০৮:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
ফরিদপুরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন মুম্বাই বিমানবন্দরে ১২ কোটি রুপির মাদকসহ সাবেক ‘মিসেস কেরালা’ প্রতিযোগী গ্রেপ্তার সকলকে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকতে হবে -পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আগ্রহের কেন্দ্রে ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির নির্বাচন বিশ্বকাপে প্রথম খেলায় চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে কোরিয়ার জয় প্রতারক সন্দেহে খাসি ব্যবসায়ীকে বাড়িতে ডেকে মহিলাদের নির্যাতন, টাকা লুটের অভিযোগ লাল কার্ডের রেকর্ডেও উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের ধারায় মেক্সিকো দাঙ্গা আর মামলার ঝক্কি এড়িয়ে শান্তি ফিরবে কি অশান্ত সালথায়? নীরব ঘাতক ‘ফ্যাটি লিভার’: সচেতনতাই সুস্থ লিভারের চাবিকাঠি স্কুলের সামনে বিটুমিন পোড়ানোর ধোঁয়ায় অসুস্থ্য কোমলমতি শিক্ষার্থীরা
র‍্যাবের জালে ধরা পড়েছে মূল পরিকল্পনাকারী

ভাগ্নির সাথে অবৈধ সম্পর্ক ও ভিডিও ধারণের প্রতিশোধ নিতে খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:১৯:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 242

ফরিদপুরের নগরকান্দায় অজ্ঞাত যুবক আলী মোল্লা হত্যার ক্লুলেস রহস্য ২১ দিনের মধ্যেই উদ্ঘাটন করেছে র‍্যাব-১০। গত ১ জানুয়ারি হাত-পা বাঁধা ও গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এই লাশের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি মূল পরিকল্পনাকারী ফিরোজ মিয়াকে কুষ্টিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। র‍্যাবের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, নিহত আলী মোল্লার সাথে আসামি মমরেজের ভাগ্নির অবৈধ সম্পর্ক এবং ভিডিও ধারণের প্রতিশোধ নিতেই এই পরিকল্পনা করা হয়। শ্যালক ও দুলাভাই মিলে মদ ও ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে এবং পরে গলা কেটে আলীকে হত্যা করে ডোবায় ফেলে দেয়।

ইংরেজি বছরের শুরুর দিনেই ফরিদপুরের নগরকান্দার নারায়ণখালী ব্রীজের নিচে ডোবা থেকে উদ্ধার হয়েছিলো অজ্ঞাত পরিচয়ের এক যুবকের মৃতদেহ। জিন্সের প্যান্ট ও টি-শার্ট পরিহিত যুবকের হাত-পা বাঁধা ছিল এবং চোখ ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে আটকানো ছিলো। পাশাপাশি গলা ছিলো কাটা।

এই রহস্যজনক ও নৃশংস খবরটি মিডিয়ায় আসার পর জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এরপর গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়ে ঘটনার ২১ দিনের মধ্যেই ক্লুলেস এই হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে র‌্যাব। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় মামলার অন্যতম প্রধান আসামি ফিরোজ মিয়াকে (৩৭) গ্রেফতার করেছে তারা।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে র‌্যাব-১০ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) তাপস কর্মকার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

আটক ফিরোজ মিয়া নগরকান্দার মধ্যগজদিয়া গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে। র‌্যাব-১২ এর সহযোগিতায় তাকে কুষ্টিয়ার আল্লারদরগা বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধে দ্রুত বিচার আইনে দু’টি মামলাসহ ৬ টি মামলা রয়েছে।
আর অজ্ঞাত পরিচয়ের ওই মৃতদেহটি জনৈক আলী মোল্লার (৩৪)। অবশ্য আলী মোল্লার বিস্তারিত পরিচয় ওই বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়নি।

র‌্যাব জানায়, ফিরোজ ও মমরেজ নিহত আলী মোল্লার কাছ থেকে টাকা পেত। পাশাপাশি মমরেজের বোনের আগের ঘরের মেয়ের সাথে আলী মোল্লার অবৈধ সম্পর্ক ছিল। আলী মোল্লা তাঁর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করেছিলো। এসব কারণে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব জানায়, গত ৩০ ডিসেম্বর ফিরোজ, তাঁর শ্যালক মমরেজ ও আলী মোল্লা একসঙ্গে একটি ট্রাকে করে গাজীপুরের উলুখোলায় গিয়েছিল। এরপর বিভিন্নস্থানে ট্রাকে মালামাল লোড-আনলোড করে পরেরদিন রাতে ফেরার সময় তারা একসাথে মদ পান করে। এসময় আলী মোল্লাকে মদের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেয়।
এতে একপর্যায়ে আলী মোল্লা বমি করে অচেতন হয়ে যায়।

