০৪:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
ফরিদপুরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন মুম্বাই বিমানবন্দরে ১২ কোটি রুপির মাদকসহ সাবেক ‘মিসেস কেরালা’ প্রতিযোগী গ্রেপ্তার সকলকে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকতে হবে -পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আগ্রহের কেন্দ্রে ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির নির্বাচন বিশ্বকাপে প্রথম খেলায় চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে কোরিয়ার জয় প্রতারক সন্দেহে খাসি ব্যবসায়ীকে বাড়িতে ডেকে মহিলাদের নির্যাতন, টাকা লুটের অভিযোগ লাল কার্ডের রেকর্ডেও উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের ধারায় মেক্সিকো দাঙ্গা আর মামলার ঝক্কি এড়িয়ে শান্তি ফিরবে কি অশান্ত সালথায়? নীরব ঘাতক ‘ফ্যাটি লিভার’: সচেতনতাই সুস্থ লিভারের চাবিকাঠি স্কুলের সামনে বিটুমিন পোড়ানোর ধোঁয়ায় অসুস্থ্য কোমলমতি শিক্ষার্থীরা

চন্দ্রনাথ হত্যা পরিকল্পিত বলছে তদন্তকারীরা: গাড়িতে লাগানো ছিলো ‘পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা’ স্টিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৮:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • / 47

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার বুধবার রাতে সদ্য বিজয়ী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, এ হত্যাকান্ড পরিকল্পিত। 

বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় চলন্ত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এই হামলায় চন্দ্রনাথের সঙ্গে থাকা বুদ্ধদেব বেরাও আহত হয়েছেন। ঘটনাটি রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

তদন্তকারীদের ধারণা, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এদিকে হামলার সময় অন্তত ১০ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়, তবে সংখ্যাটি আরও বেশি হতে পারে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা জানান, অপরাধে ব্যবহৃত একটি গাড়ি ইতোমধ্যে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এছাড়া হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত বাইক উদ্ধার করেছে পুলিশ।

তদন্তে দেখা গেছে, গাড়িটির নম্বর প্লেট বিকৃত করা ছিল। যে নম্বরটি ব্যবহার করা হয়েছে সেটি মূলত শিলিগুড়ির একটি গাড়ির, যা অপরাধীরা ভুয়া হিসেবে ব্যবহার করেছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু ব্যবহৃত খোল এবং তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, হামলার আগে ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ এবং পালানোর পথ নির্ধারণ করে রেখেছিল হামলাকারীরা। রথের গাড়িকে একটি চার চাকার যান ও একটি মোটরসাইকেল অনুসরণ করছিল বলে জানান তদন্তকারীরা।

সূত্রগুলোর দাবি, চার চাকার গাড়িটি রাঠের রথের সামনে গিয়ে গতি কমাতে বাধ্য করে। এরপর মোটরসাইকেলে থাকা হামলাকারীরা কাছ থেকে গুলি চালায়। অন্তত ১০টি গুলি রথের শরীরে লাগে। গুলি তার বুক, পেট ও মাথায় আঘাত করে।

এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিতে কোনও নম্বরপ্লেট ছিল না, যা পূর্বপরিকল্পিত হামলার সন্দেহ আরও জোরালো করেছে।

জানা যাচ্ছে, উদ্ধার হওয়া বাইকটি মধ্যমগ্রামের অকুস্থল থেকে চার কিলোমিটার দূরে একটি জায়গা থেকে পাওয়া গিয়েছে। তবে নির্দিষ্ট ভাবে কোনও অঞ্চলের কথা জানা পুলিশ সূত্রেও জানা যায়নি।

চন্দ্রনাথের খুনের খবর পেয়ে রাতেই মধ্যমগ্রামের হাসপাতালে পৌঁছে গিয়েছিলেন রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে ডিজি জানিয়েছিলেন, অপরাধে ব্যবহৃত একটি চারচাকা গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। নম্বরপ্লেট অনুযায়ী সেটি শিলিগুড়ির। তবে নম্বরপ্লেটটি ভুয়ো বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া, কিছু গুলি এবং ব্যবহৃত কার্তুজ পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

