মন্ত্রিসভায় ফরিদপুরের শামা ওবায়েদ : প্রতীক্ষা এখন নায়াব ও বাবুলের মূল্যায়ন
- আপডেট সময় : ১০:৫৬:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 33
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনালগ্নে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ফরিদপুর থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিনের কাছে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ পাঠ করেন তিনি।
ত্রয়োদশ মন্ত্রীসভায় তাঁর এই অর্ন্তভুক্তির মধ্য দিয়ে ফরিদপুরবাসীর দীর্ঘদিনের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা এবং শামা ওবায়েদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক ভিত্তি তৈরি হলো।
একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী শামা ওবায়েদ ইসলাম বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ প্রয়াত কে এম ওবায়েদুর রহমানের কন্যা। রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তাঁর বেড়ে ওঠা। গত দুই দশকে তিনি রাজপথে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নিজের মেধা ও সাহসিকতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে দলের অবস্থান তুলে ধরতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। তাঁর এই মন্ত্রিত্ব লাভকে তাই ‘যোগ্যতার স্বীকৃতি’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফরিদপুরবাসীর কাছে অগ্রাধিকার পাচ্ছে যেসব বিষয়: ফরিদপুর জেলার চারটি সংসদীয় আসনে এবারের নির্বাচনে ফরিদপুর-২ থেকে শামা ওবায়েদ ইসলাম ছাড়াও নির্বাচিত হয়েছেন আরো দু’জন গুরুত্বপূর্ণ সংসদ সদস্য। এদের একজন জেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ ফরিদপুর-৩ আসনে মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ এবং ফরিদপুর-৪ আসনে কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল।
চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের জ্যেষ্ঠ কন্যা। যিনি একই আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পিতার মৃত্যুর পরে নায়াব ইউসুফ এই আসনের হাল ধরেন এবং প্রথমবারেই সফল হন। তাঁর দাদা ইউসুফ আলী চৌধুরী মোহন মিয়া এবং চাচা চৌধুরী আবদআল্লাহ জহিরউদ্দিন লাল মিয়া ছিলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ। ২০০৮ সালের পর অনুষ্ঠিত একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনে তিনি পিতার আসনটি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন। জেলা শহরের আসন হওয়ায় তার রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিএনপির রাজনীতির উপরে প্রভাব ফেলবে। যেটি নায়াব ইউসুফ এরই মধ্যে তাঁর কর্মীদের সামনেও তুলে ধরে বলেছেন, ফরিদপুরে তাঁকে দুর্বল করা মানে বিএনপিকে দুর্বল করা। তাই এখানে বিএনপির দুর্গ মজবুত রাখতে হলে ময়েজমঞ্জিলের এই উত্তরসূরীকে মূল্যায়ন করা দরকার বলে মনে করছেন তাঁর অনুসারীরা।
এছাড়া ফরিদপুর-৪ আসন থেকে এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে অসম্ভবকে বাস্তবায়ন করেছেন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল। তিনি ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন। বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহিদুল ইসলাম বাবুল রাজপথে স্মরণীয় অবদান রেখেছেন। বিশেষ করে কৃষক দলকে পুনর্গঠন করার ক্ষেত্রে তিনি অসামান্য অবদান রেখে বিএনপির এই সহযোগী সংগঠনকে সামনের সারিতে নিয়ে এসেছেন। এবারের নির্বাচনেও তিনি দুর্দান্ত সাফল্য দেখিয়েছেন। বিশেষ করে ফরিদপুর-৪ আসনটি ছিলো গত ত্রিশ বছর যাবত আওয়ামী লীগের কোটরবন্দি। এবারের নির্বাচনের আগেও এই আসনের সাবেক এমপি নেপথ্যে থেকে নানাভাবে তৎপরতা চালিয়ে, টাকা পয়সা খরচ করে বাবুলকে পরাজিত করতে মরিয়া ছিলেন। তবে ভোট গণনা শেষে ফলাফল দেখে আবারো শহিদুল ইসলাম বাবুলের রাজনৈতিক মেধার পরিচয় পেলো সবাই। ক্ষমতাসীন দলের এই সদ্য দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃত্বগণ ফরিদপুরের জনমানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন বলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সংসদীয় সরকারের নির্বাচিত জন প্রতিনিধিগণ নির্বাচনের আগে ফরিদপুরবাসীকে একটি আধুনিক ও স্বনির্ভর জেলার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। শামা ওবায়েদের অঙ্গীকার ছিলো, “ফরিদপুরকে কেবল একটি বিভাগীয় শহর নয়, বরং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আধুনিক ‘আইটি হাব’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। ’’
বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার উন্মোচণ করতে পারে। ফরিদপুর শহরে একটি অত্যাধুনিক হাই-টেক পার্ক এবং প্রতিটি উপজেলায় ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা হলে প্রযুক্তিনির্ভর কাজের মাধ্যমে ফরিদপুরের হাজার হাজার শিক্ষিত বেকার যুবকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব। যা কেবল দেশীয় নয়, বরং বৈশ্বিক বাজারেও তাদের প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।
ফরিদপুরের প্রধান অর্থকরী ফসল পাট ও পেঁয়াজ চাষিরা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্মের শিকার। সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য কিনে তা প্রক্রিয়াজাত করার জন্য আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ ও টেক্সটাইল মিল স্থাপন করে কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নের ব্যবস্থা করা দরকার। স্থানীয়দের আকাঙ্ক্ষা—ফরিদপুর হবে দেশের প্রধান ‘অ্যাগ্রো-প্রসেসিং’ কেন্দ্র।
জনস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে ফরিদপুরের ফসলি জমিকে তামাকমুক্ত করে সেখানে উচ্চফলনশীল ও পুষ্টিকর খাদ্যশস্য উৎপাদন করা জরুরি।পাশাপাশি পদ্মা ও মধুমতী নদীর করাল গ্রাস থেকে এ অঞ্চলের জনপদকে রক্ষা করতে টেকসই ও আধুনিক নদী শাসন বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। ফরিদপুর শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করে শহরকে জলাবদ্ধতামুক্ত ও বাসযোগ্য করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে নতুন সরকারের দেশ গড়ার পরিকল্পনার অন্যতম অগ্রাধিকার।










