মান্ধাতার প্রযুক্তি, চাক্ষুস সাক্ষীর অভাব এবং সর্বোপরি পুলিশ অফিসের বড় বাবুর হস্তক্ষেপে সত্য উদ্ঘাটন খুবই কঠিন ছিলো। আমরা পরবর্তী প্রজন্মের সংবাদকর্মীরা সেই সমসাময়িক কালের প্রবীণ সাংবাদিকদের মুখে তাঁর কর্মজীবনের এমন অনুসন্ধিৎসু সংবাদ পরিবেশন, দৃঢ়চেতা মনোভাব, আত্মমর্যাদা সম্পন্ন সাংবাদিকতা এবং অবিচল নেতৃত্বের অনেক বর্ণনা জেনেছি আমাদের অগ্রজদের নিকট হতে। যারা তার সহকর্মী ছিলেন।

একজন সাংবাদিককে কেনো সমাজের বিবেক ও সংবাদমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয় সেটি খুব পরিস্কার হয়ে উঠে তাঁর জীবনের এমন নানান চমকপ্রদ বর্ণনার মধ্যে। আমি যেহেতু এসবের প্রত্যক্ষদর্শী নই এবং এসব বিবরণ যেহেতু স্পষ্টভাবে পরবর্তীতে লিপিবদ্ধ করা হয়ে উঠেনি তাই আমি বিচ্ছিন্নভাবে জানা এসব ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ পুনরাবৃত্তি করতে পারছিনা।

তবে কিছু তথ্য উল্লেখ না করলেই নয়।

ফরিদপুর প্রেসক্লাবে আরেকজন বর্ষিয়ান এবং চারণ সাংবাদিক ছিলেন ইউসুফ রেজা মন্টু। পিতার বয়সী এই শ্রদ্ধেয় সাংবাদিককে আমি ভাই বলে সম্মোধন করতাম। ইউসুফ রেজা মন্টুর বর্ণনায় জেনেছি, একবার সাংবাদিক লিয়াকত হোসেন একটি হত্যাকান্ডের খবরের অন্তরালের রহস্য উদ্ঘাটনে ইউসুফ রেজা মন্টুকে বাইসাইকেলে করে পাঠিয়েছিলেন শরিয়তপুরের ভেদরগঞ্জে। তখন শরিয়তপুর ছিলো ফরিদপুরের মহকুমা এবং ফরিদপুর ছিলো তাদের জেলা সদর। ভেদরগঞ্জে ইউসুফ রেজা মন্টু কৃষকের ছদ্মবেশ ধারণ করে সরেজমিনে সেই হত্যাকান্ডের রহস্য উম্মোচন করে আসল তথ্য বের করে এনেছিলেন। তখন এই রুটে বাস চলাচল ছিলোনা বলে এতো কষ্ট করে বাইসাইকেলে চেপেই খবর অন্বেষণে যাত্রা। খবরের পেছনে এমন দুঃসাধ্য অভিযাত্রার নেপথ্যে সাংবাদিকতার প্রতি কতোটা গভীর টান ও নিষ্ঠা থাকলেই একমাত্র সম্ভব হয়, সেটি অবশ্যই ভাবনার বিষয়। আর একজন অগ্রজ সাংবাদিক হিসেবে কিভাবে অনুজদের কাজে লাগানো যায় এটি তারও একটি নজির।

আরেকবার বাসে করে আসার পথে সন্ধ্যাবেলায় পুখুরিয়ায় একটি বাস দুর্ঘটনার ছবি তুলতে পাশের এক বাড়ি থেকে হারিকেন কিংবা টর্চ জাতীয় কোন কিছু সংগ্রহ করে আলোর ব্যবস্থা করে ছবি তুলেছিলেন লিয়াকত হোসেন। এই তথ্যও আমি জেনেছি ইউসুফ রেজা মন্টুর কাছ থেকে।

