ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু : স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন
- আপডেট সময় : ১২:০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
- / 62
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার পর স্পিকারের চেয়ার খালি রেখে সংসদ অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আজ বেলা ১১টায় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। শুরুতে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান স্পিকার হিসেবে হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে সমর্থিত হয়। একইভাবে ডেপুটি স্পিকার হিসেবে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নাম ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান।
পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের পর বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন, যার অশেষ রহমতে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন যাত্রা শুরু করা সম্ভব হয়েছে। তিনি ১৯৭১ সাল থেকে সব আন্দোলন-সংগ্রামের শহীদদের স্মরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী ও তাবেদারি শাসন-শোষণের পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে এক বিশেষ পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে সংবিধান ও সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির বিধান অনুসরণ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সভাপতিত্ব করার জন্য তিনি প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও পাঁচবারের নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। এতে পূর্ণ সমর্থন জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় রীতিনীতির ইতিহাসে এ ধরনের পরিস্থিতি নজিরবিহীন নয়। ১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান ওই সংসদের সদস্য মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নাম প্রস্তাব করেছিলেন এবং তার সভাপতিত্বে বাংলাদেশের প্রথম সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিল।
এছাড়া অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাবকে বিরোধী দলীয় উপনেতা জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরও সমর্থন জানান।
অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধনী ভাষণ দেন। পরে স্পিকারের সভাপতিত্বে সংসদের পক্ষ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ বিগত দিনে মৃত্যুবরণকারী সংসদ সদস্য ও জাতীয় নেতাদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এ সময় মরহুমদের রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
বিকেলের সেশনে রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন সংসদে ভাষণ শুরু করলে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ শুরু করেন।
অধিবেশনের বিধি অনুযায়ী স্পিকার যখন রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেয়ার জন্য মঞ্চে আহ্বান জানান, তখন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল- ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘গণতন্ত্র চাই, ফ্যাসিজম নয়’ এবং ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ করো’।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বারবার শান্ত থাকার অনুরোধ জানালেও বিরোধী দলের সদস্যরা স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি ও ভাষণের প্রতিবাদ জানিয়ে তারা সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন।
বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন তার লিখিত ভাষণ পাঠ করেন। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার দল বিএনপি এবং মিত্রদের অভিনন্দন জানান। একইসাথে তিনি একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তাদেরও শুভেচ্ছা জানান।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষ হওয়ার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আগামী রোববার বেলা ১১টা পর্যন্ত সংসদ মুলতবি ঘোষণা করেন। ওইদিন বেলা ১১টায় ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় কার্যদিবস শুরু হবে।










