০৫:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
শ্রেষ্ঠ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হলেন ডা. নাদিম ছিলেন না নায়াব ইউসুফ, মিটিং কাভার করতে পারলেন না সাংবাদিকেরা “হাজী শরিয়তুল্লাহদের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৪৭ পাওয়ার কারণেই আমরা ৭১ পেয়েছি” একসাথে ৩ মেলার সমালোচনা : জবাবে যা বললেন নারী উদ্যোক্তা লুবাবা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সেই নেতারা এখন কে কোথায় নদীর নাম মালঞ্চ পেয়েছে সরকারি স্বীকৃতি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ‘ডিজিটাল ইভটিজিং’ ইস্যুতে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে তোলপাড় আমার মুর্শিদ হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ভাঙ্গায় পিকআপ-পরিবহন মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩০ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছে তেলবাহী তিনটি সুপার ট্যাংকার

ফরিদপুরে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ১৮টি ইজিবাইকসহ আন্তঃজেলা চোরচক্রের ১২ সদস্য গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১০:৩৮:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 89

ফরিদপুরে আন্তঃজেলা ইজিবাইক চোরচক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার ও ১৮টি চুরি হওয়া ইজিবাইকসহ বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ । ছবি- অগ্নিপ্রহর

ফরিদপুরে সংঘবদ্ধ ইজিবাইক চোর চক্রের ১২ সদস্য গ্রেপ্তার ও চুরি হওয়া ১৮টি ইজিবাইকসহ বিপুল যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মোজাম্মেল মণ্ডল, ইলিয়াস হোসেন, আবুল হোসেন মোল্লা, তানভীর শেখ, আওয়াল বিশ্বাস, বদিউজ্জামান মোল্লা, মৃদুল মীর মালোত, মিলন খান, আশরাফ, শহীদ সিকদার, জুয়েল রানা ও রনি মিয়া। তাদের বাড়ি ফরিদপুর, শরীয়তপুর, মাগুরা ও জামালপুরে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, জেলা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে আন্তঃজেলা এই চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়। এটি একটি পরিকল্পিত ও সুসংগঠিত চক্র। চুরি হওয়া ইজিবাইকের যাতে সনাক্ত করা না যায়, এজন্য তারা ইঞ্জিন ও চ্যাসিস নম্বর পর্যন্ত পাল্টে ফেলতো।

তিনি জানান, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শহরের কোর্টপাড়া জামে মসজিদের সামনে থেকে একটি ইজিবাইক চুরির ঘটনায় ভুক্তভোগী চালকের দায়ের করা মামলার তদন্ত শুরু করে ফরিদপুর কোতয়ালী থানা পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে আলাল ফকির নামে একজনকে আটক করা হয়। আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির পর বেরিয়ে আসে পুরো চক্রের নাম-পরিচয়। এরপর একে একে গ্রেপ্তার করা হয় অন্যদের।

অভিযানকালে কয়েকটি অচল ইজিবাইক সহ ১৮টি ইজিবাইক এবং ৪টি চ্যাসিস, ১টি কাটা বডির অংশ, ৭টি গ্লাস ফ্রেম, ৩টি কেবিন, ২টি মাঝের ও ২টি পিছনের  পার্টিশন, ২টি বাম্পার, ১টি সকেট জাম্পার, ১টি কাটার মেশিন ও খণ্ডিত যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়েছে। বোয়ালমারী, মধুখালী, নড়িয়া ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম জানান, এই চক্র নির্জন এলাকা টার্গেট করে ইজিবাইক চুরি করতো। তারা গোপন গ্যারেজে নিয়ে সেসব ইজিবাইকের চ্যাসিস, বডি, গ্লাস, কেবিন আলাদা করে ফেলতো এবং ইঞ্জিন ও চ্যাসিস নম্বর পাল্টে ভুয়া সিলযুক্ত প্যাডে নতুন নম্বর বসিয়ে দিতো এবং খণ্ডিত অংশ জোড়া দিয়ে সেগুলো কম দামে বিক্রি করতো। তিনি বলেন, “চক্রটির আরও সদস্য থাকতে পারে। অভিযান অব্যাহত আছে। অস্বাভাবিক কম দামে ইজিবাইক কিনবেন না; বৈধ কাগজপত্র যাচাই করুন।”

 

শেয়ার করুন

ফরিদপুরে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ১৮টি ইজিবাইকসহ আন্তঃজেলা চোরচক্রের ১২ সদস্য গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ১০:৩৮:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফরিদপুরে সংঘবদ্ধ ইজিবাইক চোর চক্রের ১২ সদস্য গ্রেপ্তার ও চুরি হওয়া ১৮টি ইজিবাইকসহ বিপুল যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মোজাম্মেল মণ্ডল, ইলিয়াস হোসেন, আবুল হোসেন মোল্লা, তানভীর শেখ, আওয়াল বিশ্বাস, বদিউজ্জামান মোল্লা, মৃদুল মীর মালোত, মিলন খান, আশরাফ, শহীদ সিকদার, জুয়েল রানা ও রনি মিয়া। তাদের বাড়ি ফরিদপুর, শরীয়তপুর, মাগুরা ও জামালপুরে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, জেলা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে আন্তঃজেলা এই চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়। এটি একটি পরিকল্পিত ও সুসংগঠিত চক্র। চুরি হওয়া ইজিবাইকের যাতে সনাক্ত করা না যায়, এজন্য তারা ইঞ্জিন ও চ্যাসিস নম্বর পর্যন্ত পাল্টে ফেলতো।

তিনি জানান, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শহরের কোর্টপাড়া জামে মসজিদের সামনে থেকে একটি ইজিবাইক চুরির ঘটনায় ভুক্তভোগী চালকের দায়ের করা মামলার তদন্ত শুরু করে ফরিদপুর কোতয়ালী থানা পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে আলাল ফকির নামে একজনকে আটক করা হয়। আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির পর বেরিয়ে আসে পুরো চক্রের নাম-পরিচয়। এরপর একে একে গ্রেপ্তার করা হয় অন্যদের।

অভিযানকালে কয়েকটি অচল ইজিবাইক সহ ১৮টি ইজিবাইক এবং ৪টি চ্যাসিস, ১টি কাটা বডির অংশ, ৭টি গ্লাস ফ্রেম, ৩টি কেবিন, ২টি মাঝের ও ২টি পিছনের  পার্টিশন, ২টি বাম্পার, ১টি সকেট জাম্পার, ১টি কাটার মেশিন ও খণ্ডিত যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়েছে। বোয়ালমারী, মধুখালী, নড়িয়া ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম জানান, এই চক্র নির্জন এলাকা টার্গেট করে ইজিবাইক চুরি করতো। তারা গোপন গ্যারেজে নিয়ে সেসব ইজিবাইকের চ্যাসিস, বডি, গ্লাস, কেবিন আলাদা করে ফেলতো এবং ইঞ্জিন ও চ্যাসিস নম্বর পাল্টে ভুয়া সিলযুক্ত প্যাডে নতুন নম্বর বসিয়ে দিতো এবং খণ্ডিত অংশ জোড়া দিয়ে সেগুলো কম দামে বিক্রি করতো। তিনি বলেন, “চক্রটির আরও সদস্য থাকতে পারে। অভিযান অব্যাহত আছে। অস্বাভাবিক কম দামে ইজিবাইক কিনবেন না; বৈধ কাগজপত্র যাচাই করুন।”