ফরিদপুরের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন প্রজন্ম হয়তো অনেকেই জানেন না যে, তৎকালে ধর্মীয় জ্ঞান সম্মন্ধে অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে এ অঞ্চলের দরিদ্র হিন্দু ও মুসলিম পরিবারের সন্তানদের মিশনারী স্কুলে ভর্তির মাধ্যমে ধর্মান্তরিত ও শিকড়চ্যুত করার গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়। এর প্রতিবাদে তখন সাংবাদিক লিয়াকত হোসেন তাঁর একের পর এক ক্ষুরধার লেখনির মাধ্যমে জনমত তৈরি করেছিলেন। তার লেখনির মাধ্যমে এই শহরে তখন যেনো একটি রেনেসাঁসের সৃষ্টি হয়েছিলো। একাজে তিনি শুধু লেখনির মাধ্যমেই তাঁর কাজের পরিধি সীমাবদ্ধ রাখেননি।

ফরিদপুরের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গকে সংগঠিত করে বিকল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন ফরিদপুর মুসলিম মিশন। যা আজ দক্ষিণবঙ্গের একটি অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নির্ভরযোগ্য এতিমনিবাস হিসেবে সুখ্যাত। এই মুসলিম মিশন নামটিও তাঁর দেওয়া। আবার সেখানে কলেজও গড়ে উঠেছে। সেই থেকে বছরের পর বছর ধরে হাজার হাজার মা-বাবাহারা এতিম সন্তানকে লালনপালন করা হচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানে।

এমন একটি জনহিতৈষী মহত্তম কাজ যদি সদকায়ে জারিয়া হিসেবে পরিগনিত হয়, তাহলে এর উপযুক্ত বদৌলতের একটি বড় অংশ দয়াময় আল্লাহ তাঁকে দান করবেন।

এখানে উল্লেখ্য যে, তার এই দীর্ঘ কল্যাণকর কাজে বেশ কয়েকজন সমমনা সাথীর মধ্যে অন্যতম ছিলেন ফরিদপুরের আরেকজন সর্বজনশ্রদ্ধেয় সাংবাদিক আলী শিকদার।

শুনেছি, সাংবাদিকতার নানা বিষয় ছাড়াও সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে গভীর রাত পর্যন্ত তাদের এমন কতাবার্তা শেষে তারা যখন বাড়ি ফিরতেন, তখন ছেলেমেয়েরা সবাই ঘুমিয়ে। আসলে তারা এতোটাই ব্যস্ত থাকতেন বাইরের কাজে যে, পরিবারের জন্য সময় দেয়াটাও হয়ে উঠতো না সেভাবে।

কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, এই মহৎ মানুষটিকে আমরা একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় হারিয়ে ফেলেছি।

১৯৯৩ সালের ১৬ অক্টোবর ফরিদপুর থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে মানিকগঞ্জে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন। যোগাযোগ ব্যবস্থার সেই নাজুক আমলে তার মৃত্যুর সংবাদটি সহকর্মীগণ সহ পরিবারের কাছে পৌছাতে দিন শেষে সন্ধা হয়ে যায় বলে জেনেছি।

সাংবাদিক লিয়াকত হোসেন ‘৫০ এর দশকের দিকে রাজেন্দ্র কলেজে পড়তেন। ফরিদপুর প্রেসক্লাবের দীর্ঘদিন সভাপতি থাকা সত্বেও সততার সাথে জীবন পরিচালনা করেছেন। সাংবাদিকতাকে কখনোই অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেননি।

ফরিদপুরের যাবতীয় কর্মকান্ডে চার দশক তথা পঞ্চাশ, ষাট, সত্তর ও আশির দশক জুড়ে সাংবাদিক লিয়াকত হোসেন অন্যতম কেন্দ্রিয় চরিত্র ছিলেন।

আমাদের পথিকৃত এই সাংবাদিক ফরিদপুরের প্রায় সব ক’টি জনকল্যাণমূলক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফরিদপুরের সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনেরও অন্যতম অভিভাবক ছিলেন তিনি। ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সৎ ও নির্লোভ। সর্বজনশ্রদ্ধেয় এই কৃতিব্যক্তিত্ব আপন মহিমায় চিরভাস্বর হয়ে আছেন। এই কৃতি ব্যক্তিত্ব আমাদের আলোর পথের একজন অতুলনীয় পথ প্রদর্শক এবং গৌরবান্বিত অভিভাবক ছিলেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর ত্রিশ বছর পরে আমরা স্বার্থপরের মতো তাকে বিস্মৃত হতে চলেছি।

তাঁর স্মৃতিময় রিপোর্টিং, তাঁর হাতে গড়া বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন, তাঁর সেই সভাপতির চেয়ার, বইপত্র, আলমিরা, তাঁর সেই ঐতিহ্যের যত স্মারক; কিছুই আর প্রেসক্লাবে নেই। এ যেনো তাঁরই হাতে গড়া সংগঠন হতে তাঁকে মুছে দেয়া। সেখানে তাঁর একটি ছবিও নেই!

