০৩:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
শ্রেষ্ঠ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হলেন ডা. নাদিম ছিলেন না নায়াব ইউসুফ, মিটিং কাভার করতে পারলেন না সাংবাদিকেরা “হাজী শরিয়তুল্লাহদের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৪৭ পাওয়ার কারণেই আমরা ৭১ পেয়েছি” একসাথে ৩ মেলার সমালোচনা : জবাবে যা বললেন নারী উদ্যোক্তা লুবাবা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সেই নেতারা এখন কে কোথায় নদীর নাম মালঞ্চ পেয়েছে সরকারি স্বীকৃতি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ‘ডিজিটাল ইভটিজিং’ ইস্যুতে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে তোলপাড় আমার মুর্শিদ হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ভাঙ্গায় পিকআপ-পরিবহন মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩০ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছে তেলবাহী তিনটি সুপার ট্যাংকার

কি হবে ইরান বা ইসলামি বিপ্লবের!

আলী আকবর
  • আপডেট সময় : ০৯:৫১:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
  • / 114

দিন গড়িয়ে পৃথিবীর আর দশটা যুদ্ধের মত আমেরিকা- ইরান যুদ্ধের ফলাফল একদিন সামনে আসবে। ইরান হয়তো পরাজিত হবে অথবা নতুন কোনো সমঝোতা তৈরি হবে। কিন্তু তাতে কি মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার আর কোন শত্রু থাকবে না? সাদ্দামের ইরাক,গাদ্দাফির লিবিয়ার মত খামেনীর ইরানও কি হারিয়ে যাবে? তবে কি ইসলামী বিপ্লব এত সহজে ব্যর্থ হয়ে গেল?

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর পশ্চিমাদের বহু চাপ, নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের মধ্য দিয়ে পথ চলেছে ইরান। তবুও দেশটি টিকে আছে এবং নিজস্ব শক্তি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে তাকালে বোঝা যায়—বিষয়টি এত সরল নয়।

দ্বৈত সামরিক কাঠামো

বিশ্বের অধিকাংশ দেশ একটি সেনাবাহিনীর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করে। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ভিন্ন। ইরানের রয়েছে নিয়মিত সেনাবাহিনী। এই সেনাবাহিনীর প্রায় সমান ইউনিট নিয়ে আরেকটি শক্তিশালী বাহিনী আছে যা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নামে পরিচিত। এই দ্বৈত সামরিক কাঠামো ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকে আরও বহুমাত্রিক সুরক্ষা দিয়েছে। সেনাবাহিনী কোথাও ব্যর্থ হলে,অভূত্থান হলে বা শত্রুদেশের সঙ্গে আঁতাত করলে আইআরজিসি তার বিকল্প হয়ে দাড়ায় যা ইরানের ইসলামি বিপ্লবকে ধারন করে। এই বাহিনী ইসলামি বিপ্লবের আদর্শ রক্ষা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামরিক ও কৌশলগত অপারেশন পরিচালনা করে।

দ্বিতীয় বিষয়টা হলো, ক্ষমতার ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো। কারণ সেখানে একক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পুরো রাষ্ট্রক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করেনা; বরং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্ষমতা ভাগ করা থাকে। যেমন, সর্বোচ্চ নেতা (Supreme Leader)। এই নেতা ইরানের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব যিনি সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হওয়া, যুদ্ধ বা শান্তি বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, বিচার বিভাগের প্রধান নিয়োগ, রাষ্ট্রীয় টিভি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ করেন। এই নেতা আবার স্বেচ্ছাচারিতায় নিযুক্ত হননা। সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে একটি বিশেষ পরিষদ। এই বিশেষ পরিষদ প্রয়োজনে তাঁকে অপসারণ করার ক্ষমতাও রাখে। এই পরিষদের সদস্যরা জনগণের ভোটে নির্বাচন হন। এরপরে ক্ষমতার কেন্দ্রে আছেন প্রেসিডেন্ট। যিনি ইরানি জনগণের ভোটে নির্বাচিত। তার কাজ সরকার পরিচালনা করা, অর্থনীতি ও প্রশাসন পরিচালনা, মন্ত্রিসভা গঠন। সংসদ বা মজলিসের কাজ আইন তৈরি করা, বাজেট পাস করা, সরকারের কার্যক্রম তদারকি করা।

এর বাইরে আছে গার্ডিয়ান কাউন্সিল যারা সংসদে পাস হওয়া আইন ইসলাম ও সংবিধানের সাথে মিল আছে কিনা তা পরীক্ষা করে। তাছাড়া সাংসদ নির্বাচনে তারা প্রার্থী বাছাইয়ে ভূমিকা রাখে।

