বৈজ্ঞানিক নাম: Clerodendrum infortunatum.
বাংলাদেশের গ্রামবাংলার এক অতি পরিচিত বুনো ফুল।
এই ফুল এবং এর গাছ মূলত ভেষজ গুণাগুণের জন্য প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
এটি একটি গুল্মজাতীয় বহুবর্ষজীবী সপুষ্পক উদ্ভিদ। গাছটি সাধারণত ২ থেকে ৪ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়।
এর পাতা অনেকটা পানপাতার মতো ডিম্বাকৃতি এবং স্পর্শে খসখসে হয়।
ফুলগুলো সাদা রঙের হয় এবং এর মাঝখানে হালকা বেগুনি রঙের আভা থাকে। প্রতিটি ফুলে পাঁচটি করে পাপড়ি থাকে।
বসন্তকালে (ফেব্রুয়ারি-মার্চ) এই ফুল সবচেয়ে বেশি ফোটে এবং রাতে এর মিষ্টি সুবাস ছড়িয়ে পড়ে।
ভাঁটফুলের পাতা, ফুল এবং শিকড় বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে কার্যকরী ভূমিকা রাখে:
চর্মরোগ: ভাঁট পাতার রস নিয়মিত মাখলে চুলকানি এবং বিভিন্ন চর্মরোগ দ্রুত সেরে যায়।
কৃমি নাশক: পেটের কৃমি দূর করতে এই গাছের পাতার তিতা রস অত্যন্ত কার্যকর।
জ্বর ও বিষব্যথা: শিশুদের জ্বর এবং শরীর ব্যথা কমাতে এর পাতার রস ব্যবহার করা হয়। এছাড়া বিছার হুল বা বিষাক্ত পোকামাকড়ের কামড়ে এর রস আরাম দেয়।
অন্যান্য: এতে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড ক্যানসার দমনে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে বলে ধারণা করা হয়।
এটি কোনো যত্ন ছাড়াই সাধারণত রাস্তার ধারে, ঝোপঝাড়ে বা পরিত্যক্ত ভিটায় অযত্নে বেড়ে ওঠে। তবে বর্তমানে বনজঙ্গল কমে যাওয়ার কারণে এই উপকারী বুনো গাছটি প্রকৃতি থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।