কায়মনোবাক্যে আমাদের প্রার্থনা- দয়াময় আল্লাহ সাংবাদিক লিয়াকত হোসেনকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সম্মানিত স্থানে অধিষ্ঠিত করুন। তাঁর বারযাখের সফরকে বরকতময় করে দিন।

৩৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচি

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংবাদিক লিয়াকত হোসেনের ৩৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে এক সভা অনুষ্ঠিত হবে আজ শুক্রবার সন্ধ্যায়। প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক বদিউজ্জামান চৌধুরী ভাদু।

৩৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী আজ

আমাদের পথিকৃৎ সাংবাদিক লিয়াকত হোসেন

আপডেট সময় : ০৫:২৫:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংবাদিক লিয়াকত হোসেন। একজন কিংবদন্তির সাংবাদিক হিসেবে যিনি ফরিদপুরের আপামর জনতার হৃদয়ে আসীন হতে পেরেছেন। তাঁর অবর্তমানে পরবর্তী প্রজন্ম হিসেবে আমরা বিভিন্ন সময়ে তাঁর সম্মন্ধে যতোটুকু জানতে পেরেছি, তাতে একথা বললে মোটেই বাড়িয়ে বলা হবেনা যে- তিনি একাধারে একজন বর্ষীয়ান সাংবাদিক, সাংবাদিক নেতা, জনদরদি সমাজসেবক এবং মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তি সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী বীর যোদ্ধা ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।

জীবনের স্বল্প সময়ের আয়ুস্কালে তিনি একজন বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অধিকারী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে সফলভাবে অধিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন।

সাংবাদিক লিয়াকত হোসেন ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক। বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনের সময় রাজধানী ঢাকা যেই উত্তাল ঢেউ ফরিদপুরের মতো মফস্বল শহরে এসে উত্তাল তরঙ্গের সৃষ্টি করেছিলো, সেই ঢেউয়ের সম্মুখ সারির অন্যতম একজন ভাষাসৈনিক ছিলেন তিনি। তিনি রাজনীতির অধিকার প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকতাকেই মোক্ষম পন্থা হিসেবে বেছে নেন।

সেসময়ে ফরিদপুর জেলা সদরের মাত্র অল্প কয়েকজন সাংবাদিক (যদিও তারা ছিলেন শিক্ষিত, আত্মমর্যাদাবান এবং বেশিরভাগই সম্ভ্রান্ত পরিবারের এবং সমাজে নেতৃত্বস্থানীয় ছিলেন) যারা ফরিদপুরে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে শুরু করেছিলেন; তাদের নেতৃত্ব প্রদানের দ্বায়িত্বটি ঈর্ষণীয় সাফল্যের সাথে পালন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

শুধু সক্ষমই হননি, বরং তিনি ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও একজন সাংবাদিক ও সাংবাদিক নেতা হিসেবে আমাদের সামনে স্বমহিমায় ভাস্বর একটি নিজস্ব ব্র্যান্ড হয়ে উঠেতে পেরেছেন।

ফরিদপুরের একেবারে শুরুর দিকের সম্মানিত সাংবাদিকেরা লিয়াকত হোসেনকে তাঁর নেতৃত্বের গুণাবলির স্বীকৃতিস্বরূপ সর্ব সম্মতিক্রমে সভাপতি নির্বাচিত করেছিলেন। এবং আমৃত্যু তিনি বিতর্কহীনভাবে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি পদে আসীন ছিলেন। তিনি ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে দারুণ সফল হিসেবে মফস্বলের এই জেলা শহরের সাংবাদিকতাকে একটি উচ্চমার্গের অবস্থানে নিয়ে সাংবাদিকদের পেশাগত পথচলার মসৃন সূচনা করে যান।

