ফরিদপুরে কাঠপট্টিতে পৌরসভার ৩ তলা অবৈধ বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ
ফরিদপুর নিউমার্কেটের গায়েবি দোকান থেকে কাঠপট্টির ফুটপাতে মার্কেট বাণিজ্য!
- আপডেট সময় : ০৩:২১:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
- / 123
ফরিদপুর শহরের কাঠপট্টিতে পৌরসভার পৌর মার্কেটে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধে মৌখিক নির্দেশ দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। রোববার সকালে এ নির্দেশ দেওয়ার পর ঘন্টা দুয়েক বন্ধ থাকে নির্মাণ কাজ। তবে দুপুর ১২টার দিকে ফের কাজ করতে দেখা যায়। এ ঘটনায় পৌরসভার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এর আগে ঈদের ছুটিতে অগোচরে এই বিল্ডিংয়ের দোতলা ছাদের উপরে তিনতলায় লম্বা সাড়ি করে দোকান ঘর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। দীর্ঘদিনের পুরনো এবং উপযোগী অবকাঠামো ছাড়াই প্রথমে একতলা এবং পরে দোতলা নির্মাণ করা হয়। এনিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাধারণ মানুষ। অনেকে তাদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে নানা মন্তব্য করেন।
জাতীয় পার্টির আমলে শুরু এই ভাগবাটোয়ারা:
আশির দশকে জাতীয় পার্টির আমলে ক্ষমতার অবৈধ দাপটে রাতের আঁধারে ফরিদপুর নিউমার্কেটে রাতারাতি তৈরি করা হয়েছিলো কিছু গায়েবি দোকান। তবে তীব্র সমালোচনার মুখে ওই দোকানগুলো ভেঙে ফেলার পর চক্রটির নজরে পড়ে কোতোয়ালি থানার উত্তর সীমানার গেটের সামনের ফাঁকা ফুটপাত দখল করে মার্কেট নির্মাণের নামে গোপন ভাগবাটোয়ারা। সামান্য টাকায় একতলা ভবনের ২৬টি পজিশন বরাদ্দ নিয়ে চার লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ টাকায় সেই পজিশন বিক্রি করে বিশেষ গোষ্ঠী হাতিয়ে নেয় মোটা অংকের টাকা। রাজনৈতিক সুবিধাবাদীদের সাথে তখন বহুল আলোচিত ক্ষমতাসীন টিএসআই ফজলুকেও চারটি দোকানের পজিশন দিয়ে ম্যানেজ করা হয়েছিলো থানা।
এরপর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম হাসিবুল হাসান লাবলুর আমলে দোতলার পজিশন বরাদ্দ দেওয়া হয়। তারপর পৌর মেয়র মাহতাব আলী মেথুর আমলে মার্কেটের পশ্চিম কোনার একাংশে প্রথম তিনতলার পজিশন বানিয়ে রাজনৈতিক কার্যালয় তৈরি করেন তৎকালীন যুবলীগের আহ্বায়ক এইচএম ফোয়াদ।
বিগত আওয়ামী লীগের আমলের পৌর মেয়র অমিতাভ বোসের কার্যকালের শেষদিকে এসে ভাগবাটোয়ারা করা হয় তিনতলা পজিশন বরাদ্দের কাজ। ৫ আগস্টের পর এই কাজ শুরু করতে গেলে তীব্র আপত্তির মুখে দেয়াল নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এখন আবার সেই কাজ শুরু হয়েছে। ফেসবুক সহ সোসাল প্লাটফর্মে নেটিজেনদের তীব্র আপত্তি উঠে। দৈনিক অগ্নিপ্রহর এ বিষয়ে খবর প্রচারের পর পৌ কর্তৃপক্ষ কাজ বন্ধের মৌখিক নির্দেশ দেয় বলে জানা গেছে।
ফরিদপুর পৌরসভার সচিব মো: তানজিলুর রহমান এই প্রতিবেদককে বলেন, রোববার সকালেই কাজ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে জানতে সরেজমিনে যেয়ে দেখা যায়, সকাল ১০টার দিকে কাজ শুরুর পর মৌখিক নির্দেশ পেয়ে কিছুক্ষণ কাজ বন্ধ ছিলো। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আবার কাজ শুরু করা হয়। বর্তমানে তিনতলার দেয়ালের উপর টিনশেড দিয়ে চাল তৈরির কাজ করছেন নির্মাণ শ্রমিকেরা। কারা এ কাজ করাচ্ছেন জানতে চাইলে নির্মাণ শ্রমিকরা বলেন, সকালে পৌরসভা থেকে লোক আসছিল। তারা কাজ বন্ধ করতে বলার পর আমরা কাজ করা বন্ধ করে দেই। পরে আবার আমাদের দোকান মালিকরা কাজ চালিয়ে যেতে বলেছেন।
এদিকে, এভাবে তিনতলায় দোকান ঘর তৈরি অত্যন্ত বিপদজনক উল্লেখ করে ওই মার্কেটের দোতলার চেম্বারের মালিক অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা বলেন, এই অবৈধ নির্মাণ শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, বরং এলাকাবাসী ও সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্বল ভিত্তি বা অনুমোদনহীন পরিত্যক্ত কাঠামোর কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—যার ভুক্তভোগী হতে পারে নিরীহ মানুষ। স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। জননিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা উচিত নয়।
মাহমুদুল হাসান ওয়ালিদ বলেন, এই মার্কেটেে সামনেই আমার অফিস। আমি সারাদিন এখান দিয়ে অনেকবার চলাচল করি। কখনও দুর্ঘটনাবশত: এই ভবন ধসে কোন দুর্ঘটনায় আমি বা আমার পরিবারের কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে পৌরসভার যারা যারা এই স্থাপনা অনুমোদন দিয়েছেন এরা সবাই দায়ী থাকবেন। এই দেশের যা অবস্থা তাতে আগেই বলে রাখলাম! তারা বদলী হয়ে গেলেও যেন খুঁজে খুঁজে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
অ্যাডভোকেট মেহেরুণ নেসা স্বপ্না নামে ওই মার্কেটের আরেক চেম্বার মালিক বলেন, এটা জনস্বার্থ বিরোধী একটা কাজ যা আইনসঙ্গতও নয়। কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং সেই সাথে ফরিদপুরের সচেতন জনগণকে জেগে ওঠার আহবান জানাচ্ছি।










