‘প্রপোজ ডে’ চালু হলো যেভাবে
- আপডেট সময় : ১১:১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 26
গতকাল ‘রোজ ডে’ দিয়ে শুরু হওয়া ভালোবাসা সপ্তাহের আজ দ্বিতীয় দিন, অর্থাৎ ‘প্রপোজ ডে’। মনের কোণে জমে থাকা অব্যক্ত কথাগুলো প্রিয় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দিন মনে হলেও পেছনে রয়েছে ভিন্ন বার্তা। ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের দ্বিতীয় এই দিনটি মূলত প্রিয়জনের কাছে নিজের আবেগ বা বিবাহের প্রস্তাব দেওয়ার জন্য উৎসর্গ করা হয়। তবে এই দিনটি কেবল শৌখিন উদযাপন নয়, এর পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট বিবর্তন ও আধুনিক সংস্কৃতির প্রভাব।
‘প্রপোজ ডে’ বা ভালোবাসার সপ্তাহ উদযাপনের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রাচীন নথিবদ্ধ ইতিহাস নেই। খ্রিষ্টীয় তৃতীয় শতাব্দীতে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন যখন রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াসের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে গিয়ে গোপনে যুগলদের বিয়ে দিতেন, সেই ঘটনার স্মৃতি থেকেই বিয়ের প্রস্তাব বা সম্পর্কের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার বিষয়টি এই সপ্তাহের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে মনে করা হয়। মূলত মধ্যযুগে ইউরোপে যখন দরবারি প্রেম জনপ্রিয় হতে শুরু করে, তখন থেকেই প্রিয়জনকে প্রস্তাব দেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।
১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে এবং ২০০০-এর দশকের শুরুতে গ্রিটিংস কার্ড কোম্পানি এবং গিফট ইন্ডাস্ট্রির বিপণন কৌশলের হাত ধরে ভ্যালেন্টাইন ডে-কে কেন্দ্র করে সাতটি পৃথক দিনের প্রচলন শুরু হয়। এর মধ্যে ৮ ফেব্রুয়ারিকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়। এই দিনে বিশ্বব্যাপী ফুলের বাজার এবং গয়নার দোকানের বিক্রি বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ পার্সেন্ট বেড়ে যায়! বিশেষ করে ডায়মন্ড রিলেটেড সার্চ ও আংটি কেনার হার এই দিনে উল্লেখযোগ্য থাকে।
অবশ্য পছন্দের মানুষকে নিজের ভালো লাগার কথা জানানো বা দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে পরিণতির দিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার জন্য বর্তমান প্রজন্মের অনেকের কাছে আবার দিনটি বিশেষ হয়ে ওঠে। গত কয়েক বছরে ‘প্রপোজ ডে’ হ্যাশট্যাগটি ফেব্রুয়ারির শুরুতে বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ট্রেন্ডগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। গ্লোবাল রিলেশনশিপ স্টাডিজের মতে, বছরের অন্যান্য দিনের তুলনায় ফেব্রুয়ারি মাসে বিবাহের প্রতিশ্রুতি বা ‘এনগেজমেন্ট’ করার হার অনেক বেশি থাকে, যার একটি বড় অংশ ঘটে ৮ ফেব্রুয়ারি।
আগেকার দিনে সরাসরি কথা বলার চেয়ে চিঠির মাধ্যমে প্রস্তাব দেওয়ার চল ছিল বেশি। বিংশ শতাব্দীতে এটি কার্ড এবং টেলিফোনে রূপ নেয়। বর্তমানে এই দিনটি পালনের ধরনে এসেছে আমূল পরিবর্তন। ডেস্টিনেশন প্রপোজাল, ভিডিও কন্টেন্ট এবং সোশ্যাল মিডিয়া লাইভের মাধ্যমে দিনটিকে স্মরণীয় করার প্রবণতা এখন মূলধারায় পরিণত হয়েছে।
ভালোবাসা প্রকাশের এই দিবসগুলো তরুণ প্রজন্মের কাছে নিজেদের আবেগ বিনিময়ের একটি মাধ্যম। তবে শুধু উপহার বা বাহ্যিক আড়ম্বর নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সততাই একটি সম্পর্কের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত।









