০৪:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
ফরিদপুরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন মুম্বাই বিমানবন্দরে ১২ কোটি রুপির মাদকসহ সাবেক ‘মিসেস কেরালা’ প্রতিযোগী গ্রেপ্তার সকলকে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকতে হবে -পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আগ্রহের কেন্দ্রে ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির নির্বাচন বিশ্বকাপে প্রথম খেলায় চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে কোরিয়ার জয় প্রতারক সন্দেহে খাসি ব্যবসায়ীকে বাড়িতে ডেকে মহিলাদের নির্যাতন, টাকা লুটের অভিযোগ লাল কার্ডের রেকর্ডেও উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের ধারায় মেক্সিকো দাঙ্গা আর মামলার ঝক্কি এড়িয়ে শান্তি ফিরবে কি অশান্ত সালথায়? নীরব ঘাতক ‘ফ্যাটি লিভার’: সচেতনতাই সুস্থ লিভারের চাবিকাঠি স্কুলের সামনে বিটুমিন পোড়ানোর ধোঁয়ায় অসুস্থ্য কোমলমতি শিক্ষার্থীরা

অবৈধ সম্পর্ক থেকেই মা-মেয়ে হত্যা: জানালেন এএসপি ফাতেমা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৬:৩০:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • / 50

ফরিদপুরের চরমাধবদিয়ায় মাটিতে পুতে রাখা মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় কোতয়ালী থানায় প্রেস ব্রিফিং করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) ফাতেমা ইসলাম। ছবি- অগ্নিপ্রহর

অবৈধ সম্পর্ক থেকে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া্র পরে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় জাহানারা (৩০) ও তার পাঁচ বছরের মেয়ে সামিয়াকে। এরপর লাশ গুম করার জন্য কোদাল দিয়ে গর্ত খুড়ে মাটির নিচে পুতে রাখে।

ফরিদপুরের চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের কালিতলায় পুকুরপাড় থেকে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে লাশ উদ্ধারের পর মা ও মেয়ে হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল রোববার দুপুরে কোতয়ালী থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) ফাতেমা ইসলাম। এসময় জেলা পুলিশের ডিআইওয়ান মোঃ মোশারফ হোসেন, কোতোয়ালী থানার  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান ও পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত আব্দুল্লাহ বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম  জানান, এ হত্যাকান্ডে জড়িত একমাত্র আসামী উজ্জ্বল খানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আটক উজ্জ্বল খান রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের মঙ্গলপুর ইউনিয়নের বগারটিলার মৃত শাহজাহান খানের ছেলে। একইসাথে ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের ব্যবহৃত বোরকা, ওড়না, নেকাব, শিশু সামিয়ার পোশাক, একটি মালা, আসামির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও কোদাল উদ্ধার করা হয়েছে।

জাহানারা ও তার মেয়ে সামিয়াকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার উজ্জ্বল খান। ছবি- অগ্নিপ্রহর

তিনি জানান, ঢাকার আমিনবাজারে একটি ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করতেন জাহানারা ও উজ্জ্বল। তিনবছর আগে থেকে তাদের সাথে পরিচয় থেকে সম্পর্ক। কিছুদিন পর উজ্জ্বল তার কর্মস্থল থেকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে চলে আসে। তবে মোবাইলে তাদের মাঝে যোগাযোগ হতো। কয়েকদিন আগে প্রতিবেশীর বাড়িতে মিলাদে যোগ দিতে উজ্জলকে চাপ দেয় জাহানারা। এরপর গত ৪ মে মোবাইলে জাহানারাকে জামতলায় আসতে বলে। ওইদিন রাত সাড়ে ৭টার দিকে জাহানারা ও তার মেয়ে সামিয়াকে নিয়ে চরমাধবদিয়ার কালিতলায় একটি ছাপড়া ঘরে নিয়ে যায় উজ্জ্বল।

ওই ছাপড়া ঘরে শিশু সামিয়া ঘুমিয়ে ছিলো। তবে সেখানে উজ্জ্বল ও জাহানারার মাঝে দীর্ঘক্ষণ ধরে বিয়ে ও প্রেম নিয়ে আলাপ হয়। একপর্যায়ে জাহানারা বিয়ের জন্য চাপ দিলে তাদের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উজ্জ্বল শ্বাসরোধ করে হত্যা করে জাহানারাকে। এসময় পাশে ঘুমিয়ে থাকা শিশু সামিয়া জেগে উঠলে তাকেও একইভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সে। এরপর বাড়ি থেকে কোদাল নিয়ে এসে কাশেই পুকুরপাড়ের গর্ত খুড়ে মা ও মেয়ের লাশ সেখানে মাটির নিচে পুতে রাখে।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ মে  চরবালুধুমের কালিতলায় পুকুরপাড় সংলগ্ন স্থান থেকে মাটিচাপা অবস্থায় তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত জাহানারা গোয়ালন্দের কর্ণসোনার আমজাদ শেখের স্ত্রী।

