শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে পিআইবিতে আলোচনা সভা ও সংবাদপত্র প্রদর্শনী
“জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্ব একাকার হয়ে গেছিল’’
- আপডেট সময় : ০৮:০৬:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
- / 54
বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মসূচি ও কাজের মধ্যে জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই।’ তিনি বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ভূ-খণ্ডের মানুষকে স্বকীয়তা দিয়েছেন, পরিচিতি দিয়েছেন, আইডেন্টিটি দিয়েছিলেন যে আমরা আলাদা। আমরা ওদের সঙ্গে এক নই, আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন। যা আমরা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের মধ্যে দেখি৷’
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে সার্কিট হাউস রোডস্থ প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ পিআইবির অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একথা বলেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে এবং পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ ড. মুশতাক খান।
‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন নির্জোট কূটনীতি’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মনিরুজ্জামান। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক আবু রূশদ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিষ্ঠান ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক ড. সফিকুর রহমান।
সভাপতির বক্তব্যে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ এর আগের বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, কূটনীতি, অর্থনীতি এবং একদলীয় শাসনব্যবস্থার কাঠামো থেকে বেরিয়ে বহুদলীয় শাসনব্যবস্থা, পশ্চিমমুখী অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার কাছে গ্রহণযোগ্যতা, মুসলিম বিশ্বের কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবং সর্বশেষ বৃহৎ প্রতিবেশী ভারতকে সাথে নিয়ে সার্ক গঠন করা, দ্বিপাক্ষিক সমস্যাকে বহুপাক্ষিক ফোরামে নিয়ে সমাধান করার মাধ্যমে দেশকে সুসংহত করেচছেন।’
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মনিরুজ্জামান জিয়াউর রহমানের বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা, অর্থনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষণ, কৌশলগত স্বাধীনতা বজায় রাখা, সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়—নীতির বাস্তব প্রয়োগে গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি, পশ্চিমা দেশ, মুসলিম বিশ্ব এবং আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা; আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বাধীন ও স্বতন্ত্র অবস্থান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা এবং উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে তোলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. মুশতাক খান বলেন, ‘মুসলমানরা ভারত ভেঙেছে ৪৭ সালে, ভারত আমাদেরকে উদ্ধার করেছে ৭১ সালে তাই আমাদের প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে— এটা বাঙালি জাতীয়তাবাদের বয়ান। এ বয়ান ভেঙে বাঙালি জাতি ও বাঙালি মুসলমানকে মুক্তি দিয়েছে জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ।’
আলোচনায় অংশ নিয়ে আবু রূশদ বলেন, সবল প্রতিরক্ষানীতি ছাড়া সবল কুটনীতি হয় না। জিয়াউর রহমান একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে সামরিক ব্যবস্থার উন্নয়ন করে কূটনীতিকে শক্তিশালী করেছেন জিয়াউর রহমান৷ তাঁর আমলেই বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা আগের চাইতে অনেকগুণ শক্তিশালী হয়।’
ড. সফিকুর রহমান বলেন, জিয়াউর রহমান গার্মেন্টস শিল্পকে গুরুত্ব দিয়েছেন, রপ্তানির ব্যবস্থা করেছেন। সার্ক গঠন করে রিজিওনাল ডেমোক্রেসিকে গুরুত্ব দিয়েছেন৷ উনি (জিয়াউর রহমান) একজন ন্যাশন বিল্ডার।
ফারুক ওয়াসিফ সূচনা বক্তব্যে বলেন, জিয়াউর রহমানকে দেশের একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা শাসক ছিলেন। তাই তাঁকে সামরিক শাসক আখ্যায়িত করা একটা বিকৃত বয়ানমাত্র।
এছাড়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে পিআইবি সংবাদপত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে। প্রদর্শনীতে ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত জাতীয় দৈনিক উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া ছিল জিয়াউর রহমান ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে পিআইবি’র প্রকাশনা স্টল।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি












