০৮:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
ফরিদপুরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন মুম্বাই বিমানবন্দরে ১২ কোটি রুপির মাদকসহ সাবেক ‘মিসেস কেরালা’ প্রতিযোগী গ্রেপ্তার সকলকে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকতে হবে -পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আগ্রহের কেন্দ্রে ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির নির্বাচন বিশ্বকাপে প্রথম খেলায় চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে কোরিয়ার জয় প্রতারক সন্দেহে খাসি ব্যবসায়ীকে বাড়িতে ডেকে মহিলাদের নির্যাতন, টাকা লুটের অভিযোগ লাল কার্ডের রেকর্ডেও উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের ধারায় মেক্সিকো দাঙ্গা আর মামলার ঝক্কি এড়িয়ে শান্তি ফিরবে কি অশান্ত সালথায়? নীরব ঘাতক ‘ফ্যাটি লিভার’: সচেতনতাই সুস্থ লিভারের চাবিকাঠি স্কুলের সামনে বিটুমিন পোড়ানোর ধোঁয়ায় অসুস্থ্য কোমলমতি শিক্ষার্থীরা
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানের সেনাবাহিনী ও অভিজাত বাহিনী আইআরজিসি (IRGC) কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে

বিক্ষোভে উত্তাল ইরান: প্রাণহানি বেড়ে ৬২

আন্তর্জাাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৫১:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 91

তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ইরানজুড়ে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এখন সহিংস রূপ নিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৪৮ জন বিক্ষোভকারী ও ১৪ জন নিরাপত্তা সদস্যসহ মোট ৬২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। গত ২৮ ডিসেম্বর রিয়ালের দরপতন ও মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে তেহরানে শুরু হওয়া এই আন্দোলন বর্তমানে সরাসরি সরকার পতনের দাবিতে রূপ নিয়ে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানের সেনাবাহিনী ও অভিজাত বাহিনী আইআরজিসি (IRGC) কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা একে "শত্রুদের চক্রান্ত" হিসেবে অভিহিত করে জাতীয় নিরাপত্তা ও ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের আদর্শ রক্ষাকে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করেছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অন্যদিকে ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে ইরান সরকারকে সতর্ক করেছেন।

তেহরান, ইরান: লাগামহীন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চরম সহিংস রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্যমতে, চলমান এই বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৪৮ জন সাধারণ বিক্ষোভকারী এবং ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন।
বিক্ষোভের সূত্রপাত ও বর্তমান অবস্থা: গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে তেহরানে প্রথম বিক্ষোভ শুরু হয়। দ্রুতই এই আন্দোলন দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে আন্দোলনকারীরা কেবল অর্থনৈতিক সংস্কার নয়, বরং সরাসরি বর্তমান সরকারের পতনের দাবি জানাচ্ছেন।
সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি-র হুঁশিয়ারি: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইরান সেনাবাহিনী কৌশলগত অবকাঠামো ও জনসম্পত্তি রক্ষার ঘোষণা দিয়েছে। তারা এই বিক্ষোভকে “শত্রুদের চক্রান্ত” হিসেবে অভিহিত করে জনগণকে তা নস্যাৎ করার আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে এক চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, ইতিহাসের অন্য স্বৈরশাসকদের মতো ট্রাম্পকেও শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাচ্যুত হতে হবে। অন্যদিকে, ইরানের অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, দেশের নিরাপত্তা ও ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের সাফল্য রক্ষা করা তাদের জন্য একটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা, যা কোনোভাবেই লঙ্ঘন করতে দেওয়া হবে না।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি: ইরানের সামরিক বাহিনী এই অস্থিরতার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। তাদের দাবি, বিদেশি মদদে দেশের জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইরানি নেতাদের সতর্ক বার্তা দিয়েছেন।
তথ্য বিভ্রাট ও দমনপীড়ন: বিক্ষোভ দমনে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অনেক এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। ফলে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ও গ্রেফতারের সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
সূত্র : আল জাজিরা, বিবিসি

শেয়ার করুন

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানের সেনাবাহিনী ও অভিজাত বাহিনী আইআরজিসি (IRGC) কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে

বিক্ষোভে উত্তাল ইরান: প্রাণহানি বেড়ে ৬২

আপডেট সময় : ১২:৫১:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

তেহরান, ইরান: লাগামহীন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চরম সহিংস রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্যমতে, চলমান এই বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৪৮ জন সাধারণ বিক্ষোভকারী এবং ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন।
বিক্ষোভের সূত্রপাত ও বর্তমান অবস্থা: গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে তেহরানে প্রথম বিক্ষোভ শুরু হয়। দ্রুতই এই আন্দোলন দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে আন্দোলনকারীরা কেবল অর্থনৈতিক সংস্কার নয়, বরং সরাসরি বর্তমান সরকারের পতনের দাবি জানাচ্ছেন।
সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি-র হুঁশিয়ারি: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইরান সেনাবাহিনী কৌশলগত অবকাঠামো ও জনসম্পত্তি রক্ষার ঘোষণা দিয়েছে। তারা এই বিক্ষোভকে “শত্রুদের চক্রান্ত” হিসেবে অভিহিত করে জনগণকে তা নস্যাৎ করার আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে এক চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, ইতিহাসের অন্য স্বৈরশাসকদের মতো ট্রাম্পকেও শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাচ্যুত হতে হবে। অন্যদিকে, ইরানের অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, দেশের নিরাপত্তা ও ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের সাফল্য রক্ষা করা তাদের জন্য একটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা, যা কোনোভাবেই লঙ্ঘন করতে দেওয়া হবে না।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি: ইরানের সামরিক বাহিনী এই অস্থিরতার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। তাদের দাবি, বিদেশি মদদে দেশের জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইরানি নেতাদের সতর্ক বার্তা দিয়েছেন।
তথ্য বিভ্রাট ও দমনপীড়ন: বিক্ষোভ দমনে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অনেক এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। ফলে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ও গ্রেফতারের সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
সূত্র : আল জাজিরা, বিবিসি