এ ঘটনায় নিহতের স্বজন মোঃ লালন মোল্লা বাদি হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন এসআই (নিঃ) মোঃ আবুল বাশার মোল্লা।

শেয়ার করুন

অবৈধ সম্পর্ক থেকেই মা-মেয়ে হত্যা: জানালেন এএসপি ফাতেমা

আপডেট সময় : ০৬:৩০:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

অবৈধ সম্পর্ক থেকে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া্র পরে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় জাহানারা (৩০) ও তার পাঁচ বছরের মেয়ে সামিয়াকে। এরপর লাশ গুম করার জন্য কোদাল দিয়ে গর্ত খুড়ে মাটির নিচে পুতে রাখে।

ফরিদপুরের চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের কালিতলায় পুকুরপাড় থেকে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে লাশ উদ্ধারের পর মা ও মেয়ে হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল রোববার দুপুরে কোতয়ালী থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) ফাতেমা ইসলাম। এসময় জেলা পুলিশের ডিআইওয়ান মোঃ মোশারফ হোসেন, কোতোয়ালী থানার  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান ও পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত আব্দুল্লাহ বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম  জানান, এ হত্যাকান্ডে জড়িত একমাত্র আসামী উজ্জ্বল খানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আটক উজ্জ্বল খান রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের মঙ্গলপুর ইউনিয়নের বগারটিলার মৃত শাহজাহান খানের ছেলে। একইসাথে ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের ব্যবহৃত বোরকা, ওড়না, নেকাব, শিশু সামিয়ার পোশাক, একটি মালা, আসামির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও কোদাল উদ্ধার করা হয়েছে।

জাহানারা ও তার মেয়ে সামিয়াকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার উজ্জ্বল খান। ছবি- অগ্নিপ্রহর

তিনি জানান, ঢাকার আমিনবাজারে একটি ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করতেন জাহানারা ও উজ্জ্বল। তিনবছর আগে থেকে তাদের সাথে পরিচয় থেকে সম্পর্ক। কিছুদিন পর উজ্জ্বল তার কর্মস্থল থেকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে চলে আসে। তবে মোবাইলে তাদের মাঝে যোগাযোগ হতো। কয়েকদিন আগে প্রতিবেশীর বাড়িতে মিলাদে যোগ দিতে উজ্জলকে চাপ দেয় জাহানারা। এরপর গত ৪ মে মোবাইলে জাহানারাকে জামতলায় আসতে বলে। ওইদিন রাত সাড়ে ৭টার দিকে জাহানারা ও তার মেয়ে সামিয়াকে নিয়ে চরমাধবদিয়ার কালিতলায় একটি ছাপড়া ঘরে নিয়ে যায় উজ্জ্বল।

ওই ছাপড়া ঘরে শিশু সামিয়া ঘুমিয়ে ছিলো। তবে সেখানে উজ্জ্বল ও জাহানারার মাঝে দীর্ঘক্ষণ ধরে বিয়ে ও প্রেম নিয়ে আলাপ হয়। একপর্যায়ে জাহানারা বিয়ের জন্য চাপ দিলে তাদের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উজ্জ্বল শ্বাসরোধ করে হত্যা করে জাহানারাকে। এসময় পাশে ঘুমিয়ে থাকা শিশু সামিয়া জেগে উঠলে তাকেও একইভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সে। এরপর বাড়ি থেকে কোদাল নিয়ে এসে কাশেই পুকুরপাড়ের গর্ত খুড়ে মা ও মেয়ের লাশ সেখানে মাটির নিচে পুতে রাখে।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ মে  চরবালুধুমের কালিতলায় পুকুরপাড় সংলগ্ন স্থান থেকে মাটিচাপা অবস্থায় তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত জাহানারা গোয়ালন্দের কর্ণসোনার আমজাদ শেখের স্ত্রী।

এ ঘটনায় নিহতের স্বজন মোঃ লালন মোল্লা বাদি হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন এসআই (নিঃ) মোঃ আবুল বাশার মোল্লা।