০৬:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
ফরিদপুরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন মুম্বাই বিমানবন্দরে ১২ কোটি রুপির মাদকসহ সাবেক ‘মিসেস কেরালা’ প্রতিযোগী গ্রেপ্তার সকলকে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকতে হবে -পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আগ্রহের কেন্দ্রে ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির নির্বাচন বিশ্বকাপে প্রথম খেলায় চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে কোরিয়ার জয় প্রতারক সন্দেহে খাসি ব্যবসায়ীকে বাড়িতে ডেকে মহিলাদের নির্যাতন, টাকা লুটের অভিযোগ লাল কার্ডের রেকর্ডেও উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের ধারায় মেক্সিকো দাঙ্গা আর মামলার ঝক্কি এড়িয়ে শান্তি ফিরবে কি অশান্ত সালথায়? নীরব ঘাতক ‘ফ্যাটি লিভার’: সচেতনতাই সুস্থ লিভারের চাবিকাঠি স্কুলের সামনে বিটুমিন পোড়ানোর ধোঁয়ায় অসুস্থ্য কোমলমতি শিক্ষার্থীরা

বাংলাদেশের নয়া বন্দোবস্ত কোন পথে?

সাইফুল ইসলাম জাফর
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৭:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • / 88

দেশে ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের পর জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে প্রায় দুই হাজার ছাত্রজনতার প্রাণের বিনিময়ে, যাদের মধ্যে রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশু, অর্জিত হয়েছে জনগণের ভোটাধিকার। এরপর একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার যাত্রা শুরু করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে জনগণকে বারবার আশ্বস্ত করা হয়েছে বিগতদিনেে জঞ্জাল ঝেড়ে মুছে নয়া বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার। জনমনে তাই জিজ্ঞাসাও রয়েছে- কোন পথে এগুচ্ছে এই নয়া বন্দোবস্ত?

যদিও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরাশক্তিদের যুদ্ধোংদেহী আচরণ বৈশ্বিক একটি সংকটের মুখে ফেলে দিয়েছে গোটা দুনিয়াকে, তার মধ্যে বাংলাদেশও বাদ নয়। ফলে একদিকে সরকারের সামনে ফ্যাসিবাদের জঞ্জাল সরানোর চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে রয়েছে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির মাধ্যমে জনগণের জীবনযাত্রার স্বাভাবিকতা ধরে রাখার গুরু দায়িত্ব।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশ ছিলো অতিদরিদ্র রাষ্ট্র। ​বাংলাদেশ ২০১৫ সালের ১ জুলাই প্রথমবারের মতো নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়। এসময় দেশটি স্বল্পোন্নত দেশ বা Least Developed Countries (LDC) থেকে আফগানিস্তান, নেপাল, ভুটান, কম্বোডিয়া ও মায়ানমার সহ আফ্রিকার দেশগুলোকে টপকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা লাভ করে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশ এই তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু দেশ হলো ​দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা, ​দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়া ও মিয়ানমার, আফ্রিকার মিশর, কেনিয়া, নাইজেরিয়া, ঘানা ও মরক্কো এবং উজবেকিস্তান, জর্ডান, বলিভিয়া ও হন্ডুরাস।

বিশ্বব্যাংকের মানদণ্ড অনুযায়ী, নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ (Lower Middle Income Countries – LMIC) হলো সেই সব দেশ, যাদের মাথাপিছু জাতীয় আয় (GNI) একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকে তথা যাদের মাথাপিছু জাতীয় আয় ১,১৩৬ ডলার থেকে ৪,৪৯৫ ডলারের মধ্যে। আর ১ হাজার ১৩৫ ডলারের নিচে হলে তারা ‘নিম্ন আয়ের দেশ’ এবং ৪,৪৯৫ ডলারের উপরে হলে ‘উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ’ হিসেবে পরিচিত হয়।

নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশগুলো বিশ্বব্যাংক বা আইএমএফ থেকে তুলনামূলক কম সুদে ঋণ (IDA loan) পাওয়ার সুযোগ পায়। এই তকমাটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি সিগন্যাল হিসেবে কাজ করে।

২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি প্রায় ২,৯১১ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে (আইএমএফ-এর প্রাক্কলন অনুযায়ী), যা আমাদের এই ক্যাটাগরিতে শক্ত অবস্থানে রেখেছে।

বাংলাদেশ বর্তমানে একটি স্বল্পোন্নত দেশ, তবে আমরা ইতোমধ্যেই এই তালিকা থেকে বের হওয়ার (Graduation) সব শর্ত পূরণ করেছি। ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিকভাবে ‘উন্নয়নশীল দেশে’ (Developing Country) উন্নীত হওয়ার কথা রয়েছে। ​উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কিছু সুযোগ-সুবিধা (যেমন শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা) কমে যেতে পারে, তবে এটি দেশের শক্তিশালী অর্থনীতির একটি বৈশ্বিক স্বীকৃতি। ​বাংলাদেশ এখন পরবর্তী ধাপ অর্থাৎ উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ (Upper Middle Income) হওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে, যার জন্য মাথাপিছু আয় ৪,৪৯৫ ডলার অতিক্রম করতে হবে।

নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের এই উত্থানের পর্ব সাজানো হয়েছিলো বিগত আওয়ামী লীগের সরকারের আমলে। যখন দেশ থেকে সম্পদ পাচার করে অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে একদলীয় শাসনের বন্দোবস্ত তৈরি করে নেওয়া হয়েছিলো। কর্মমুখী উৎপাদনশীলতার বিপরীতে ভর্তুকিমুলক অর্থনীতি চালু করে বিশেষ একটি সুবিধাভোগী গোষ্ঠী তৈরি করে নেওয়া হয়েছিলো। যেখানে রাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের সিংহভাগের স্বার্থ বঞ্চিতই থেকে গিয়েছিলো। ফলে কাগজেকলমে জিডিপির প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির তথ্য মিললেও বাস্তবে বৈষম্যের পরিমাণ দিনেদিনে বেড়েই চলেছিলো। দেশের রাষ্ট্রকাঠামো এমনভাবে কব্জা করে৷ রাখা হয়েছিলো, যাতে বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থই প্রাধান্য পেয়েছিলো সরকারের সকল কর্মকাণ্ডে। দিনে দিনে এই অবস্থার বিস্তৃতিতে বিক্ষুব্ধ মানুষ রাজপথে নেমে ঝেটিয়ে বিদায় করেছে এই অপশাসনকে।

তবে কথা হলো, সরকার পরিবর্তন হলেও একটি রাষ্ট্রের কাঠামোর পরিবর্তন সহজ নয়। অথচ এই রাষ্ট্র কাঠামোর মেরামতের জন্য ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমেছিলো, ২০২৪ সালে বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বর্তমানের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতির সামনে ৩১ দফা তুলে ধরেছিলো এবং সর্বোপরি চব্বিশের জুলাই-আগস্টে এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করেছে; তা আজ এই সরকারের জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বিষয়।
বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য সবার আগে প্রয়োজন ​রয়েছে সুশাসনের (Good Governance)। যার মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ করে সরকারি দপ্তরগুলোকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে না পারলে দেশের জনগণের মাঝে আস্থা তৈরি হবেনা। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। দেশের অফিস-আদালতে ভুক্তভোগী মানুষ নানা সমস্যার শিকার হচ্ছেন। তাদের জন্য কি সুসংবাদ রয়েছে, সেটিও জানা থাকা দরকার আছে।

তাই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ক্ষমতার ​বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বাড়ানো তথা ​সক্ষমতা বৃদ্ধির (Capacity Building) মতো বিষয়গুলোকে মাথায় রেখেই কর্মকৌশল প্রণয়ন করতে হবে। যাতে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির প্রসার, শিল্পায়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং অবকাঠামো ও প্রযুক্তির বিস্তার ঘটতে পারে। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শিল্প ও সেবাভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর করা আগামীর জন্য অতিআবশ্যক। বিশেষ করে রপ্তানি বৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানো। পাশাপাশি শতভাগ শিক্ষা নিশ্চিত করা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বজনীন করার মতো কাজগুলোও এগিয়ে নিতে হবে এই নয়া বন্দোবস্তে।

শেয়ার করুন

বাংলাদেশের নয়া বন্দোবস্ত কোন পথে?

আপডেট সময় : ০৩:৫৭:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

দেশে ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের পর জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে প্রায় দুই হাজার ছাত্রজনতার প্রাণের বিনিময়ে, যাদের মধ্যে রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশু, অর্জিত হয়েছে জনগণের ভোটাধিকার। এরপর একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার যাত্রা শুরু করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে জনগণকে বারবার আশ্বস্ত করা হয়েছে বিগতদিনেে জঞ্জাল ঝেড়ে মুছে নয়া বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার। জনমনে তাই জিজ্ঞাসাও রয়েছে- কোন পথে এগুচ্ছে এই নয়া বন্দোবস্ত?

যদিও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরাশক্তিদের যুদ্ধোংদেহী আচরণ বৈশ্বিক একটি সংকটের মুখে ফেলে দিয়েছে গোটা দুনিয়াকে, তার মধ্যে বাংলাদেশও বাদ নয়। ফলে একদিকে সরকারের সামনে ফ্যাসিবাদের জঞ্জাল সরানোর চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে রয়েছে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির মাধ্যমে জনগণের জীবনযাত্রার স্বাভাবিকতা ধরে রাখার গুরু দায়িত্ব।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশ ছিলো অতিদরিদ্র রাষ্ট্র। ​বাংলাদেশ ২০১৫ সালের ১ জুলাই প্রথমবারের মতো নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়। এসময় দেশটি স্বল্পোন্নত দেশ বা Least Developed Countries (LDC) থেকে আফগানিস্তান, নেপাল, ভুটান, কম্বোডিয়া ও মায়ানমার সহ আফ্রিকার দেশগুলোকে টপকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা লাভ করে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশ এই তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু দেশ হলো ​দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা, ​দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়া ও মিয়ানমার, আফ্রিকার মিশর, কেনিয়া, নাইজেরিয়া, ঘানা ও মরক্কো এবং উজবেকিস্তান, জর্ডান, বলিভিয়া ও হন্ডুরাস।

