০৫:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
শ্রেষ্ঠ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হলেন ডা. নাদিম ছিলেন না নায়াব ইউসুফ, মিটিং কাভার করতে পারলেন না সাংবাদিকেরা “হাজী শরিয়তুল্লাহদের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৪৭ পাওয়ার কারণেই আমরা ৭১ পেয়েছি” একসাথে ৩ মেলার সমালোচনা : জবাবে যা বললেন নারী উদ্যোক্তা লুবাবা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সেই নেতারা এখন কে কোথায় নদীর নাম মালঞ্চ পেয়েছে সরকারি স্বীকৃতি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ‘ডিজিটাল ইভটিজিং’ ইস্যুতে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে তোলপাড় আমার মুর্শিদ হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ভাঙ্গায় পিকআপ-পরিবহন মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩০ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছে তেলবাহী তিনটি সুপার ট্যাংকার
‘‘মেলা কারো শখ না। মেলা অনেকের সংসারের প্রয়োজন। মেলা মানে—কাউকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা। যারা মাঠে থাকে, তারা জানে— একটা বিক্রি মানে কতটা স্বস্তি। একটা দিন ভালো গেলে ঘরে কতটা হাসি আসে।’’

একসাথে ৩ মেলার সমালোচনা : জবাবে যা বললেন নারী উদ্যোক্তা লুবাবা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:২৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / 211

অম্বিকা ময়দানে বৈশাখী মেলা ১৪৩৩ উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্যা। ছবি- অগ্নিপ্রহর

ফরিদপুরে ১৪৩৩ সনের পহেলা বৈশাখ থেকে শহরের পৃথক দু’টি স্থানে শুরু হয়েছে দুটি বৈশাখী মেলা। এর বাইরে শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আগে থেকেই চলছে শিল্প ও বাণিজ্য মেলা। বর্তমানে বৈশ্বিক জ্বালানী সংকটের মুখে এসব মেলা আয়োজন লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি আশেপাশের অসুস্থ্য রোগীদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে বলে কারো কারো অভিমত। তাদের অনুযোগ, মেলার কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহারে চাপ বাড়ার পাশাপাশি আশেপামের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের উপর এর প্রভাব পড়ছে। তবে এই বক্তব্যের পাশাপাশি মেলায় অংশগ্রহণকারী একজন নারী উদ্যোক্তার আবেগঘন পোস্ট নজর কেড়েছে সকলের। লুবাবা তুল জান্নাত নামে ওই নারী উদ্যোক্তার দাবি, এই লোডশেডিং নতুন নয়, বরং আগে থেকেই হয়ে আসছে। সোসাল মিডিয়ায় এনিয়ে  তার আবেগঘন পোস্ট অনেকের নজর কেড়েছে।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখ হতে শহরের কোট চত্বরে শুরু হয়েছে বৈশাখী মেলা। ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থা এ বৈশাখী মেলার আয়োজন করেছে। একইদিনে শহরের অম্বিকা ময়দানে হলিডে মার্কেটের উদ্যোগে শুরু হয়েছে আরেকটি বৈশাখী মেলা। এর বাইরে ৩ এপ্রিল থেকে শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে চলছে মাসব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলা।

এদিকে, সম্প্রতি লোডশেডিংয়ের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় দৈন্দিন জীবনযাত্রা ও কর্মকান্ড ব্যাহত হচ্ছে। এতে নাগরিক দুর্ভোগের মাত্রাও বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এর ফলে অনেকের দৃস্টি এসব মেলার দিকে এই ভেবে যে, মেলায় অধিক পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহারে কি লোডশেডিং বাড়িয়ে দিচ্ছে।

গত বুধবার রাতে মাহমুদুল হাসান ওয়ালিদ নামে এক যুবক ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘‘কারো বাসায় কারেন্ট চলে গেলে সোজা মেলায় চলে যাবেন, আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি শহরে একসাথে ৩ টি মেলা চলছে! অম্বিকা হলের মেলা তো বিনামূল্যে শিশু হাসপাতালে ক্যানোলা লাগিয়ে বেডে ভর্তি বাচ্চাদের জন্য কনসার্ট এর আয়োজন করছে! হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগীরাও ধন্যবাদ জানিয়েছেন আয়োজকদের।’’ ওয়ালিদ লিখেছেন, ‘’কাল থেকে ভাবছি মেলার মধ্যে একটা চেয়ার টেবিল নিয়ে বসে বসে অফিস করবো! কেমন হবে?’’ তার এই পোস্টে অনেকেই তাকে সমর্থন করে কমেন্ট করেছেন।

