ঢাকা ০৩:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অ্যাডভোকেট হামিদুল হক ঝন্টুর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত নারী উদ্যোক্তাদের হাতে তৈরি সামগ্রীতে প্রাণবন্ত হলিডে মার্কেটের ইফতার মাহফিল ফরিদপুরে বিহারি কলোনিতে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যা, আহত মা ও ভাই পবিত্র কোরআনের আলোকে ইসলামে যাকাতের গুরুত্ব ও বিধান বোয়ালমারীতে কিশোর শ্রমিক সজীব হত্যা: আসামি রিহাত মাগুরা থেকে গ্রেপ্তার বেইলি ব্রিজ মেরামতে বিলম্ব: ঈদের আগেই চালুর দাবি ফরিদপুরবাসীর ব্যস্ত সড়কে উপড়ে পড়ল গাছ: অল্পতে বাঁচলেন যাত্রী ফরিদপুরে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ১৮টি ইজিবাইকসহ আন্তঃজেলা চোরচক্রের ১২ সদস্য গ্রেপ্তার ফরিদপুরে ‘কাচ্চি সুলতান’কে ১ লাখ টাকা জরিমানা: কিচেনে মিলল ক্ষতিকর কেমিক্যাল বোয়ালমারীতে পায়ুপথে হাওয়া: কিশোর শ্রমিকের মৃত্যু

অস্ত্র বহনের অধিকার নিয়ে কাজ করা গোষ্ঠীগুলো এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করছে

মিনেসোটায় গুলিবর্ষণ: অভিবাসন নীতি নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরে ফাটল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৫১:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 49

মিনেসোটায় ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দ্বিতীয় এক বাসিন্দা নিহত হওয়ার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি। এই হত্যাকাণ্ডের জেরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন দমন-পীড়নের নীতি নিয়ে খোদ রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেই তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন বিভক্তি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দলের অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতা এখন এই অভিযানের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হোয়াইট হাউস আইসিই (ICE) কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন দিয়ে নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকলেও, দলের ভেতরে এই এজেন্ডার অজনপ্রিয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান জেমস কমার এক সাক্ষাৎকারে ফেডারেল এজেন্টদের মিনিয়াপোলিস ছেড়ে যাওয়ার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়েছেন। ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, “মেয়র ও গভর্নর যদি আমাদের কর্মকর্তাদের ঝুঁকির মুখে ফেলেন এবং আরও নিরীহ প্রাণ হারানোর আশঙ্কা থাকে, তবে হয়তো অন্য শহরে চলে যাওয়াই শ্রেয়।”

অন্যদিকে, মেইন অঙ্গরাজ্যের সিনেটর সুসান কলিন্স এক বিবৃতিতে একে ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “সহিংসতা ছাড়াই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব ছিল কি না, তা নির্ধারণে স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন।” একই সুরে কথা বলেছেন নেব্রাস্কার সিনেটর পিট রিকেটস। তিনি এই পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন।

ভিডিও ফুটেজ প্রসঙ্গে প্রশাসনের দাবি: ঘটনার সূত্রপাত মিনিয়াপোলিসের নার্স অ্যালেক্স প্রেটিকে ফেডারেল কর্মকর্তাদের গুলি করার মধ্য দিয়ে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের দাবি, প্রেটি বন্দুক নিয়ে কর্মকর্তাদের দিকে তেড়ে এসেছিলেন এবং তিনি একজন ‘দেশীয় সন্ত্রাসী’

তবে এ ঘটনায় পাওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। ফুটেজে দেখা যায়, প্রেটি কেবল ক্যামেরা দিয়ে কর্মকর্তাদের ছবি তুলছিলেন। তাকে প্রথমে রাসায়নিক স্প্রে করে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং এরপরই গুলির শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেটির কাছে আইনসম্মত অস্ত্র থাকলেও তিনি সেটি ব্যবহার করেননি।

প্রশাসনিক সংকটে হোয়াইট হাউস: এই ঘটনায় ডেমোক্র্যাটরা ইতিমধ্যেই হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েমের অভিশংসন দাবি করেছেন। তবে বড় ধাক্কাটি এসেছে রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের মিত্র ‘গান রাইটস’ বা অস্ত্র অধিকার রক্ষা গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে। দ্বিতীয় সংশোধনী বা অস্ত্র বহনের অধিকার নিয়ে কাজ করা গোষ্ঠীগুলো এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।