এরপর তারা ঢাকার যাত্রাবাড়িতে পৌঁছে আলীর হাত-পা বেঁধে ফেলে। তবে কিছুক্ষণ পর চেতনা ফিরে এলে সে হাত-পা বাঁধার কারণ জানতে চায়। এসময় স্কচটেপ দিয়ে তাঁর মুখ আটকে তারা আলী মোল্লার ওপর বসে হাতুড়ি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে। রাত আনুমানিক ৪টার দিকে নগরকান্দায় নারায়ণখালীতে এসে ব্রিজের নিচে যেয়ে গলায় আঘাত করে ব্রিজের ঢালসংলগ্ন ডোবায় লাশ ফেলে পালিয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, গত ১ জানুয়ারি সকালে ফরিদপুর জেলার নগরকান্দার ডাঙ্গী ইউনিয়নের সোনাখোলা গ্রামে ফরিদপুর-ভাঙ্গা মহাসড়কের নারায়ণখালী ব্রিজের ঢালের ডোবা থেকে এক যুবকের মৃতদেহ দেখতে পেয়ে  স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে। ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

শেয়ার করুন

র‍্যাবের জালে ধরা পড়েছে মূল পরিকল্পনাকারী

ভাগ্নির সাথে অবৈধ সম্পর্ক ও ভিডিও ধারণের প্রতিশোধ নিতে খুন

আপডেট সময় : ০১:১৯:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

ইংরেজি বছরের শুরুর দিনেই ফরিদপুরের নগরকান্দার নারায়ণখালী ব্রীজের নিচে ডোবা থেকে উদ্ধার হয়েছিলো অজ্ঞাত পরিচয়ের এক যুবকের মৃতদেহ। জিন্সের প্যান্ট ও টি-শার্ট পরিহিত যুবকের হাত-পা বাঁধা ছিল এবং চোখ ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে আটকানো ছিলো। পাশাপাশি গলা ছিলো কাটা।

এই রহস্যজনক ও নৃশংস খবরটি মিডিয়ায় আসার পর জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এরপর গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়ে ঘটনার ২১ দিনের মধ্যেই ক্লুলেস এই হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে র‌্যাব। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় মামলার অন্যতম প্রধান আসামি ফিরোজ মিয়াকে (৩৭) গ্রেফতার করেছে তারা।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে র‌্যাব-১০ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) তাপস কর্মকার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

আটক ফিরোজ মিয়া নগরকান্দার মধ্যগজদিয়া গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে। র‌্যাব-১২ এর সহযোগিতায় তাকে কুষ্টিয়ার আল্লারদরগা বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধে দ্রুত বিচার আইনে দু’টি মামলাসহ ৬ টি মামলা রয়েছে।
আর অজ্ঞাত পরিচয়ের ওই মৃতদেহটি জনৈক আলী মোল্লার (৩৪)। অবশ্য আলী মোল্লার বিস্তারিত পরিচয় ওই বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়নি।

র‌্যাব জানায়, ফিরোজ ও মমরেজ নিহত আলী মোল্লার কাছ থেকে টাকা পেত। পাশাপাশি মমরেজের বোনের আগের ঘরের মেয়ের সাথে আলী মোল্লার অবৈধ সম্পর্ক ছিল। আলী মোল্লা তাঁর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করেছিলো। এসব কারণে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব জানায়, গত ৩০ ডিসেম্বর ফিরোজ, তাঁর শ্যালক মমরেজ ও আলী মোল্লা একসঙ্গে একটি ট্রাকে করে গাজীপুরের উলুখোলায় গিয়েছিল। এরপর বিভিন্নস্থানে ট্রাকে মালামাল লোড-আনলোড করে পরেরদিন রাতে ফেরার সময় তারা একসাথে মদ পান করে। এসময় আলী মোল্লাকে মদের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেয়।
এতে একপর্যায়ে আলী মোল্লা বমি করে অচেতন হয়ে যায়।

এরপর তারা ঢাকার যাত্রাবাড়িতে পৌঁছে আলীর হাত-পা বেঁধে ফেলে। তবে কিছুক্ষণ পর চেতনা ফিরে এলে সে হাত-পা বাঁধার কারণ জানতে চায়। এসময় স্কচটেপ দিয়ে তাঁর মুখ আটকে তারা আলী মোল্লার ওপর বসে হাতুড়ি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে। রাত আনুমানিক ৪টার দিকে নগরকান্দায় নারায়ণখালীতে এসে ব্রিজের নিচে যেয়ে গলায় আঘাত করে ব্রিজের ঢালসংলগ্ন ডোবায় লাশ ফেলে পালিয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, গত ১ জানুয়ারি সকালে ফরিদপুর জেলার নগরকান্দার ডাঙ্গী ইউনিয়নের সোনাখোলা গ্রামে ফরিদপুর-ভাঙ্গা মহাসড়কের নারায়ণখালী ব্রিজের ঢালের ডোবা থেকে এক যুবকের মৃতদেহ দেখতে পেয়ে  স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে। ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।