বিআরটিএ অফিসে সাংবাদিক পরিচয়ে হট্টগোল : পুলিশ হেফাজতে জনি
- আপডেট সময় : ০৯:১২:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
- / 277
ফরিদপুরে বিআরটিএ অফিসে যেয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সাক্ষাৎকার নিতে চাইলে জনি বিশ্বাস নামে এক যুবককে কিলঘুষি মেরে আহত করার পাশাপাশি পাল্টা অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগ তুলে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করা হয়েছে। এনিয়ে হট্টগোলের পর খবর পেয়ে বিআরটিএ অফিস থেকে জনি বিশ্বাসকে কোতয়ালী থানায় পুলিশের হেফাজতে নিয়ে এসে আটকে রাখা হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯ দিকে এই রিপোর্ট লেখার সময় জনি বিশ্বাসকে কোতয়ালী থানার আটক রাখা হয় বলে জানা গেছে। তবে তার বিরুদ্ধে তখন পর্যন্ত কোন মামলা রুজুর খবর পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, জনি বিশ্বাস নগরকান্দার তালমা ইউনিয়নের বিলনালিয়া গ্রামের কাদের বিশ্বাসের ছেলে। তিনি রাজেন্দ্র কলেজের বিএ শ্রেণির শিক্ষার্থী। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী হিসেবে পুলিশের হাতে আটক হয়ে কারাবরণ করে আলোচনায় আসেন। পরে অন্তবর্তীকালনি সরকারের সময়ে জনি বিশ্বাস ছাত্র অধিকার পরিষদের ফরিদপুর জেলা শাখার কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক হন। সর্বশেষ বাংলাদেশ ছাত্রশক্তির ফরিদপুর জেলা কমিটি গঠিত হলে তাকে ওই কমিটির সদস্য পদে দেখা যায়।
পাশাপাশি সম্প্রতি জনি বিশ্বাস নিজেকে স্থানীয় একটি পত্রিকার সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতে দেখা গেছে। সোসাল মিডিয়ায় নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সময়ে জনি বিশ্বাসকে লাইভ ভিডিও করতে এবং পোস্ট দিতে দেখা গেছে। এর আগে জনি বিশ্বাস সিঅ্যান্ডবি ঘাটে একবার হামলার শিকার হয়। জনির দাবি, তিনি সেখানে নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের খবর সংগ্রহ করতে গেলে তার উপর হামলা করা হয়। তবে সেখানে তার বিরুদ্ধে তখন পাল্টা চাঁদা দাবিরও অভিযোগ করা হয়েছিলো।
গত সংসদ নির্বাচনের সময় জনি বিশ্বাস ফরিদপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র একজন প্রার্থীর পিএস হিসেবে কাজ করতে দেখা গেছে। অতি সম্প্রতি ওই স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদপুরের বিএনপি নেতৃবৃন্দকে জড়িয়ে একের পর এক বিতর্কিত পোস্ট দিয়ে ব্যাপক সমালোচনার তৈরি করেন। এক পোস্টে ওই স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদপুরের বিআরটিএ অফিসের ইন্সপেক্টর মেহেদি হাসানকে নিয়ে ঘুষবাণিজ্য ও দুর্নীতি সহ নানান অভিযোগ তুলে একটি পোস্ট করেন।
এরপর গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জনি বিশ্বাস বিআরটিএ অফিসে গেলে এই হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
বিআরটিএ ফরিদপুর কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক মেহেদী হাসান অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে জনি বিশ্বাস তার অফিস কক্ষে প্রবেশ করে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বলে যে, আপনি দুর্নীতি করে অনেক টাকা কামিয়েছেন। আপনাকে নিয়ে লেখালেখি হচ্ছে। তিনি জনির বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ করে বলেন, তার নিকট সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে জনি বিশ্বাস ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। তবে কথাবার্তায় সন্দেহ হলে জনি সাংবাদিক কিনা সেটি তিনি চ্যালেঞ্জ করেন। এরপর জনি উত্তেজিত হয়ে অফিসের টেবিলে থাপ্পর দিয়ে টেবিলের কাঁচ ভেঙ্গে ফেলেন এবং উচ্চস্বরে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন। এসময় অফিসের অন্যান্যরা এসে জনিকে নিবৃত্ত করে। পরে বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানালে তিনি পুলিশে খবর দেন।
তবে এ ঘটনার পর ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ফরিদপুর বিআরটিও অফিসে একটি চেয়ারে বসা জনি বিশ্বাসের বক্তব্য নিচ্ছেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা। এসময় ওই পুলিশ কর্মকর্তা জনিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে চান যে- তিনি এখানে কেনো এসেছেন? তখন জনি তাকে বলেন যে, তিনি সাক্ষাৎকার নিতে এসেছেন। তখন মেহেদি হাসান তার কাছে জানতে চান যে, আপনি কি আপনার সম্পাদকের অ্যাপয়নমেন্ট নিয়ে এসেছেন? জনি উত্তরে বলেন, ‘হ্যাঁ আমি অ্যাপয়নমেন্ট নিয়ে এসেছি, প্রয়োজনে ফোনেও ধরিয়ে দিতে পারবো।’ তখন মেহেদি হাসান তাঁকে ভুয়া সাংবাদিক আখ্যা দিয়ে পুলিশকে খবর দেন।
জনি বলেন, পরবর্তীতে মেহেদি হাসান ফোন করে প্রথমে একজনকে ডেকে আনেন। পরবর্তীতে আরো দু’জনকে ডেকে এনে আমাকে কিলঘুষি মারতে শুরু করে আমাকে শুইয়ে ফেলেন। পরে ওই লোকেরাই চেয়ার দিয়ে অফিসের টেবিলের কাঁচ ভেঙ্গে ফেলেন। জনি বলেন, অফিসের সিসি ক্যামেরা চেক করলেই পরিস্কার হবে যে- কে এই কাঁচ ভেঙ্গেছে!
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, বিআরটিএ অফিসে ভাংচুরের খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। এরপর জনি বিশ্বাস নামে একজনকে পুলিশ সেখান থেকে কোতয়ালী থানায় পুলিশ হেফাজতে নিয়ে এসেছে।
ওসি আরো বলেন, এবিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিআরটিএ ফরিদপুর সার্কেল এর সহকারী পরিচালক পলাশ খীসা জানান, অফিসে ঢুকে ভাংচুর ও চাঁদাদাবির অভিযোগে জনি বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।