ইরানের বৈদেশিক আর্থিক নির্ভরতা কম। ইরান দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে। এর ফলে দেশটি বৈদেশিক অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করেছে। নিজেরা ডলার ব্যবস্থার বিপরীতে চলছে। তারা (আইএমএফ) ও World Bank-এর ঋণের উপর তুলনামূলক কম নির্ভরশীল হওয়ায় তাদের অর্থনীতিতে পশ্চিমা প্রভাব তুলনামূলক কম। প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা ইরানের সবচেয়ে বেশি। আমেরিকা ও ইজরায়েলের মত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ইরানে না থাকলেও তাদের প্রযুক্তি অনেকাংশে সুরক্ষিত। নিষেধাজ্ঞা অনেক সময় বাধা হলেও কখনো কখনো তা স্বনির্ভরতার পথও তৈরি করে। ইরান ধীরে ধীরে নিজস্ব প্রযুক্তি ও শিল্প সক্ষমতা গড়ে তুলেছে। তারা নিজস্বভাবে জাহাজ, রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র, গাড়ি ও শিল্পযন্ত্র উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে। ইরান এত এত আন্তর্জাতিক অবরোধের মধ্যেও তারা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েনি।

জাতীয় আত্মমর্যাদা ও প্রতিরোধের মানসিকতা:

অনেক বিশ্লেষকের মতে, ইরানের সমাজে জাতীয় মর্যাদা ও স্বাধীনতার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস, যুদ্ধ এবং নিষেধাজ্ঞার অভিজ্ঞতা তাদের মধ্যে প্রতিরোধ ও আত্মমর্যাদার এক বিশেষ মানসিকতা তৈরি করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি বলছেন, তাদের ৬শ’ বছরের সভ্যতাকে ২শ’ বছরের আমেরিকার হাতে তুলে দেবেনা। ইরানের ভৌগলিক অবস্থানও তাদেরকে শক্তি সঞ্চার করেছে। দেশটি বিস্তৃত এবং অনেক অংশ পাহাড়ি ও দুর্গম। পাশাপাশি রয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ— হরমুজ প্রণালী। মধ্যপ্রাচ্যের বড় অংশের তেল রপ্তানি এই সংকীর্ণ প্রণালী দিয়ে হয়। ফলে এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত স্থান। এছাড়া ইরানের রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বড় তেল ও গ্যাস মজুত। জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকে এটি একটি বড় শক্তি, কারণ বর্তমান বিশ্বে জ্বালানি পুরো পৃথিবীর জন্য বড় দুর্বলতার জায়গা।

বলা যায়, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শক্তি শুধু অস্ত্র বা যুদ্ধের ফলাফলে নির্ধারিত হয়না। একটি দেশের অর্থনীতি, প্রযুক্তি, ভূগোল, জ্বালানি সম্পদ এবং জাতীয় মানসিকতা—সব মিলিয়েই তার স্থায়িত্ব নির্ধারণ করে।  যুদ্ধের ফলাফল যাই হোক না কেন—একটি জাতি বা একটি বিপ্লবের ভবিষ্যৎ শুধুমাত্র কোন যুদ্ধের  ফলাফলের উপর নির্ভর করে না।

 

লেখক: প্রাবন্ধিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

শেয়ার করুন

কি হবে ইরান বা ইসলামি বিপ্লবের!

আপডেট সময় : ০৯:৫১:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

দিন গড়িয়ে পৃথিবীর আর দশটা যুদ্ধের মত আমেরিকা- ইরান যুদ্ধের ফলাফল একদিন সামনে আসবে। ইরান হয়তো পরাজিত হবে অথবা নতুন কোনো সমঝোতা তৈরি হবে। কিন্তু তাতে কি মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার আর কোন শত্রু থাকবে না? সাদ্দামের ইরাক,গাদ্দাফির লিবিয়ার মত খামেনীর ইরানও কি হারিয়ে যাবে? তবে কি ইসলামী বিপ্লব এত সহজে ব্যর্থ হয়ে গেল?

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর পশ্চিমাদের বহু চাপ, নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের মধ্য দিয়ে পথ চলেছে ইরান। তবুও দেশটি টিকে আছে এবং নিজস্ব শক্তি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে তাকালে বোঝা যায়—বিষয়টি এত সরল নয়।

দ্বৈত সামরিক কাঠামো

বিশ্বের অধিকাংশ দেশ একটি সেনাবাহিনীর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করে। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ভিন্ন। ইরানের রয়েছে নিয়মিত সেনাবাহিনী। এই সেনাবাহিনীর প্রায় সমান ইউনিট নিয়ে আরেকটি শক্তিশালী বাহিনী আছে যা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নামে পরিচিত। এই দ্বৈত সামরিক কাঠামো ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকে আরও বহুমাত্রিক সুরক্ষা দিয়েছে। সেনাবাহিনী কোথাও ব্যর্থ হলে,অভূত্থান হলে বা শত্রুদেশের সঙ্গে আঁতাত করলে আইআরজিসি তার বিকল্প হয়ে দাড়ায় যা ইরানের ইসলামি বিপ্লবকে ধারন করে। এই বাহিনী ইসলামি বিপ্লবের আদর্শ রক্ষা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামরিক ও কৌশলগত অপারেশন পরিচালনা করে।