সভাপতি হিসেবে দ্বায়িত্ব লাভের পর নানা চড়াই-উৎরাই ও ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে তিনি সতীর্থদের সহযোগে সাংবাদিকদের একটি নিজস্ব অবস্থান তৈরিতে অবিচলভাবে নেতৃত্ব দিয়ে গিয়েছেন।

যার ফলস্বরূপ ফরিদপুরের সাংবাদিক সমাজ একটি সমৃদ্ধ অতীতের অধিকারী হতে পেরেছেন এটি বলতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই কারো। এই সুদীর্ঘ যাত্রায় তার সহযোদ্ধা হিসেবে ছিলেন আরো কয়েকজন মহৎপ্রাণ পুরুষ।

সাংবাদিক লিয়াকত হোসেনের শাহাদাৎবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলির পাশাপাশি তার সেইসকল সহযোদ্ধা সম্মানিত সাংবাদিকদেরও গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।

‘মর্জিনার চুল ভেজা ছিলো’

এটি সাংবাদিক লিয়াকত হোসেনের একটি অনুসন্ধানী সংবাদের চমকে দেওয়ার মতো শিরোনাম।

একজন গৃহপরিচারিকাকে ডাকসাইটে এক পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে হত্যার অভিযোগ উঠলে ওই খবরের নেপথ্যের ঘটনাবলী বর্ণনায় এই শিরোনাম করেন তিনি।

একটি সংবাদকে কতোটা গভীর ও আকর্ষণীয় হিসেবে উপস্থাপন করা যায়, এই শিরোনামটিই তার যথার্থ প্রমাণ।

খবর তৈরিতে তিনি কতোটা পারদর্শী ছিলেন, এমন অনুসন্ধিৎসু শিরোনাম পড়লে তা বোঝা যায়।

একবার ফরিদপুরের পুলিশ অফিসের একজন হেডক্লার্কের বাড়ি থেকে মর্জিনা নামে একজন গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে শুরু থেকেই তৎপর ছিলো বাড়ির লোকেরা। সন্দেহ হচ্ছিলো তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে এবং মৃত্যুর আগে তার মাথায় পানি ঢালা হয়েছিলো। কিন্তু পরে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরে বিষয়টি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালানো হয়েছে।

সাংবাদিক লিয়াকত হোসেন পুরো ঘটনাটির বর্ণনা তাঁর সরেজমিন অনুসন্ধানের পর এভাবেই তুলে আনতে পেরেছিলেন। এ ঘটনার পর পত্রিকায় একের পর এক ফলোআপ নিউজ করার ফলে অনেকের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিল। এখন সাংবাদিক পরিচয়ে বড় বড় মিডিয়ার কর্মীদের পুলিশ কিংবা প্রশাসনের ইনফর্মা হয়ে কাজ করতে দেখে সাংবাদিক লিয়াকত হোসেনের কথা মনে পড়ে।

যদিও সেই সময়ে এসব মামলা তদন্তে মান্ধাতার প্রযুক্তি, চাক্ষুস সাক্ষীর অভাব এবং সর্বোপরি পুলিশ অফিসের বড় বাবুর হস্তক্ষেপে সত্য উদ্ঘাটন খুবই কঠিন ছিলো। আমরা পরবর্তী প্রজন্মের সংবাদকর্মীরা সেই সমসাময়িক কালের প্রবীণ সাংবাদিকদের মুখে তাঁর কর্মজীবনের এমন অনুসন্ধিৎসু সংবাদ পরিবেশন, দৃঢ়চেতা মনোভাব, আত্মমর্যাদা সম্পন্ন সাংবাদিকতা এবং অবিচল নেতৃত্বের অনেক বর্ণনা জেনেছি আমাদের অগ্রজদের নিকট হতে। যারা তার সহকর্মী ছিলেন।