ইতিমধ্যে এলাকার বেশ কিছু সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। ওই সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে বলে সূত্রের খবর।

বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন সিআইডি-র আধিকারিকেরা। সিআইডি এবং রাজ্য পুলিশের সদস্যদের নিয়ে একটি দল গঠন করা হয়েছে। তারা তদন্ত শুরু করেছে।

যেখানে বুধবার রাতে চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করা হয়েছে, সেই এলাকা পুলিশ কর্ডন করে রেখেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীও মোতায়েন হয়েছে। চন্দ্রনাথ যে হাউজ়িংয়ে থাকতেন, সেখান থেকে যশোর রোড পর্যন্ত পুরো রাস্তাতেই পুলিশ ও বাহিনী মোতায়েন করে রাখা হয়েছে। রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রেখেছে পুলিশ। লোকজনের যাতায়াতেও বিধিনিষেধ রয়েছে।

ভোররাতে নার্সিংহোম থেকে চন্দ্রনাথের দেহ বারাসাত মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য। বারাসাত মেডিক্যাল কলেজ ইতিমধ্যে তিন সদস্যের একটি টিম তৈরি করেছে চন্দ্রনাথ রথের দেহ ময়নাতদন্ত করার জন্য। একজন বিভাগীয় প্রধান এবং দু’জন সহকারী অধ্যাপক রয়েছেন তিন সদস্যের টিমে। এই ময়নাতদন্ত অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে মেডিক্যাল কলেজ। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এসে গেলেই দ্রুততার সঙ্গে শুরু করা হবে ময়নাতদন্তের কাজ।

চন্দ্রনাথের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে হলেও তিনি থাকতেন মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ার কাছে। জানা যাচ্ছে, যেখানে তিনি থাকতেন, সেই ফ্ল্যাটের অদূরেই গুলি করে খুন করা হয় চন্দ্রনাথকে।

চন্দ্রনাথ রথের গাড়িচালক বুদ্ধদেব বেরার অবস্থা সঙ্কটজনক হলেও এখন চিকিৎসকদের নজরদারিতে আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে বাইপাসের ধারে একটি হাসপাতালে তাঁর অস্ত্রোপচার হয়েছে।

অন্যদিকে, ঘটনার পর ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, চন্দ্রনাথ যেই  স্করপিয়ো গাড়িতে চড়ে যাচ্ছিলেন, তার সামনে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা লেখা একটি স্টিকার লাগানো ছিলো। গত ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গত বুধবার ৪ মে ফল গণনা শুরু হয়। আগামী ৯ মে নতুন রাজ্য সরকারের শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

শেয়ার করুন

চন্দ্রনাথ হত্যা পরিকল্পিত বলছে তদন্তকারীরা: গাড়িতে লাগানো ছিলো ‘পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা’ স্টিকার

আপডেট সময় : ০৫:৩৮:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার বুধবার রাতে সদ্য বিজয়ী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, এ হত্যাকান্ড পরিকল্পিত। 

বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় চলন্ত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এই হামলায় চন্দ্রনাথের সঙ্গে থাকা বুদ্ধদেব বেরাও আহত হয়েছেন। ঘটনাটি রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

তদন্তকারীদের ধারণা, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এদিকে হামলার সময় অন্তত ১০ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়, তবে সংখ্যাটি আরও বেশি হতে পারে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা জানান, অপরাধে ব্যবহৃত একটি গাড়ি ইতোমধ্যে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এছাড়া হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত বাইক উদ্ধার করেছে পুলিশ।

তদন্তে দেখা গেছে, গাড়িটির নম্বর প্লেট বিকৃত করা ছিল। যে নম্বরটি ব্যবহার করা হয়েছে সেটি মূলত শিলিগুড়ির একটি গাড়ির, যা অপরাধীরা ভুয়া হিসেবে ব্যবহার করেছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু ব্যবহৃত খোল এবং তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, হামলার আগে ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ এবং পালানোর পথ নির্ধারণ করে রেখেছিল হামলাকারীরা। রথের গাড়িকে একটি চার চাকার যান ও একটি মোটরসাইকেল অনুসরণ করছিল বলে জানান তদন্তকারীরা।

