০৬:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
শ্রেষ্ঠ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হলেন ডা. নাদিম ছিলেন না নায়াব ইউসুফ, মিটিং কাভার করতে পারলেন না সাংবাদিকেরা “হাজী শরিয়তুল্লাহদের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৪৭ পাওয়ার কারণেই আমরা ৭১ পেয়েছি” একসাথে ৩ মেলার সমালোচনা : জবাবে যা বললেন নারী উদ্যোক্তা লুবাবা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সেই নেতারা এখন কে কোথায় নদীর নাম মালঞ্চ পেয়েছে সরকারি স্বীকৃতি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ‘ডিজিটাল ইভটিজিং’ ইস্যুতে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে তোলপাড় আমার মুর্শিদ হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ভাঙ্গায় পিকআপ-পরিবহন মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩০ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছে তেলবাহী তিনটি সুপার ট্যাংকার

তেল সংকটে কৃষিখাতের বিকল্প ভাবনা

আলী আকবর
  • আপডেট সময় : ১০:২৪:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • / 34

ছবি- অগ্নিপ্রহর

ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের ছায়া বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৯০ ডলার প্রতি ব্যারেল ছাড়িয়েছে, যা বাংলাদেশের মতো তেল আমদানি নির্ভর দেশের জন্য অশনি সংকেত। আমাদের কৃষি খাত, যা জিডিপির প্রায় ১২ শতাংশ এবং জনশক্তির ৬০ শতাংশের কর্মসংস্থান তার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। কৃষিখাতের মুল উপাদান সার ও সেচকার্যে তেলের ব্যবহার নিয়ে চিন্তার ভাজ এখন কৃষকের কপালে।

ব্যাহত হচ্ছে ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি-সারের দেশিও উৎপাদন। বোরো মৌসুমে সেচের জন্য ডিজেল পাচ্ছে না  কৃষক। শুষ্ক মৌসুমে সেচের অভাবে ধান, সবজি, আলু ফসলের ঝুঁকি বাড়ছে। বাংলাদেশে কৃষি  জ্বালানি ও সারের উপর নির্ভরশীল। দেশে সারের মোট চাহিদা প্রায় ৬৮-৬৯ লাখ মেট্রিক টন, যার মাত্র ১২-২০ শতাংশ (প্রায় ৯ লাখ টন) দেশীয় কারখানায় উৎপাদিত হয় এবং বাকি ৮০-৮৮ শতাংশ (৫২-৫৫ লাখ টন) আমদানির ওপর নির্ভরশীল।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয়ও বাড়বে

বার্ষিক ২৫ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়ার চাহিদার মধ্যে প্রায় ১০ লাখ টন দেশে উৎপাদিত হয়, বাকি আমদানি; টিএসপি ও ডিএপির ক্ষেত্রেও উৎপাদন নগণ্য এবং এমওপি সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর। আরেক বড় ব্যাপার হলো সারের বড় চালানগুলো অধিকাংশ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আসে।ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের ফলে পারস্য উপসাগরে শিপিং রুট বন্ধ হওয়ায় সারের দাম ৩০-৫০ শতাংশ বেড়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত মাসে সারের ঘাটতি ১ লাখ টন ছাড়িয়েছে। ফলে ফসলের উৎপাদন ১০-১৫ শতাংশ কমার আশঙ্কা, যা খাদ্যমূল্যস্ফীতি ঘটাবে এবং দরিদ্র কৃষকদের দেউলিয়া করবে। জাতীয় কৃষি পরামর্শ কেন্দ্রের রিপোর্টে বলা হয়েছে, সেচের ৭০ শতাংশ ডিজেল নির্ভর। এই পরিস্থিতিতে ঐতিহ্যগত পদ্ধতি ধরে রাখলে ক্ষতি আরও বাড়বে। সময় এসেছে বিকল্পের দিকে ঝুঁকতে হবে। প্রথম বিকল্প হলো নবায়নযোগ্য শক্তি। বাংলাদেশে সূর্যালোক প্রচুর শক্তি —যা বছরে ৫ কোটি কিলোওয়াট-আওয়ার সম্ভাবনা। সৌর সেচ পাম্প ইতোমধ্যে ২ লক্ষের বেশি স্থাপিত, কিন্তু এটি ১০ গুণ বাড়ানো দরকার। একটি ৩ এইচপি সৌর পাম্পের খরচ ৪-৫ লক্ষ টাকা, যা ডিজেলের তুলনায় ৫ বছরে লাভজনক। ইডিএফ-এর প্রকল্পে দেখা গেছে, সৌর পাম্পে সেচ খরচ ৭০ শতাংশ কমে। সরকার সাবসিডি দিয়ে ৫০ শতাংশ ভর্তুকি করতে পারে, যাতে কৃষকরা সহজে কিনতে পারেন।

সরকারের পক্ষ থেকে ‘সৌর কৃষি মিশন’ চালু করা উচিত—২০২৭ নাগাদ ১০ লক্ষ সৌর পাম্প। ব্যাংক লোন এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে কৃষকদের সচেতন করতে হবে। এতে তেল সংকটের প্রভাব মাত্র ২০ শতাংশ থাকবে।

জৈব সারের দিকে আগাতে হবে।আমদানি নির্ভরতা কমানো ছাড়া সার সংকট মোকাবিলা করা কঠিন। এখানে জৈব সারই সেরা বিকল্প, কারণ আমাদের ৮০ শতাংশ সার আমদানি নির্ভর। জৈব সারে মাটির উর্বরতা বজায় থাকে, রাসায়নিকের মতো লবণাক্ততা সৃষ্টি করে না হয় না। ফসলে৷ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। গবেষণা বলছে, জৈব সারে ধানের উৎপাদন ১০-১৫ শতাংশ বাড়ে এবং খরচ ৪০ শতাংশ কমে।