একজন সাংবাদিককে কেনো সমাজের বিবেক ও সংবাদমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয় সেটি খুব পরিস্কার হয়ে উঠে তাঁর জীবনের এমন নানান চমকপ্রদ বর্ণনার মধ্যে। আমি যেহেতু এসবের প্রত্যক্ষদর্শী নই এবং এসব বিবরণ যেহেতু স্পষ্টভাবে পরবর্তীতে লিপিবদ্ধ করা হয়ে উঠেনি তাই আমি বিচ্ছিন্নভাবে জানা এসব ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ পুনরাবৃত্তি করতে পারছিনা।

তবে কিছু তথ্য উল্লেখ না করলেই নয়।

ফরিদপুর প্রেসক্লাবে আরেকজন বর্ষিয়ান এবং চারণ সাংবাদিক ছিলেন ইউসুফ রেজা মন্টু। পিতার বয়সী এই শ্রদ্ধেয় সাংবাদিককে আমি ভাই বলে সম্মোধন করতাম। ইউসুফ রেজা মন্টুর বর্ণনায় জেনেছি, একবার সাংবাদিক লিয়াকত হোসেন একটি হত্যাকান্ডের খবরের অন্তরালের রহস্য উদ্ঘাটনে ইউসুফ রেজা মন্টুকে বাইসাইকেলে করে পাঠিয়েছিলেন শরিয়তপুরের ভেদরগঞ্জে। তখন শরিয়তপুর ছিলো ফরিদপুরের মহকুমা এবং ফরিদপুর ছিলো তাদের জেলা সদর। ভেদরগঞ্জে ইউসুফ রেজা মন্টু কৃষকের ছদ্মবেশ ধারণ করে সরেজমিনে সেই হত্যাকান্ডের রহস্য উম্মোচন করে আসল তথ্য বের করে এনেছিলেন। তখন এই রুটে বাস চলাচল ছিলোনা বলে এতো কষ্ট করে বাইসাইকেলে চেপেই খবর অন্বেষণে যাত্রা। খবরের পেছনে এমন দুঃসাধ্য অভিযাত্রার নেপথ্যে সাংবাদিকতার প্রতি কতোটা গভীর টান ও নিষ্ঠা থাকলেই একমাত্র সম্ভব হয়, সেটি অবশ্যই ভাবনার বিষয়। আর একজন অগ্রজ সাংবাদিক হিসেবে কিভাবে অনুজদের কাজে লাগানো যায় এটি তারও একটি নজির।

আরেকবার বাসে করে আসার পথে সন্ধ্যাবেলায় পুখুরিয়ায় একটি বাস দুর্ঘটনার ছবি তুলতে পাশের এক বাড়ি থেকে হারিকেন কিংবা টর্চ জাতীয় কোন কিছু সংগ্রহ করে আলোর ব্যবস্থা করে ছবি তুলেছিলেন লিয়াকত হোসেন। এই তথ্যও আমি জেনেছি ইউসুফ রেজা মন্টুর কাছ থেকে।

ফরিদপুরের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন প্রজন্ম হয়তো অনেকেই জানেন না যে, তৎকালে ধর্মীয় জ্ঞান সম্মন্ধে অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে এ অঞ্চলের দরিদ্র হিন্দু ও মুসলিম পরিবারের সন্তানদের মিশনারী স্কুলে ভর্তির মাধ্যমে ধর্মান্তরিত ও শিকড়চ্যুত করার গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়। এর প্রতিবাদে তখন সাংবাদিক লিয়াকত হোসেন তাঁর একের পর এক ক্ষুরধার লেখনির মাধ্যমে জনমত তৈরি করেছিলেন। তার লেখনির মাধ্যমে এই শহরে তখন যেনো একটি রেনেসাঁসের সৃষ্টি হয়েছিলো। একাজে তিনি শুধু লেখনির মাধ্যমেই তাঁর কাজের পরিধি সীমাবদ্ধ রাখেননি।

ফরিদপুরের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গকে সংগঠিত করে বিকল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন ফরিদপুর মুসলিম মিশন। যা আজ দক্ষিণবঙ্গের একটি অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নির্ভরযোগ্য এতিমনিবাস হিসেবে সুখ্যাত। এই মুসলিম মিশন নামটিও তাঁর দেওয়া। আবার সেখানে কলেজও গড়ে উঠেছে। সেই থেকে বছরের পর বছর ধরে হাজার হাজার মা-বাবাহারা এতিম সন্তানকে লালনপালন করা হচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানে।