বিশ্বব্যাংকের মানদণ্ড অনুযায়ী, নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ (Lower Middle Income Countries – LMIC) হলো সেই সব দেশ, যাদের মাথাপিছু জাতীয় আয় (GNI) একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকে তথা যাদের মাথাপিছু জাতীয় আয় ১,১৩৬ ডলার থেকে ৪,৪৯৫ ডলারের মধ্যে। আর ১ হাজার ১৩৫ ডলারের নিচে হলে তারা ‘নিম্ন আয়ের দেশ’ এবং ৪,৪৯৫ ডলারের উপরে হলে ‘উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ’ হিসেবে পরিচিত হয়।

নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশগুলো বিশ্বব্যাংক বা আইএমএফ থেকে তুলনামূলক কম সুদে ঋণ (IDA loan) পাওয়ার সুযোগ পায়। এই তকমাটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি সিগন্যাল হিসেবে কাজ করে।

২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি প্রায় ২,৯১১ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে (আইএমএফ-এর প্রাক্কলন অনুযায়ী), যা আমাদের এই ক্যাটাগরিতে শক্ত অবস্থানে রেখেছে।

বাংলাদেশ বর্তমানে একটি স্বল্পোন্নত দেশ, তবে আমরা ইতোমধ্যেই এই তালিকা থেকে বের হওয়ার (Graduation) সব শর্ত পূরণ করেছি। ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিকভাবে ‘উন্নয়নশীল দেশে’ (Developing Country) উন্নীত হওয়ার কথা রয়েছে। ​উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কিছু সুযোগ-সুবিধা (যেমন শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা) কমে যেতে পারে, তবে এটি দেশের শক্তিশালী অর্থনীতির একটি বৈশ্বিক স্বীকৃতি। ​বাংলাদেশ এখন পরবর্তী ধাপ অর্থাৎ উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ (Upper Middle Income) হওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে, যার জন্য মাথাপিছু আয় ৪,৪৯৫ ডলার অতিক্রম করতে হবে।

নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের এই উত্থানের পর্ব সাজানো হয়েছিলো বিগত আওয়ামী লীগের সরকারের আমলে। যখন দেশ থেকে সম্পদ পাচার করে অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে একদলীয় শাসনের বন্দোবস্ত তৈরি করে নেওয়া হয়েছিলো। কর্মমুখী উৎপাদনশীলতার বিপরীতে ভর্তুকিমুলক অর্থনীতি চালু করে বিশেষ একটি সুবিধাভোগী গোষ্ঠী তৈরি করে নেওয়া হয়েছিলো। যেখানে রাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের সিংহভাগের স্বার্থ বঞ্চিতই থেকে গিয়েছিলো। ফলে কাগজেকলমে জিডিপির প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির তথ্য মিললেও বাস্তবে বৈষম্যের পরিমাণ দিনেদিনে বেড়েই চলেছিলো। দেশের রাষ্ট্রকাঠামো এমনভাবে কব্জা করে৷ রাখা হয়েছিলো, যাতে বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থই প্রাধান্য পেয়েছিলো সরকারের সকল কর্মকাণ্ডে। দিনে দিনে এই অবস্থার বিস্তৃতিতে বিক্ষুব্ধ মানুষ রাজপথে নেমে ঝেটিয়ে বিদায় করেছে এই অপশাসনকে।

তবে কথা হলো, সরকার পরিবর্তন হলেও একটি রাষ্ট্রের কাঠামোর পরিবর্তন সহজ নয়। অথচ এই রাষ্ট্র কাঠামোর মেরামতের জন্য ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমেছিলো, ২০২৪ সালে বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বর্তমানের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতির সামনে ৩১ দফা তুলে ধরেছিলো এবং সর্বোপরি চব্বিশের জুলাই-আগস্টে এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করেছে; তা আজ এই সরকারের জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বিষয়।
বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য সবার আগে প্রয়োজন ​রয়েছে সুশাসনের (Good Governance)। যার মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ করে সরকারি দপ্তরগুলোকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে না পারলে দেশের জনগণের মাঝে আস্থা তৈরি হবেনা। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। দেশের অফিস-আদালতে ভুক্তভোগী মানুষ নানা সমস্যার শিকার হচ্ছেন। তাদের জন্য কি সুসংবাদ রয়েছে, সেটিও জানা থাকা দরকার আছে।

তাই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ক্ষমতার ​বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বাড়ানো তথা ​সক্ষমতা বৃদ্ধির (Capacity Building) মতো বিষয়গুলোকে মাথায় রেখেই কর্মকৌশল প্রণয়ন করতে হবে। যাতে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির প্রসার, শিল্পায়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং অবকাঠামো ও প্রযুক্তির বিস্তার ঘটতে পারে। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শিল্প ও সেবাভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর করা আগামীর জন্য অতিআবশ্যক। বিশেষ করে রপ্তানি বৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানো। পাশাপাশি শতভাগ শিক্ষা নিশ্চিত করা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বজনীন করার মতো কাজগুলোও এগিয়ে নিতে হবে এই নয়া বন্দোবস্তে।