মুসলিম শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় উগ্রপন্থীদের চাপে কাশ্মীরে মেডিকেল কলেজ বন্ধ করল ভারত
- আপডেট সময় : ০৭:৩০:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / 160
ভারত শাসিত কাশ্মীরের রিয়াসি জেলায় শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী মেডিকেল ইনস্টিটিউট (SMVDMI) নামে একটি নতুন মেডিকেল কলেজ সম্প্রতি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এটি একটি হিন্দু ধর্মীয় ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত হলেও আংশিকভাবে সরকারি অর্থায়নে চলত।
আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ওই খবরে বলা হয়, কলেজটির প্রথম ব্যাচের ৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪২ জনই ছিলেন মুসলিম। তারা সবাই ভারত সরকারের কেন্দ্রীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET) পাশ করে মেধার ভিত্তিতে সেখানে ভর্তি হয়েছিলেন।
উগ্রপন্থী হিন্দু গোষ্ঠীগুলো এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ শুরু করে। তাদের দাবি ছিল—যেহেতু মন্দির তহবিলের টাকায় কলেজটি চলে, তাই সেখানে মুসলিম শিক্ষার্থীরা কেন পড়বে? তারা এমনকি শুধু হিন্দুদের জন্য আসন সংরক্ষণের দাবিও জানায়।
শেষ পর্যন্ত ভারতের জাতীয় চিকিৎসা কমিশন (NMC) কলেজটির স্বীকৃতি বাতিল করে দেয়। তারা কারণ হিসেবে দেখিয়েছে যে, কলেজে শিক্ষক, ল্যাব এবং পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, কলেজের সুযোগ-সুবিধা এবং ল্যাব অনেক সরকারি কলেজের চেয়েও ভালো ছিল। হঠাৎ করে পরিকাঠামোর দোহাই দিয়ে কলেজ বন্ধ করাটা তাদের কাছে অযৌক্তিক মনে হচ্ছে।
প্রতি বছর ২০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়, কিন্তু ডাক্তার হওয়ার সুযোগ (MBBS সিট) পায় মাত্র ১ লাখ ২০ হাজারের মতো। অর্থাৎ, প্রতি ১০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৬ জন সুযোগ পায়।
সরকারি কলেজ চান্স পেতে হলে পরীক্ষায় অনেক বেশি নম্বর (High Cutoff) পেতে হয়।
যারা সরকারি কলেজের জন্য পর্যাপ্ত নম্বর পায় না, কিন্তু পাশ করার মতো ন্যূনতম নম্বর পায়, তারা বেসরকারি কলেজে ভর্তি হয়। তবে সেখানে পড়াশোনার খরচ অনেক বেশি।
সানিয়া নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, তারা সবাই এই বিশাল প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় পাশ করেই এই কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন।
কাশ্মীরি শিক্ষার্থীরা এই কলেজটি বেছে নিয়েছিলেন কারণ এটি বেসরকারি হলেও তাদের বাড়ির কাছে ছিল এবং সরকারি বড় কলেজের মতো সুযোগ-সুবিধা সেখানে পাওয়া যাচ্ছিল।
সরকারি কলেজে পুরো কোর্সের খরচ মাত্র কয়েক হাজার থেকে লাখ টাকার মধ্যে, যেখানে বেসরকারি কলেজে এটি ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
সরকারি হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি থাকে, তাই সেখানে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ অনেক বেশি।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং শিক্ষার্থীদের ধারণা, উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর চাপের মুখেই সরকার বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা কলেজটি বন্ধ করার অজুহাত খুঁজে বের করেছে। মেধার ভিত্তিতে ভর্তি হওয়া সত্ত্বেও শুধু ধর্মের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে।