এমন একটি জনহিতৈষী মহত্তম কাজ যদি সদকায়ে জারিয়া হিসেবে পরিগনিত হয়, তাহলে এর উপযুক্ত বদৌলতের একটি বড় অংশ দয়াময় আল্লাহ তাঁকে দান করবেন।

এখানে উল্লেখ্য যে, তার এই দীর্ঘ কল্যাণকর কাজে বেশ কয়েকজন সমমনা সাথীর মধ্যে অন্যতম ছিলেন ফরিদপুরের আরেকজন সর্বজনশ্রদ্ধেয় সাংবাদিক আলী শিকদার।

শুনেছি, সাংবাদিকতার নানা বিষয় ছাড়াও সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে গভীর রাত পর্যন্ত তাদের এমন কতাবার্তা শেষে তারা যখন বাড়ি ফিরতেন, তখন ছেলেমেয়েরা সবাই ঘুমিয়ে। আসলে তারা এতোটাই ব্যস্ত থাকতেন বাইরের কাজে যে, পরিবারের জন্য সময় দেয়াটাও হয়ে উঠতো না সেভাবে।

কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, এই মহৎ মানুষটিকে আমরা একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় হারিয়ে ফেলেছি।

১৯৯৩ সালের ১৬ অক্টোবর ফরিদপুর থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে মানিকগঞ্জে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন। যোগাযোগ ব্যবস্থার সেই নাজুক আমলে তার মৃত্যুর সংবাদটি সহকর্মীগণ সহ পরিবারের কাছে পৌছাতে দিন শেষে সন্ধা হয়ে যায় বলে জেনেছি।

সাংবাদিক লিয়াকত হোসেন ‘৫০ এর দশকের দিকে রাজেন্দ্র কলেজে পড়তেন। ফরিদপুর প্রেসক্লাবের দীর্ঘদিন সভাপতি থাকা সত্বেও সততার সাথে জীবন পরিচালনা করেছেন। সাংবাদিকতাকে কখনোই অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেননি।

ফরিদপুরের যাবতীয় কর্মকান্ডে চার দশক তথা পঞ্চাশ, ষাট, সত্তর ও আশির দশক জুড়ে সাংবাদিক লিয়াকত হোসেন অন্যতম কেন্দ্রিয় চরিত্র ছিলেন।

আমাদের পথিকৃত এই সাংবাদিক ফরিদপুরের প্রায় সব ক’টি জনকল্যাণমূলক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফরিদপুরের সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনেরও অন্যতম অভিভাবক ছিলেন তিনি। ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সৎ ও নির্লোভ। সর্বজনশ্রদ্ধেয় এই কৃতিব্যক্তিত্ব আপন মহিমায় চিরভাস্বর হয়ে আছেন। এই কৃতি ব্যক্তিত্ব আমাদের আলোর পথের একজন অতুলনীয় পথ প্রদর্শক এবং গৌরবান্বিত অভিভাবক ছিলেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর ত্রিশ বছর পরে আমরা স্বার্থপরের মতো তাকে বিস্মৃত হতে চলেছি।

তাঁর স্মৃতিময় রিপোর্টিং, তাঁর হাতে গড়া বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন, তাঁর সেই সভাপতির চেয়ার, বইপত্র, আলমিরা, তাঁর সেই ঐতিহ্যের যত স্মারক; কিছুই আর প্রেসক্লাবে নেই। এ যেনো তাঁরই হাতে গড়া সংগঠন হতে তাঁকে মুছে দেয়া। সেখানে তাঁর একটি ছবিও নেই!

কায়মনোবাক্যে আমাদের প্রার্থনা- দয়াময় আল্লাহ সাংবাদিক লিয়াকত হোসেনকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সম্মানিত স্থানে অধিষ্ঠিত করুন। তাঁর বারযাখের সফরকে বরকতময় করে দিন।

৩৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচি

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংবাদিক লিয়াকত হোসেনের ৩৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে এক সভা অনুষ্ঠিত হবে আজ শুক্রবার সন্ধ্যায়। প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক বদিউজ্জামান চৌধুরী ভাদু।