প্রতিনিধি মাইকেল বাউমগার্টনার বলেন, “মিনেসোটা থেকে আসা ভিডিও দেখে আমি বিচলিত।” এমনকি বিল ক্যাসিন্ডির মতো সিনেটররা সতর্ক করে বলেছেন, “আইসিই (ICE) এবং ডিএইচএস (DHS)-এর বিশ্বাসযোগ্যতা এখন চরম ঝুঁকির মুখে।”

যদিও হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেল জ্যাকসন কর্মকর্তাদের ‘বীর’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, কিন্তু নিজ দলের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান এই বিদ্রোহ ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে যারা আগামীতে নির্বাচনে লড়বেন না বা যারা ট্রাম্পের কট্টর অনুসারী নন, তারা এখন প্রকাশ্যেই প্রশাসনের এই একগুঁয়েমি’র বিরোধিতা করছেন।

অস্ত্র বহনের অধিকার নিয়ে কাজ করা গোষ্ঠীগুলো এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করছে

মিনেসোটায় গুলিবর্ষণ: অভিবাসন নীতি নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরে ফাটল

আপডেট সময় : ০৯:৫১:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

মিনেসোটায় ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দ্বিতীয় এক বাসিন্দা নিহত হওয়ার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি। এই হত্যাকাণ্ডের জেরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন দমন-পীড়নের নীতি নিয়ে খোদ রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেই তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন বিভক্তি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দলের অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতা এখন এই অভিযানের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হোয়াইট হাউস আইসিই (ICE) কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন দিয়ে নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকলেও, দলের ভেতরে এই এজেন্ডার অজনপ্রিয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান জেমস কমার এক সাক্ষাৎকারে ফেডারেল এজেন্টদের মিনিয়াপোলিস ছেড়ে যাওয়ার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়েছেন। ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, “মেয়র ও গভর্নর যদি আমাদের কর্মকর্তাদের ঝুঁকির মুখে ফেলেন এবং আরও নিরীহ প্রাণ হারানোর আশঙ্কা থাকে, তবে হয়তো অন্য শহরে চলে যাওয়াই শ্রেয়।”

অন্যদিকে, মেইন অঙ্গরাজ্যের সিনেটর সুসান কলিন্স এক বিবৃতিতে একে ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “সহিংসতা ছাড়াই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব ছিল কি না, তা নির্ধারণে স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন।” একই সুরে কথা বলেছেন নেব্রাস্কার সিনেটর পিট রিকেটস। তিনি এই পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন।

ভিডিও ফুটেজ প্রসঙ্গে প্রশাসনের দাবি: ঘটনার সূত্রপাত মিনিয়াপোলিসের নার্স অ্যালেক্স প্রেটিকে ফেডারেল কর্মকর্তাদের গুলি করার মধ্য দিয়ে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের দাবি, প্রেটি বন্দুক নিয়ে কর্মকর্তাদের দিকে তেড়ে এসেছিলেন এবং তিনি একজন ‘দেশীয় সন্ত্রাসী’

তবে এ ঘটনায় পাওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। ফুটেজে দেখা যায়, প্রেটি কেবল ক্যামেরা দিয়ে কর্মকর্তাদের ছবি তুলছিলেন। তাকে প্রথমে রাসায়নিক স্প্রে করে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং এরপরই গুলির শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেটির কাছে আইনসম্মত অস্ত্র থাকলেও তিনি সেটি ব্যবহার করেননি।

প্রশাসনিক সংকটে হোয়াইট হাউস: এই ঘটনায় ডেমোক্র্যাটরা ইতিমধ্যেই হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েমের অভিশংসন দাবি করেছেন। তবে বড় ধাক্কাটি এসেছে রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের মিত্র ‘গান রাইটস’ বা অস্ত্র অধিকার রক্ষা গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে। দ্বিতীয় সংশোধনী বা অস্ত্র বহনের অধিকার নিয়ে কাজ করা গোষ্ঠীগুলো এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।

প্রতিনিধি মাইকেল বাউমগার্টনার বলেন, “মিনেসোটা থেকে আসা ভিডিও দেখে আমি বিচলিত।” এমনকি বিল ক্যাসিন্ডির মতো সিনেটররা সতর্ক করে বলেছেন, “আইসিই (ICE) এবং ডিএইচএস (DHS)-এর বিশ্বাসযোগ্যতা এখন চরম ঝুঁকির মুখে।”

যদিও হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেল জ্যাকসন কর্মকর্তাদের ‘বীর’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, কিন্তু নিজ দলের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান এই বিদ্রোহ ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে যারা আগামীতে নির্বাচনে লড়বেন না বা যারা ট্রাম্পের কট্টর অনুসারী নন, তারা এখন প্রকাশ্যেই প্রশাসনের এই একগুঁয়েমি’র বিরোধিতা করছেন।