এদিকে মেলা নিয়ে এই পোস্টের পর নারী উদ্যোক্তার আরেকটি পোস্ট এখন অনেকের মনোযোগ কেড়েছে। লুবাবা তার পোস্টের শুরুতেই বলেন, ‘‘লোডশেডিং নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে, —মেলার কারণে নাকি কারেন্ট যাচ্ছে!কিন্তু বাস্তবতাটা একটু ভেবে দেখেছেন? এই বিদ্যুতের সমস্যাটা নতুন না। মেলা শুরুর অনেক আগ থেকেই আমরা সবাই এই ভোগান্তির মধ্যে আছি এবং সামনে আরও অনেক রকম পরিস্থিতি তৈরিও হতে পারে। ’’

এরপর তিনি তাদের কাজের করুণ বাস্তবতা তুলে ধরে লিখেন, ‘‘ একজন উদ্যোক্তা যদি বাসায় থাকতো, অন্তত ১-২টা ফ্যান, লাইট চলতো। কিন্তু মেলার মাঠে?না আছে কোন ফ্যান, না আছে অতিরিক্ত লাইট; গরমের মধ্যে কষ্ট করে কাজ করেই দিন পার করতে হয়। এই কাঠফাটা রোদে, গরমে, ঘামে ভিজে কাজ করে যেতে হয়।’’

লুবাবার এর পরের লাইনগুলো আরো আবেগপূর্ণ। তিনি লিখেন, ‘‘মেলা কারো শখ না।  মেলা অনেকের সংসারের প্রয়োজন। মেলা মানে—কাউকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা। যারা মাঠে থাকে, তারা জানে—

একটা বিক্রি মানে কতটা স্বস্তি। একটা দিন ভালো গেলে ঘরে কতটা হাসি আসে।’’ লুবাবা বলেন, ‘‘মেলা শুধু ঘুরতে আসার জায়গা না; অনেক পরিবারের আয়ের একটা বড় মাধ্যম। অনেক স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার একটা সুযোগ। এই কাঠফাটা রোদে দাঁড়িয়ে যারা কাজ করে, তারা জানে কষ্টটা কেমন। আর যারা ঘরে ফ্যানের নিচে বসে শুধু সমালোচনা করে, তারা হয়তো এই বাস্তবতা অনুভব করে না। ‘’

 

শেয়ার করুন

‘‘মেলা কারো শখ না। মেলা অনেকের সংসারের প্রয়োজন। মেলা মানে—কাউকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা। যারা মাঠে থাকে, তারা জানে— একটা বিক্রি মানে কতটা স্বস্তি। একটা দিন ভালো গেলে ঘরে কতটা হাসি আসে।’’

একসাথে ৩ মেলার সমালোচনা : জবাবে যা বললেন নারী উদ্যোক্তা লুবাবা

আপডেট সময় : ১২:২৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ফরিদপুরে ১৪৩৩ সনের পহেলা বৈশাখ থেকে শহরের পৃথক দু’টি স্থানে শুরু হয়েছে দুটি বৈশাখী মেলা। এর বাইরে শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আগে থেকেই চলছে শিল্প ও বাণিজ্য মেলা। বর্তমানে বৈশ্বিক জ্বালানী সংকটের মুখে এসব মেলা আয়োজন লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি আশেপাশের অসুস্থ্য রোগীদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে বলে কারো কারো অভিমত। তাদের অনুযোগ, মেলার কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহারে চাপ বাড়ার পাশাপাশি আশেপামের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের উপর এর প্রভাব পড়ছে। তবে এই বক্তব্যের পাশাপাশি মেলায় অংশগ্রহণকারী একজন নারী উদ্যোক্তার আবেগঘন পোস্ট নজর কেড়েছে সকলের। লুবাবা তুল জান্নাত নামে ওই নারী উদ্যোক্তার দাবি, এই লোডশেডিং নতুন নয়, বরং আগে থেকেই হয়ে আসছে। সোসাল মিডিয়ায় এনিয়ে  তার আবেগঘন পোস্ট অনেকের নজর কেড়েছে।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখ হতে শহরের কোট চত্বরে শুরু হয়েছে বৈশাখী মেলা। ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থা এ বৈশাখী মেলার আয়োজন করেছে। একইদিনে শহরের অম্বিকা ময়দানে হলিডে মার্কেটের উদ্যোগে শুরু হয়েছে আরেকটি বৈশাখী মেলা। এর বাইরে ৩ এপ্রিল থেকে শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে চলছে মাসব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলা।

