ভারতে পুলিশের এক অভিযানে বিপুল জাল স্নাতক সনদ জব্দের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো
অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ সহ চার দেশের ‘স্টুডেন্ট ভিসায়’ কড়াকড়ি
- আপডেট সময় : ০৫:৫১:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
- / 43
অস্ট্রেলিয়া সরকার বাংলাদেশকে স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে ‘অ্যাসেসমেন্ট লেভেল-১’ (সর্বনিম্ন ঝুঁকি) থেকে সরাসরি ‘লেভেল-৩’ বা সর্বোচ্চ ঝুঁকির তালিকায় পাঠিয়েছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, নেপাল এবং ভুটানকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে।
এখন থেকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আর্থিক সামর্থ্য এবং অ্যাকাডেমিক কাগজপত্রের আরও ব্যাপক প্রমাণাদি জমা দিতে হবে। বিশেষ করে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, আয়ের উৎস এবং ইংরেজি ভাষার দক্ষতার (IELTS/PTE) প্রমাণ বাধ্যতামূলকভাবে পরীক্ষা করা হবে।
কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের কারণে ভিসা পেতে আগের চেয়ে বেশি সময় লাগবে। আগে যেখানে ৩-৪ সপ্তাহ সময় লাগত, এখন তা ৬-৮ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় নিতে পারে।
মূলত ভুয়া কাগজপত্র বা জালিয়াতির হার বেড়ে যাওয়ার কারণে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর এই ‘অফ-শিডিউল’ বা অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষার্থী ভিসার ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। যদি কোনও আবেদনকারী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বায়োমেট্রিক সরবরাহ না করেন, তবে তার ভিসার আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভিসা আবেদনের সময়ে প্রচুর জাল ব্যাংক গ্যারান্টি এবং ভুয়া ডিগ্রি সনদ ধরা পড়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, ভারতে পুলিশের এক অভিযানে ১ হাজার ২০০টি জাল স্নাতক সনদ জব্দের ঘটনাটি এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে।
গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় মোট আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই চারটি দেশ থেকে এসেছিল।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, ৮ জানুয়ারি দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের লেভেল পরিবর্তন করা হয়েছে।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে এসব দেশের শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়ায় আর্থিক সক্ষমতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত নথিতে জালিয়াতির প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নতুন স্বচ্ছতা–সংক্রান্ত সমস্যাগুলো কার্যকরভাবে যাচাই এবং একই সঙ্গে প্রকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করাই এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য।’
নতুন ব্যবস্থার ফলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদনে এখন থেকে আরও বিস্তারিত আর্থিক দলিল, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও ব্যাকগ্রাউন্ড তথ্য জমা দিতে হবে। পাশাপাশি আবেদন যাচাইয়ে ম্যানুয়াল তদন্ত বাড়ানো হবে, যার ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।










