০৯:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
একটি আদর্শবান জাতি ফরিদপুরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন মুম্বাই বিমানবন্দরে ১২ কোটি রুপির মাদকসহ সাবেক ‘মিসেস কেরালা’ প্রতিযোগী গ্রেপ্তার সকলকে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকতে হবে -পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আগ্রহের কেন্দ্রে ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির নির্বাচন বিশ্বকাপে প্রথম খেলায় চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে কোরিয়ার জয় প্রতারক সন্দেহে খাসি ব্যবসায়ীকে বাড়িতে ডেকে মহিলাদের নির্যাতন, টাকা লুটের অভিযোগ লাল কার্ডের রেকর্ডেও উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের ধারায় মেক্সিকো দাঙ্গা আর মামলার ঝক্কি এড়িয়ে শান্তি ফিরবে কি অশান্ত সালথায়? নীরব ঘাতক ‘ফ্যাটি লিভার’: সচেতনতাই সুস্থ লিভারের চাবিকাঠি
প্রতিদিন লাখ টাকা লোকসান গুনছেন ইজারাদার ও ব্যবসায়ীরা

নাব্যতা সংকটে ফরিদপুর নৌবন্দরে পণ্য খালাস ব্যাহত : রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:১৬:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 70

পদ্মা নদীর তলদেশে অসংখ্য ডুবোচর জেগে ওঠায় অচল হয়ে পড়েছে দক্ষিণবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ ফরিদপুর সিঅ্যান্ডবি ঘাট নৌবন্দর। গত তিন মাস ধরে পণ্যবাহী জাহাজ ও কার্গো ভিড়তে না পারায় একদিকে যেমন কয়েক হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন, অন্যদিকে প্রতিদিন লাখ টাকা লোকসান গুনছেন ইজারাদার ও ব্যবসায়ীরা। সরকারও হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।

পদ্মা নদীর নাব্যতা সংকটে গত তিন মাস ধরে অচল হয়ে পড়েছে দক্ষিণবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র ফরিদপুর সিঅ্যান্ডবি (C&B) ঘাট নৌবন্দর। নদীর তলদেশে অসংখ্য ডুবোচর জেগে ওঠায় পণ্যবাহী জাহাজ, কার্গো ও বড় ট্রলার ঘাটে ভিড়তে পারছে না। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম, আর কর্মহীন হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার শ্রমিক।

নাব্যতার অভাবে বড় জাহাজগুলো বন্দর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে মাঝনদীতে নোঙর করে রাখতে হচ্ছে। সেখান থেকে ছোট ট্রলারে করে পণ্য খালাস করতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত খরচ ও সময় অপচয় হচ্ছে। এছাড়া অরক্ষিত স্থানে জাহাজ রাখায় বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা।

বর্ষা মৌসুমে এই বন্দরে দৈনিক ৪ থেকে ৫ কোটি টাকার পণ্য লেনদেন হলেও বর্তমানে তা শূন্যের কোঠায়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই বন্দর থেকে ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিল। বর্তমান অর্থবছরে বিআইডব্লিউটিএ ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকায় বন্দরটি ইজারা দিলেও কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সরকার বড় অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে।

ইজারাদার মজিবুর রহমান জানান, জাহাজ না আসায় প্রতিদিন তাকে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। গত তিন মাসে ২৫ বার বিআইডব্লিউটিএ-কে লিখিত জানালেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

বন্দরের ওপর নির্ভরশীল কয়েক হাজার কুলি ও শ্রমিক বর্তমানে বেকার। শ্রমিক লালন ও নুরুল শেখ জানান, কাজ না থাকায় তারা পরিবারের খরচ ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অনেকের জমানো টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় ধারদেনা করে চলতে হচ্ছে।