এদিকে, সম্প্রতি লোডশেডিংয়ের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় দৈন্দিন জীবনযাত্রা ও কর্মকান্ড ব্যাহত হচ্ছে। এতে নাগরিক দুর্ভোগের মাত্রাও বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এর ফলে অনেকের দৃস্টি এসব মেলার দিকে এই ভেবে যে, মেলায় অধিক পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহারে কি লোডশেডিং বাড়িয়ে দিচ্ছে।

গত বুধবার রাতে মাহমুদুল হাসান ওয়ালিদ নামে এক যুবক ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘‘কারো বাসায় কারেন্ট চলে গেলে সোজা মেলায় চলে যাবেন, আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি শহরে একসাথে ৩ টি মেলা চলছে! অম্বিকা হলের মেলা তো বিনামূল্যে শিশু হাসপাতালে ক্যানোলা লাগিয়ে বেডে ভর্তি বাচ্চাদের জন্য কনসার্ট এর আয়োজন করছে! হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগীরাও ধন্যবাদ জানিয়েছেন আয়োজকদের।’’ ওয়ালিদ লিখেছেন, ‘’কাল থেকে ভাবছি মেলার মধ্যে একটা চেয়ার টেবিল নিয়ে বসে বসে অফিস করবো! কেমন হবে?’’ তার এই পোস্টে অনেকেই তাকে সমর্থন করে কমেন্ট করেছেন।

এদিকে মেলা নিয়ে এই পোস্টের পর নারী উদ্যোক্তার আরেকটি পোস্ট এখন অনেকের মনোযোগ কেড়েছে। লুবাবা তার পোস্টের শুরুতেই বলেন, ‘‘লোডশেডিং নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে, —মেলার কারণে নাকি কারেন্ট যাচ্ছে!কিন্তু বাস্তবতাটা একটু ভেবে দেখেছেন? এই বিদ্যুতের সমস্যাটা নতুন না। মেলা শুরুর অনেক আগ থেকেই আমরা সবাই এই ভোগান্তির মধ্যে আছি এবং সামনে আরও অনেক রকম পরিস্থিতি তৈরিও হতে পারে। ’’

এরপর তিনি তাদের কাজের করুণ বাস্তবতা তুলে ধরে লিখেন, ‘‘ একজন উদ্যোক্তা যদি বাসায় থাকতো, অন্তত ১-২টা ফ্যান, লাইট চলতো। কিন্তু মেলার মাঠে?না আছে কোন ফ্যান, না আছে অতিরিক্ত লাইট; গরমের মধ্যে কষ্ট করে কাজ করেই দিন পার করতে হয়। এই কাঠফাটা রোদে, গরমে, ঘামে ভিজে কাজ করে যেতে হয়।’’

লুবাবার এর পরের লাইনগুলো আরো আবেগপূর্ণ। তিনি লিখেন, ‘‘মেলা কারো শখ না।  মেলা অনেকের সংসারের প্রয়োজন। মেলা মানে—কাউকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা। যারা মাঠে থাকে, তারা জানে—

একটা বিক্রি মানে কতটা স্বস্তি। একটা দিন ভালো গেলে ঘরে কতটা হাসি আসে।’’ লুবাবা বলেন, ‘‘মেলা শুধু ঘুরতে আসার জায়গা না; অনেক পরিবারের আয়ের একটা বড় মাধ্যম। অনেক স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার একটা সুযোগ। এই কাঠফাটা রোদে দাঁড়িয়ে যারা কাজ করে, তারা জানে কষ্টটা কেমন। আর যারা ঘরে ফ্যানের নিচে বসে শুধু সমালোচনা করে, তারা হয়তো এই বাস্তবতা অনুভব করে না। ‘’