সূত্রগুলোর দাবি, চার চাকার গাড়িটি রাঠের রথের সামনে গিয়ে গতি কমাতে বাধ্য করে। এরপর মোটরসাইকেলে থাকা হামলাকারীরা কাছ থেকে গুলি চালায়। অন্তত ১০টি গুলি রথের শরীরে লাগে। গুলি তার বুক, পেট ও মাথায় আঘাত করে।

এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিতে কোনও নম্বরপ্লেট ছিল না, যা পূর্বপরিকল্পিত হামলার সন্দেহ আরও জোরালো করেছে।

জানা যাচ্ছে, উদ্ধার হওয়া বাইকটি মধ্যমগ্রামের অকুস্থল থেকে চার কিলোমিটার দূরে একটি জায়গা থেকে পাওয়া গিয়েছে। তবে নির্দিষ্ট ভাবে কোনও অঞ্চলের কথা জানা পুলিশ সূত্রেও জানা যায়নি।

চন্দ্রনাথের খুনের খবর পেয়ে রাতেই মধ্যমগ্রামের হাসপাতালে পৌঁছে গিয়েছিলেন রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে ডিজি জানিয়েছিলেন, অপরাধে ব্যবহৃত একটি চারচাকা গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। নম্বরপ্লেট অনুযায়ী সেটি শিলিগুড়ির। তবে নম্বরপ্লেটটি ভুয়ো বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া, কিছু গুলি এবং ব্যবহৃত কার্তুজ পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

ইতিমধ্যে এলাকার বেশ কিছু সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। ওই সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে বলে সূত্রের খবর।

বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন সিআইডি-র আধিকারিকেরা। সিআইডি এবং রাজ্য পুলিশের সদস্যদের নিয়ে একটি দল গঠন করা হয়েছে। তারা তদন্ত শুরু করেছে।

যেখানে বুধবার রাতে চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করা হয়েছে, সেই এলাকা পুলিশ কর্ডন করে রেখেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীও মোতায়েন হয়েছে। চন্দ্রনাথ যে হাউজ়িংয়ে থাকতেন, সেখান থেকে যশোর রোড পর্যন্ত পুরো রাস্তাতেই পুলিশ ও বাহিনী মোতায়েন করে রাখা হয়েছে। রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রেখেছে পুলিশ। লোকজনের যাতায়াতেও বিধিনিষেধ রয়েছে।

ভোররাতে নার্সিংহোম থেকে চন্দ্রনাথের দেহ বারাসাত মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য। বারাসাত মেডিক্যাল কলেজ ইতিমধ্যে তিন সদস্যের একটি টিম তৈরি করেছে চন্দ্রনাথ রথের দেহ ময়নাতদন্ত করার জন্য। একজন বিভাগীয় প্রধান এবং দু’জন সহকারী অধ্যাপক রয়েছেন তিন সদস্যের টিমে। এই ময়নাতদন্ত অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে মেডিক্যাল কলেজ। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এসে গেলেই দ্রুততার সঙ্গে শুরু করা হবে ময়নাতদন্তের কাজ।

চন্দ্রনাথের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে হলেও তিনি থাকতেন মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ার কাছে। জানা যাচ্ছে, যেখানে তিনি থাকতেন, সেই ফ্ল্যাটের অদূরেই গুলি করে খুন করা হয় চন্দ্রনাথকে।

চন্দ্রনাথ রথের গাড়িচালক বুদ্ধদেব বেরার অবস্থা সঙ্কটজনক হলেও এখন চিকিৎসকদের নজরদারিতে আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে বাইপাসের ধারে একটি হাসপাতালে তাঁর অস্ত্রোপচার হয়েছে।

অন্যদিকে, ঘটনার পর ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, চন্দ্রনাথ যেই  স্করপিয়ো গাড়িতে চড়ে যাচ্ছিলেন, তার সামনে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা লেখা একটি স্টিকার লাগানো ছিলো। গত ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গত বুধবার ৪ মে ফল গণনা শুরু হয়। আগামী ৯ মে নতুন রাজ্য সরকারের শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।