২০১৭ সালে নৌবন্দর হিসেবে স্বীকৃতি পায় সিঅ্যান্ডবি ঘাট।  চট্টগ্রাম, মোংলা, সিলেট ও নারায়ণগঞ্জের সাথে নদী পথে সরাসরি বাণিজ্যিক সংযোগ রয়েছে। এখান থেকেই ফরিদপুরের পাট বিদেশে রপ্তানির জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠানো হয়। এছাড়া সিলেট থেকে কয়লা-বালু এবং নারায়ণগঞ্জ থেকে সিমেন্ট আসার প্রধান রুট এটি।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ কামরুল হাসান মোল্লা জানান, নাব্যতা সংকটের কারণে আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, বিআইডব্লিউটিএ দ্রুতই ডুবোচরগুলো খনন (ড্রেজিং) করে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, দ্রুত ড্রেজিং শুরু না করলে এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরকারি রাজস্ব আদায়ে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ট্যাগ

শেয়ার করুন

প্রতিদিন লাখ টাকা লোকসান গুনছেন ইজারাদার ও ব্যবসায়ীরা

নাব্যতা সংকটে ফরিদপুর নৌবন্দরে পণ্য খালাস ব্যাহত : রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

আপডেট সময় : ০৯:১৬:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পদ্মা নদীর নাব্যতা সংকটে গত তিন মাস ধরে অচল হয়ে পড়েছে দক্ষিণবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র ফরিদপুর সিঅ্যান্ডবি (C&B) ঘাট নৌবন্দর। নদীর তলদেশে অসংখ্য ডুবোচর জেগে ওঠায় পণ্যবাহী জাহাজ, কার্গো ও বড় ট্রলার ঘাটে ভিড়তে পারছে না। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম, আর কর্মহীন হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার শ্রমিক।

নাব্যতার অভাবে বড় জাহাজগুলো বন্দর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে মাঝনদীতে নোঙর করে রাখতে হচ্ছে। সেখান থেকে ছোট ট্রলারে করে পণ্য খালাস করতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত খরচ ও সময় অপচয় হচ্ছে। এছাড়া অরক্ষিত স্থানে জাহাজ রাখায় বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা।

বর্ষা মৌসুমে এই বন্দরে দৈনিক ৪ থেকে ৫ কোটি টাকার পণ্য লেনদেন হলেও বর্তমানে তা শূন্যের কোঠায়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই বন্দর থেকে ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিল। বর্তমান অর্থবছরে বিআইডব্লিউটিএ ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকায় বন্দরটি ইজারা দিলেও কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সরকার বড় অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে।

ইজারাদার মজিবুর রহমান জানান, জাহাজ না আসায় প্রতিদিন তাকে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। গত তিন মাসে ২৫ বার বিআইডব্লিউটিএ-কে লিখিত জানালেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

বন্দরের ওপর নির্ভরশীল কয়েক হাজার কুলি ও শ্রমিক বর্তমানে বেকার। শ্রমিক লালন ও নুরুল শেখ জানান, কাজ না থাকায় তারা পরিবারের খরচ ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অনেকের জমানো টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় ধারদেনা করে চলতে হচ্ছে।

২০১৭ সালে নৌবন্দর হিসেবে স্বীকৃতি পায় সিঅ্যান্ডবি ঘাট।  চট্টগ্রাম, মোংলা, সিলেট ও নারায়ণগঞ্জের সাথে নদী পথে সরাসরি বাণিজ্যিক সংযোগ রয়েছে। এখান থেকেই ফরিদপুরের পাট বিদেশে রপ্তানির জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠানো হয়। এছাড়া সিলেট থেকে কয়লা-বালু এবং নারায়ণগঞ্জ থেকে সিমেন্ট আসার প্রধান রুট এটি।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ কামরুল হাসান মোল্লা জানান, নাব্যতা সংকটের কারণে আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, বিআইডব্লিউটিএ দ্রুতই ডুবোচরগুলো খনন (ড্রেজিং) করে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, দ্রুত ড্রেজিং শুরু না করলে এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরকারি রাজস্ব আদায়ে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।