টেকনাফে আরাকান আর্মি ১৩ বাংলাদেশী জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে
- আপডেট সময় : ০৬:৪৬:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
- / 40
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে নাফ নদের মোহনা থেকে তিনটি মাছ ধরার ট্রলারসহ ১৩ জন বাংলাদেশি জেলেকে অপহরণ করেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’ (এএ)। শনিবার সকালে সাগরে মাছ ধরা শেষে ফেরার পথে শাহপরীর দ্বীপের নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকা থেকে তাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্র ও ফিরে আসা জেলেদের বরাতে জানা যায়, শনিবার ভোর ৪টার দিকে শাহপরীর দ্বীপের মাঝর পাড়া ও ডাংঙ্গর পাড়া থেকে জেলেরা মাছ শিকারে বের হন। সকাল ৭টার দিকে নাফ নদের মোহনায় মাছ ধরার সময় আরাকান আর্মির সদস্যরা স্পিডবোটে করে এসে অস্ত্রের মুখে তাদের ধাওয়া করে। একপর্যায়ে তিনটি নৌকা ও ১৩ জন জেলেকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়া হয়।
আটককৃত জেলেরা হলেন, মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৪০), মো. ফরিদ হোসেন (৩০), মো. রবিউল হাসান (১৭), মো. কালাম (৩০), মো. হোসেন আহমদ (৩৮), মো. মীর কাশেম আলী (৪০), মো. গিয়াস উদ্দিন (৩৩), মো. সালাহউদ্দিন (১৮), মো. মহিউদ্দিন (২২), মো. মলা কালু মিয়া (৫৫), মো. আবু তাহের (৪০), মো. আবদুল খালেক (৪০) ও মো. জাবের মিয়া (২৪)। তাদের সবার বাড়ি টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপের মাঝর পাড়া ও ডাংঙ্গর পাড়া গ্রামে।
শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম পাড়া জেলে সমিতির সভাপতি আব্দুল গফুর জানান, “নাফ নদ ও সাগরে মাছ শিকার এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আরাকান আর্মি প্রায়ই জেলেদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে জেলে ও নৌকা মালিকদের পথে বসতে হবে।”
ইউপি সদস্য আবদুস সালাম ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইবনে আমিন জানান, বারবার জেলে অপহরণের ঘটনায় জেলেপল্লীতে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। বিশেষ করে অপহৃতদের পরিবারগুলো এখন দিশেহারা।
স্থানীয় জেলেদের দাবি অনুযায়ী, গত দুই বছরে আরাকান আর্মি অন্তত ৫০০ জন বাংলাদেশি জেলেকে আটক করেছে। যার মধ্যে প্রায় ৩০০ জনকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও বাকিদের ভাগ্য এখনো অনিশ্চিত।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন:
“আমরা জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি এবং বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি। বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা চলছে। তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।”
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্র জানিয়েছে, অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে এবং সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে।
নাফ নদীতে বারবার এ ধরনের অনুপ্রবেশ ও অপহরণের ঘটনা সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়রা এই সংকট নিরসনে সরকারের স্থায়ী ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।












