০৫:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
শ্রেষ্ঠ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হলেন ডা. নাদিম ছিলেন না নায়াব ইউসুফ, মিটিং কাভার করতে পারলেন না সাংবাদিকেরা “হাজী শরিয়তুল্লাহদের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৪৭ পাওয়ার কারণেই আমরা ৭১ পেয়েছি” একসাথে ৩ মেলার সমালোচনা : জবাবে যা বললেন নারী উদ্যোক্তা লুবাবা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সেই নেতারা এখন কে কোথায় নদীর নাম মালঞ্চ পেয়েছে সরকারি স্বীকৃতি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ‘ডিজিটাল ইভটিজিং’ ইস্যুতে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে তোলপাড় আমার মুর্শিদ হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ভাঙ্গায় পিকআপ-পরিবহন মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩০ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছে তেলবাহী তিনটি সুপার ট্যাংকার

২০ রুপির ‘কলঙ্ক’ ঘুচলো ৩০ বছরে, পরদিনই মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 86

ন্যায়বিচার পেতে ভারতের গুজরাটের পুলিশ কনস্টেবল বাবুভাই প্রজাপতির জন্য অপেক্ষার প্রহর ছিল দীর্ঘ তিন দশকের। মাত্র ২০ রুপি ঘুষ নেওয়ার এক ‘সামান্য’ অভিযোগে দীর্ঘ ৩০ বছর আদালতের বারান্দায় ঘুরেছেন তিনি। অবশেষে উচ্চ আদালত যখন তাঁকে নির্দোষ ঘোষণা করে সম্মানের মুকুট ফিরিয়ে দিলেন, সেই আনন্দ সইবার জন্য পরমায়ু আর অবশিষ্ট ছিল না তাঁর। রায়ের ঠিক পরদিনই না ফেরার দেশে চলে গেলেন এই লড়াই করা মানুষটি।

ঘটনার শুরু সেই ১৯৯৬ সালে। আহমেদাবাদে কর্মরত থাকাকালে বাবুভাইয়ের বিরুদ্ধে ২০ রুপি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সে সময়কার দুর্নীতি দমন আইনে মামলা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। ১৯৯৭ সালে চার্জশিট, ২০০২ সালে অভিযোগ গঠন—এভাবেই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলে বিচারিক প্রক্রিয়া। ২০০৪ সালে নিম্ন আদালত তাঁকে ৪ বছরের কারাদণ্ড দেয়। এরপর গুজরাট হাইকোর্টে আপিল করেছিলেন বাবু ভাই।

উচ্চ আদালতে সেই আপিল নিষ্পত্তি হতে লেগে যায় দীর্ঘ ২২ বছর। অবশেষে গত ৪ ফেব্রুয়ারি গুজরাট হাইকোর্ট খালাস দেন বাবুভাইকে। আদালত বলেন, সাক্ষীদের বয়ানে অসংগতি রয়েছে এবং প্রসিকিউশন অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে।

বাবুভাইয়ের আইনজীবী নিতিন গান্ধী জানান, রায়ের দিন বাবুভাই অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন। এখন তিনি সরকারের কাছ থেকে বকেয়া সব সুযোগ-সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন বলে তাঁকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু পরদিন ফোন করলে জানতে পারি, তিনি মারা গেছেন।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বার্ধক্যজনিত কারণে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে বাবু ভাই প্রজাপতির স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

শেয়ার করুন

২০ রুপির ‘কলঙ্ক’ ঘুচলো ৩০ বছরে, পরদিনই মৃত্যু

আপডেট সময় : ১০:০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ন্যায়বিচার পেতে ভারতের গুজরাটের পুলিশ কনস্টেবল বাবুভাই প্রজাপতির জন্য অপেক্ষার প্রহর ছিল দীর্ঘ তিন দশকের। মাত্র ২০ রুপি ঘুষ নেওয়ার এক ‘সামান্য’ অভিযোগে দীর্ঘ ৩০ বছর আদালতের বারান্দায় ঘুরেছেন তিনি। অবশেষে উচ্চ আদালত যখন তাঁকে নির্দোষ ঘোষণা করে সম্মানের মুকুট ফিরিয়ে দিলেন, সেই আনন্দ সইবার জন্য পরমায়ু আর অবশিষ্ট ছিল না তাঁর। রায়ের ঠিক পরদিনই না ফেরার দেশে চলে গেলেন এই লড়াই করা মানুষটি।

ঘটনার শুরু সেই ১৯৯৬ সালে। আহমেদাবাদে কর্মরত থাকাকালে বাবুভাইয়ের বিরুদ্ধে ২০ রুপি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সে সময়কার দুর্নীতি দমন আইনে মামলা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। ১৯৯৭ সালে চার্জশিট, ২০০২ সালে অভিযোগ গঠন—এভাবেই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলে বিচারিক প্রক্রিয়া। ২০০৪ সালে নিম্ন আদালত তাঁকে ৪ বছরের কারাদণ্ড দেয়। এরপর গুজরাট হাইকোর্টে আপিল করেছিলেন বাবু ভাই।

উচ্চ আদালতে সেই আপিল নিষ্পত্তি হতে লেগে যায় দীর্ঘ ২২ বছর। অবশেষে গত ৪ ফেব্রুয়ারি গুজরাট হাইকোর্ট খালাস দেন বাবুভাইকে। আদালত বলেন, সাক্ষীদের বয়ানে অসংগতি রয়েছে এবং প্রসিকিউশন অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে।

বাবুভাইয়ের আইনজীবী নিতিন গান্ধী জানান, রায়ের দিন বাবুভাই অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন। এখন তিনি সরকারের কাছ থেকে বকেয়া সব সুযোগ-সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন বলে তাঁকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু পরদিন ফোন করলে জানতে পারি, তিনি মারা গেছেন।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বার্ধক্যজনিত কারণে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে বাবু ভাই প্রজাপতির স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।