চাল উদ্ধারের ঘটনা পৌর সচিবের চালবাজি: অভিযোগ ইমাম মুয়াজ্জিনদের
- আপডেট সময় : ০১:১২:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
- / 91
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বোয়ালমারী উপজেলার পৌর সদরে ইমাম পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ইমাম-মুয়াজ্জিন পরিষদ। ছবি- অগ্নিপ্রহর
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল নিয়ে উপজেলা ইমাম-মুয়াজ্জিন পরিষদের উপদেষ্টা আব্দুস সামাদ খানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
বোয়ালমারী পৌরসভার সচিব মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের হেয় প্রতিপন্ন ও অপমানজনক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা ইমাম-মুয়াজ্জিন পরিষদ।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বোয়ালমারী উপজেলার পৌর সদরে ইমাম পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এতে বক্তব্য রাখেন বোয়ালমারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম হোসাইন আহমাদ এবং ইমাম-মুয়াজ্জিন পরিষদের উপদেষ্টা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর আব্দুস সামাদ খান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগের দিন বুধবার বিকেলে ঈদুল আজহা উপলক্ষে বোয়ালমারী পৌরসভা থেকে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য ৬৩০ কেজি (১২ বস্তা) চাল বরাদ্দ দেওয়াহয়। এই চাল ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাঝে বিতরণের জন্য উপজেলা ইমাম-মুয়াজ্জিন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ে এনে রাখা হয়েছিল। কার্যালয়টি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ৬নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুস সামাদ খানের মালিকানাধীন একটি বহুতল ভবনে অবস্থিত। ওই দিন সন্ধ্যার পর রাত সাড়ে ৭টার দিকে সেখানে অভিযান চালিয়ে পৌর সচিব মনিরুজ্জামান এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব্বির আহমেদ চালগুলো উদ্ধার করে পৌরসভায় নিয়ে যান। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বরাদ্দকৃত চাল তালিকা অনুযায়ী নির্দিষ্ট ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাঝে বিভরণের প্রস্তুতি চলছিল। ঢালু উত্তোলনের মাত্র ৩ ঘণ্টার মাষায়, তা বিতরণের সুযোগ না দিয়েই আাম্যমাণ পরিচালনা করে চাল জব্দ করে নিয়ে যাওয়া হয়া। তবে পরবর্তী সময়ে রাতে তারাএ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং জব্দ করা চাল আবার ফেরত নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। স্থানীয় ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের অভিযোগ, সমাজে তাঁদের হেয় প্রতিপন্ন করতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। তাঁরা দ্রুততম সমা ড়িতদের শাস্তির এ ঘটনার তদন্ত করে জড়িতে আওতায় আনার দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার ৬৬টি মসজিদের ইমামও মুয়াজ্জিন উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, বোয়ালমারী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আব্দুস সামাদ খানের দক্ষিণ শিবপুরের বাড়ি থেকে গত বুধবার রাতে ৬৩০ কেজি ভিজিএফের চাল উদ্ধার করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শিব্বির আহমেদ। পৌরসভার ৬৭ জন মোয়াজ্জিনের জন্য বরাদ্দকৃত এই চাল বুধবার বিকেল ৪টায় পৌরসভা থেকে উত্তোলন করেন পরিষদের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম হোসাইন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক সাহেব আলী। এরপর সেই চাল পরিষদের সামাদ খানের মালিকানাধীন ভবনে অবস্থিত পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ে এনে রাখা হয়। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৭টার দিকে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে জনাকীর্ণ ওই সংবাদ সম্মেলনে পৌর সচিব মনিরুজ্জামান সিকদারকে অবিলম্বে অপসারণের আল্টিমেটাম দিয়ে ইমামগণ বলেন, কোরবানির ঈদের পরেও যদি পৌর সচিব একই কর্মস্থলে বহাল থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে বৃদ্ধত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ইমাম পরিষদের সভাপতি হোসাইন আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, ‘সচিব মনিরুজ্জামান একজন দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তি, ঘুষ ছাড়া তিনি কোনো কাজ করেন না। প্রতিবছর দুই ঈদে পৌরসভা থেকে ৬০টি মসজিদের ইমামদের এক হাজার টাকা এবং মুয়াজ্জিনদের উপহার হিসেবে চাল দেওয়া হয়। গত রোজার ঈদেও ইমাম সাহেবদের টাকার চেক দেওয়ার সময় সচিব নানা টালবাহানা করেছেন। সরাসরি টাকা না চাইলেও আকারে-ইঙ্গিতে টাকার কথা বুঝিয়েছেন।
এ বিষয়ে সেসময় অভিযোগ তোলা হয়েছিল। ইউএনও স্যার বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। সেই ক্ষোভ থেকেই এবার আমাদের চাল দেওয়ার ৩ ঘণ্টা পর ‘চাল উদ্ধারের নাটক’ করে সবার সামনে আমাদের হেয় প্রতিপন্ন করেছেন। তিনি আমাদের সম্মানহানি করেছেন, সেই সাথে অন্যতম উপদেষ্টা সামাদ খানের সুনাম নষ্ট করেছেন। পরিষদের ইমামগণ আরও বলেন, বিকেলের দিকে চাল এনে তাৎক্ষণিকভাবে ৬২ জন মোয়াজ্জিনের মধ্যে কীভাবে বিতরণ করা সম্ভব? তাই চালগুলো উপদেষ্টা সাহেবের বাড়িতে অস্থায়ী কার্যালয়ে মজুদ রাখা হয়েছিল। সিদ্ধান্ত হিল, পরদিন সবাইকে ডেকে সই স্বাক্ষর নিয়ে চাল বিতরণ করা হবে। সচিব সেই অনুযায়ী আমাদের মাস্টার রোলের কাগজ এবং কার্ড দিয়ে বলেছিলেন রোববার জমা দিতে। অথচ তিনিই আবার সেই চাল উদ্ধার করে নিয়ে গেলেন!
বোয়ালমারী ইমাম-মুয়াজ্জিন পরিষদের সভাপতি হোসাইন আহমাদ প্রশ্ন তোলেন, আমাদের চাল দিয়ে কেন এভাবে অপম অপমান করা হলো? আমরা দেখ করেছি, কী অপরাধ আমাদের?
অন্যদিকে উপদেষ্টা আব্দুস সামাদ খান বলেন, এটি একটি গভীর যড়যন্ত্র। এর সঠিক বিচার করা। না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে নামব।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বোয়ালমারী পৌরসভার সচিব মনিরুজ্ঞামান সিকদার দাবি করেন, তাঁদের চাল দেওয়া হয়েছে বিতরণ করার জন্য, কোথায় মজুত করে রাখার জন্য নয়। যখনই খবর পেয়েছি চাল একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে রাখা হয়েছে, তখনই প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব্বির আহমেদ বলেন, সামাদ খানের বাড়িতে ভিজিএফের চাল মজুত আছে-এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সেগুলো জব্দ করা হয়।
সার্বিক বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান বলেন, “চাল বিতরণ নিয়ে কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
