এখানে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে  কৃষককে ম্যানেজ করা। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে না পারা।সচেতনতার অভাব। এই সমাধান কৃষককে লোন সুবিধা দিতে হবে। ২০৩০ নাগাদ কৃষিকে ৫০ শতাংশ নবায়নযোগ্য করার লক্ষ্য নিতে হবে। এতে তেল সংকট শেষ হবে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

 

শেয়ার করুন

তেল সংকটে কৃষিখাতের বিকল্প ভাবনা

আপডেট সময় : ১০:২৪:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের ছায়া বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৯০ ডলার প্রতি ব্যারেল ছাড়িয়েছে, যা বাংলাদেশের মতো তেল আমদানি নির্ভর দেশের জন্য অশনি সংকেত। আমাদের কৃষি খাত, যা জিডিপির প্রায় ১২ শতাংশ এবং জনশক্তির ৬০ শতাংশের কর্মসংস্থান তার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। কৃষিখাতের মুল উপাদান সার ও সেচকার্যে তেলের ব্যবহার নিয়ে চিন্তার ভাজ এখন কৃষকের কপালে।

ব্যাহত হচ্ছে ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি-সারের দেশিও উৎপাদন। বোরো মৌসুমে সেচের জন্য ডিজেল পাচ্ছে না  কৃষক। শুষ্ক মৌসুমে সেচের অভাবে ধান, সবজি, আলু ফসলের ঝুঁকি বাড়ছে। বাংলাদেশে কৃষি  জ্বালানি ও সারের উপর নির্ভরশীল। দেশে সারের মোট চাহিদা প্রায় ৬৮-৬৯ লাখ মেট্রিক টন, যার মাত্র ১২-২০ শতাংশ (প্রায় ৯ লাখ টন) দেশীয় কারখানায় উৎপাদিত হয় এবং বাকি ৮০-৮৮ শতাংশ (৫২-৫৫ লাখ টন) আমদানির ওপর নির্ভরশীল।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয়ও বাড়বে

বার্ষিক ২৫ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়ার চাহিদার মধ্যে প্রায় ১০ লাখ টন দেশে উৎপাদিত হয়, বাকি আমদানি; টিএসপি ও ডিএপির ক্ষেত্রেও উৎপাদন নগণ্য এবং এমওপি সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর। আরেক বড় ব্যাপার হলো সারের বড় চালানগুলো অধিকাংশ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আসে।ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের ফলে পারস্য উপসাগরে শিপিং রুট বন্ধ হওয়ায় সারের দাম ৩০-৫০ শতাংশ বেড়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত মাসে সারের ঘাটতি ১ লাখ টন ছাড়িয়েছে। ফলে ফসলের উৎপাদন ১০-১৫ শতাংশ কমার আশঙ্কা, যা খাদ্যমূল্যস্ফীতি ঘটাবে এবং দরিদ্র কৃষকদের দেউলিয়া করবে। জাতীয় কৃষি পরামর্শ কেন্দ্রের রিপোর্টে বলা হয়েছে, সেচের ৭০ শতাংশ ডিজেল নির্ভর। এই পরিস্থিতিতে ঐতিহ্যগত পদ্ধতি ধরে রাখলে ক্ষতি আরও বাড়বে। সময় এসেছে বিকল্পের দিকে ঝুঁকতে হবে। প্রথম বিকল্প হলো নবায়নযোগ্য শক্তি। বাংলাদেশে সূর্যালোক প্রচুর শক্তি —যা বছরে ৫ কোটি কিলোওয়াট-আওয়ার সম্ভাবনা। সৌর সেচ পাম্প ইতোমধ্যে ২ লক্ষের বেশি স্থাপিত, কিন্তু এটি ১০ গুণ বাড়ানো দরকার। একটি ৩ এইচপি সৌর পাম্পের খরচ ৪-৫ লক্ষ টাকা, যা ডিজেলের তুলনায় ৫ বছরে লাভজনক। ইডিএফ-এর প্রকল্পে দেখা গেছে, সৌর পাম্পে সেচ খরচ ৭০ শতাংশ কমে। সরকার সাবসিডি দিয়ে ৫০ শতাংশ ভর্তুকি করতে পারে, যাতে কৃষকরা সহজে কিনতে পারেন।

সরকারের পক্ষ থেকে ‘সৌর কৃষি মিশন’ চালু করা উচিত—২০২৭ নাগাদ ১০ লক্ষ সৌর পাম্প। ব্যাংক লোন এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে কৃষকদের সচেতন করতে হবে। এতে তেল সংকটের প্রভাব মাত্র ২০ শতাংশ থাকবে।

জৈব সারের দিকে আগাতে হবে।আমদানি নির্ভরতা কমানো ছাড়া সার সংকট মোকাবিলা করা কঠিন। এখানে জৈব সারই সেরা বিকল্প, কারণ আমাদের ৮০ শতাংশ সার আমদানি নির্ভর। জৈব সারে মাটির উর্বরতা বজায় থাকে, রাসায়নিকের মতো লবণাক্ততা সৃষ্টি করে না হয় না। ফসলে৷ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। গবেষণা বলছে, জৈব সারে ধানের উৎপাদন ১০-১৫ শতাংশ বাড়ে এবং খরচ ৪০ শতাংশ কমে।

এখানে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে  কৃষককে ম্যানেজ করা। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে না পারা।সচেতনতার অভাব। এই সমাধান কৃষককে লোন সুবিধা দিতে হবে। ২০৩০ নাগাদ কৃষিকে ৫০ শতাংশ নবায়নযোগ্য করার লক্ষ্য নিতে হবে। এতে তেল সংকট শেষ হবে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।