খাল খননের অজুহাতে কাটা পড়লো তিন শতাধিক গাছ!
- আপডেট সময় : ১১:৫৪:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
- / 100
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নে খাল খননের আড়ালে প্রায় তিন শতাধিক নানা প্রকারের গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশ্যে খালের দুইপাড়ের সরকারী রাস্তার পাশ থেকে বিশাল আকারের বেশকিছু প্রজাতির গাছ ইতোমধ্যেই কেটে নেওয়া হয়েছে। এসব গাছের মূল্য কয়েক লাখ টাকা। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের প্রত্যক্ষ মদদে এসব গাছ কাটা হচ্ছে। এ বিষয়ে বনবিভাগ দোষারোপ করছে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে আর চেয়ারম্যান দায় চাপাচ্ছে বনবিভাগের ওপর।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তোলপাড়ের সৃষ্টি হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েকদিন আগে গুনবহা ইউনিয়নের নদের চাঁদ বাজার থেকে স্লুইস গেট পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে একটি খাল খননের উদ্বোধন করা হয়। কিছু অংশ খাল কাটার পর খালের দুইপাড়ের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নিচ্ছে প্রভাবশালী একটি মহল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খালের পাশ দিয়ে থাকা নদের চাঁদ-বোয়ালমারী সড়কের পাশে কয়েকশ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। এসব গাছের বেশির ভাগই বনবিভাগের। এছাড়া খালের অপর পাড়ে সরকারি ও ব্যক্তিগত জায়গা থেকেও গাছ কেটে নেওয়া হচ্ছে। নামপ্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ মদদে গত কয়েকদিন ধরে গাছ গুলো কেটে নেওয়া হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় চেয়ারম্যান গাছ কাটার বিষয়টি জানেন। তা
গাছ না কেটেও খাল খনন করা যেত। অভিযোগ রয়েছে, খালের পাড়ে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির কয়েকশ গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বনবিভাগকে জানালে তারা গাছ কাটতে নিষেধ করে। কিন্তু তাদের সেই নিষেধ অমান্য করেই দেদারছে কেটে ফেলা হচ্ছে গাছগুলো। খালপাড়ে প্রায় ৮ হাজার সামাজিক বনায়নের গাছ রয়েছে। এসব গাছের বেশকিছু ইতোমধ্যেই কেটে নেওয়া হয়েছে। বনবিভাগ কিছু গাছ উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নেয়। এদিকে গাছকাটার বিষয় নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও বনবিভাগ একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছে।
ফরিদপুরের সহকারী বন সংরক্ষক তাওহীদ হোসেন বলেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও গুনবহা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমাদের না জানিয়ে গাছগুলো কেটে নেন। আমাদের বনবিভাগের কেউ এ গাছ কাটার সঙ্গে যুক্ত নন।
অল্পকিছু গাছ কাটার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার নির্দেশ দিলে আমরা কিছু গাছ কেটে বনবিভাগে জমা দেওয়ার কথা বলেছি।
বনবিভাগের কর্মকর্তার বক্তব্যের বিরোধিতা করে স্থানীয় চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম জানান, আমি কিংবা আমার দলের কেউ গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত নই। বন কর্মকর্তা তাদের দোষ ঢাকতে আমাদের জড়িয়ে মিথ্যা প্রচারণা করছে। খাল খননের নামে গাছ লোপাটের বিষয়টি নিয়ে তোলপাড়ের সৃষ্টি হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম রকিবুল হাসান একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হওয়ায় এ বিষয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।