দ্বিতীয় বিষয়টা হলো, ক্ষমতার ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো। কারণ সেখানে একক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পুরো রাষ্ট্রক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করেনা; বরং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্ষমতা ভাগ করা থাকে। যেমন, সর্বোচ্চ নেতা (Supreme Leader)। এই নেতা ইরানের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব যিনি সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হওয়া, যুদ্ধ বা শান্তি বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, বিচার বিভাগের প্রধান নিয়োগ, রাষ্ট্রীয় টিভি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ করেন। এই নেতা আবার স্বেচ্ছাচারিতায় নিযুক্ত হননা। সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে একটি বিশেষ পরিষদ। এই বিশেষ পরিষদ প্রয়োজনে তাঁকে অপসারণ করার ক্ষমতাও রাখে। এই পরিষদের সদস্যরা জনগণের ভোটে নির্বাচন হন। এরপরে ক্ষমতার কেন্দ্রে আছেন প্রেসিডেন্ট। যিনি ইরানি জনগণের ভোটে নির্বাচিত। তার কাজ সরকার পরিচালনা করা, অর্থনীতি ও প্রশাসন পরিচালনা, মন্ত্রিসভা গঠন। সংসদ বা মজলিসের কাজ আইন তৈরি করা, বাজেট পাস করা, সরকারের কার্যক্রম তদারকি করা।

এর বাইরে আছে গার্ডিয়ান কাউন্সিল যারা সংসদে পাস হওয়া আইন ইসলাম ও সংবিধানের সাথে মিল আছে কিনা তা পরীক্ষা করে। তাছাড়া সাংসদ নির্বাচনে তারা প্রার্থী বাছাইয়ে ভূমিকা রাখে।

ইরানের বৈদেশিক আর্থিক নির্ভরতা কম। ইরান দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে। এর ফলে দেশটি বৈদেশিক অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করেছে। নিজেরা ডলার ব্যবস্থার বিপরীতে চলছে। তারা (আইএমএফ) ও World Bank-এর ঋণের উপর তুলনামূলক কম নির্ভরশীল হওয়ায় তাদের অর্থনীতিতে পশ্চিমা প্রভাব তুলনামূলক কম। প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা ইরানের সবচেয়ে বেশি। আমেরিকা ও ইজরায়েলের মত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ইরানে না থাকলেও তাদের প্রযুক্তি অনেকাংশে সুরক্ষিত। নিষেধাজ্ঞা অনেক সময় বাধা হলেও কখনো কখনো তা স্বনির্ভরতার পথও তৈরি করে। ইরান ধীরে ধীরে নিজস্ব প্রযুক্তি ও শিল্প সক্ষমতা গড়ে তুলেছে। তারা নিজস্বভাবে জাহাজ, রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র, গাড়ি ও শিল্পযন্ত্র উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে। ইরান এত এত আন্তর্জাতিক অবরোধের মধ্যেও তারা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েনি।

জাতীয় আত্মমর্যাদা ও প্রতিরোধের মানসিকতা:

অনেক বিশ্লেষকের মতে, ইরানের সমাজে জাতীয় মর্যাদা ও স্বাধীনতার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস, যুদ্ধ এবং নিষেধাজ্ঞার অভিজ্ঞতা তাদের মধ্যে প্রতিরোধ ও আত্মমর্যাদার এক বিশেষ মানসিকতা তৈরি করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি বলছেন, তাদের ৬শ’ বছরের সভ্যতাকে ২শ’ বছরের আমেরিকার হাতে তুলে দেবেনা। ইরানের ভৌগলিক অবস্থানও তাদেরকে শক্তি সঞ্চার করেছে। দেশটি বিস্তৃত এবং অনেক অংশ পাহাড়ি ও দুর্গম। পাশাপাশি রয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ— হরমুজ প্রণালী। মধ্যপ্রাচ্যের বড় অংশের তেল রপ্তানি এই সংকীর্ণ প্রণালী দিয়ে হয়। ফলে এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত স্থান। এছাড়া ইরানের রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বড় তেল ও গ্যাস মজুত। জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকে এটি একটি বড় শক্তি, কারণ বর্তমান বিশ্বে জ্বালানি পুরো পৃথিবীর জন্য বড় দুর্বলতার জায়গা।

বলা যায়, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শক্তি শুধু অস্ত্র বা যুদ্ধের ফলাফলে নির্ধারিত হয়না। একটি দেশের অর্থনীতি, প্রযুক্তি, ভূগোল, জ্বালানি সম্পদ এবং জাতীয় মানসিকতা—সব মিলিয়েই তার স্থায়িত্ব নির্ধারণ করে।  যুদ্ধের ফলাফল যাই হোক না কেন—একটি জাতি বা একটি বিপ্লবের ভবিষ্যৎ শুধুমাত্র কোন যুদ্ধের  ফলাফলের উপর নির্ভর করে না।

 

লেখক: প্রাবন্ধিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।